নীলফামারীতে শিক্ষার্থী ফেরাতে শিক্ষকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৪:১০
বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের দুই পাশে ফুলের গাছ, আঙিনায় নানা ধরনের খেলার সরঞ্জাম, বিভিন্ন ফুল-ফলের গাছ। মনোরম এমন পরিবেশে পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ পেয়ে বিদ্যালয়বিমুখ শিক্ষার্থীরা হয়েছে বিদ্যালয়মুখী। এতে বেড়েছে উপস্থিতি ও পড়াশোনার চাহিদা। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম সাউথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। এতে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পেরে খুশি অভিভাবকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে নানা জাতের ফুল গাছের মাধ্যমে করা হয়েছে সৌন্দর্যবর্ধন। তারই মাঝে বসানো হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম। ক্লাসের বিরতিতে ছাত্র-ছাত্রীরা স্লিপার থেকে পিছলে পড়ছে, কেউবা দোলনায় দোল খাচ্ছে, আবার কেউ ব্যালেন্সিং যন্ত্রে ওঠানামা করছে বিদ্যালয়ে মাঠে স্থাপন করা দোলনা, স্লিপার, ব্যালান্সিং, ল্যাডার কিংবা অন্যান্য খেলনা সামগ্রীতে।
প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এই স্কুলে আমি যখন ২০১৬ সালে জয়েন করি। তখন লক্ষ করেছিলাম যে বিদ্যালয়ের ভেতরে ধু-ধু মরুভূমির মতো একটা মাঠ। এখানে যদি শিশুসুলভ একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারি, তাহলে শিক্ষার পরিবেশ বাড়বে। এ নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মিটিং করে বাগানের দিকে ছোট ছোট গাছ লাগানো শুরু করি। একটা-দুইটা করে করে ২০২২ সালে এসে ইনশা আল্লাহ আমার বিদ্যালয় ফুলে ফুলে ভরে গেছে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রাইদা বলেছে, আমি আগে নীলফামারী শহরের একটি স্কুলে পড়তাম। বাবার চাকরির সুবাধে এই স্কুলে ভর্তি হয়েছি। আমার আগের স্কুলের থেকে এই স্কুলের পরিবেশ অনেক ভালো। আমার অনেক ভালো লাগে এই স্কুলে আসতে। টিফিনের সময় আমি দোলনা, স্লিপারে খেলি, বন্ধুদের সঙ্গে মজা করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাকালে আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকার কারণে তারা পিছিয়ে গেছে। তাদের স্কুলমুখী করার জন্য প্রধান শিক্ষক মাঠে শোভাবর্ধন ও খেলাধুলার সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন, এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ, মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করছে এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করার জন্য অন্য স্কুলগুলোয় উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
ইউডি/অনিক

