মেহেরপুরে গ্রামীণ শোভা বাড়িয়েছে বাবুই পাখি
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৪:০০
এক সময় গ্রামের তালগাছ, নারকেল ও খেজুর গাছে সুনিপুণ কারিগরের মতো বাসা বেঁধে বাস করত বাবুই পাখি। দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার সুদর্শন বাসা। বাবুই পাখির বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই নয়, মানুষের মনে চিন্তার খোরাকও জোগায়। কিন্তু কালের বিবর্তনে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আজ এই পাখি হারাতে বসেছে। প্রকৃতি থেকে তালগাছ, নারকেল আর খেজুর গাছ কমতে থাকায় শিল্পীখ্যাত বাবুই পাখিও হারিয়ে যেতে বসেছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দু-একটি গ্রামে এখন বাবুর পাখির দেখা মেলে। এর মধ্যে কয়েক বছর ধরে গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ির উঠানে উঁচু নারকেল গাছ ও তাল গাছে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে বাবুই পাখি। ভাটপাড়া গ্রামের আরিফুলের বাড়ির একটি নারকেল গাছে অর্ধশত বাসা বুনেছে বাবুই পাখি। আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি তিন বছর যাবত এই পাখি দেখাশোনা করেন। নারকেল গাছের পাতার ডগায় এদের বসবাস। কেউ যেন অত্যাচার না করে সেদিকেও নজর রাখেন তিনি।
স্থানীয় স্কুল ছাত্রী নুসরাত জামান ইশিতা জানায়, সোনালী ও সবুজ রঙ্গের এ বাবুই পাখির কিচির মিচির ডাক শোনা যেত সন্ধ্যা ও সকালে। এ পাখি যেমন শিল্পী, তেমন ঘুম জাগানিয়া। চমৎকার শৈল্পিক সুরে মানুষের ঘুম ভাঙায় বাবুই পাখি।
কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, এখন নেই কোনো বড় তালগাছ ও নারকেল গাছ। বাসা বাঁধার জায়গা না থাকায় এই পাখি বংশবৃদ্ধি করতে পারেনি। এলাকা থেকে বিদায় নিয়েছে। পরিবেশ ও পাখি সংরক্ষণের জন্য তাল ও নারকেল গাছ রোপণ জরুরি।
মেহেরপুর বার্ডক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক মানিক বলেন, প্রকৃতির ইঞ্জিনিয়ার বলা হয় বাবুই পাখিকে। এক সময় এর অবাধ বিচরণ থাকলেও এখন আর চোখে পড়ে না। বাবুই পাখি প্রকৃতির এক সুন্দর নিদর্শন। নারকেল ও তালগাছই একমাত্র এদের আবাসস্থল। বাবুই পাখি রক্ষায় নারকেল ও তাল গাছ রোপণ বৃদ্ধি এবং কাটা বন্ধ করতে পারলে হারিয়ে যাওয়া বাবুই পাখির অবাধ বিচরণভূমি হবে মেহেরপুর জেলা।
গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রিনা আকতার জানান, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও বাবুই পাখির বংশ বিস্তারে তালগাছ, খেজুর ও নারকেল গাছ রোপণের বিকল্প নেই। যত্রতত্র কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করাসহ স মিলগুলোতে অভিযান চালিয়ে তালগাছ, নারকেল গাছ ফাড়া বন্ধ করতে হবে।
ইউডি/অনিক

