২১ আগস্ট: আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও এগিয়ে চলা

২১ আগস্ট: আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও এগিয়ে চলা

সাইফুল অনিক । রবিবার, ২১ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৩:১০

পৃথিবীতে কোন কোন দিন আসে সূর্যের প্রখর তীব্রতা নিয়ে, কোন কোন দিন অমাবস্যার রাতের চেয়েও অন্ধকারময়। বাঙালী জাতির ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন আজানের ধ্বনি ভেসে আসছিল, ঠিক তেমনি এক ভোরে ইতিহাসের কালপুরুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক, কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য। এই হত্যাকাণ্ড স্তব্ধ করে দেয় বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অর্জিত আমাদের রক্তস্রত স্বাধীনতাকে। জাতির জনককে হত্যা করা হবে একথা বঙ্গবন্ধুপ্রেমী বিশ্বনেতৃত্বও কোনদিন বিশ্বাস করতে পারেনি। দেশের সাধারণ মানুষও তো একথা কোনদিন কল্পনাও করেনি। করার কথাও নয়।

কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির ক্রমাগত আক্রমণ বার-বার স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছে বাঙালী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমতাভিত্তিক সমাজের অগ্রগতির ধারাকে। এই জঘন্য অপশক্তি ২০০১ সালে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। শুরু হয় রাজনীতির নতুন মেরুকরণ। ফের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। রক্তাক্ত হতে শুরু করল বাংলাদেশ। নতুন করে আমাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ। শুধু নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার কারণে ধর্ষিত হয়েছে শত শত তরুণী। হাজার হাজার ঘরবাড়ি আক্রান্ত হয় ঐ খুনীদের আক্রমণে। বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের ওপর চলে নির্মম অত্যাচার। বিএনপি-জামায়াত জোটের হত্যা আর অপরাধের ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী এক মিছিলপূর্ব-সমাবেশ আহ্বান করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরিত হতে থাকে। এই গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান আইভী রহমানসহ চব্বিশ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায় শত শত নেতাকর্মী। এখনও আমাদের বহু জাতীয় নেতা গ্রেনেডের স্প্রিন্টার শরীরে নিয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এই গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে হামলাকারীরা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃত্বকে। আমরা একটু অতীতের দিকে ফিরে যাই, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে কার্যকরী ছিল আইএসআই ও সিআইএ। তাদের ক্রীড়নক ছিল খুনী ডালিম, ফারুক, রশীদচক্র ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে মীর জাফর খুনী মোশতাকের চক্র। কিন্তু এ কথা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, জিয়াউর রহমান ছিল বঙ্গবন্ধু খুনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদদাতা। ঠিক এমনিভাবে এ কথাও অনস্বীকার্য যে, হাওয়া ভবনের অধীশ্বর তারেক রহমান ছিল একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মূল মদদদাতা। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত চক্র ক্ষমতাসীন হওয়ার পর জিয়াপুত্র তারেক রহমান বিকল্প ক্ষমতা কেন্দ্র গড়ে তোলে ঐ হাওয়া ভবনে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, সেনা গোয়েন্দা সংস্থার কতিপয় শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই তাজউদ্দীন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জেএমবির ঘাতকরা।

খুনীরা চেয়েছিল নির্বিঘ্নে এই হত্যাকাণ্ড সম্পাদন করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে জননেত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে যাওয়ায় খুনীদের সেই দুরাশা পূরণ হয়নি। অনেক আন্দোলন সংগ্রাম ও নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজ জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের ধারায়। চালকের আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। যে দলটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাঙালী জাতির ভাগ্যের উন্নয়ন সাধন করা। জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। পলাতকদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করার চেষ্টা অব্যাহত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে ও রায় কার্যকর হচ্ছে। ঠিক তেমনিভাবে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানসহ অপর আসামিদের বিচার কার্যক্রম চলছে। আজ এই শোকের দিনে আমরা পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ যারা সেই দিন প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, যারা পঙ্গু ও আহত অবস্থায় অপরিসীম কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তালেবানদের ক্ষমতায় আসা, করোনামহামারি সব মিলিয়ে এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে নতুন পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হইলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা চিন্তা বা ২১ আগস্টের শহীদদের আত্মদানের কথা চিন্তা করি তাহলে আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে হবে আগামীর ভবিষ্যত নিয়ে, আগামীর পৃথিবী নিয়ে। শুধু দেশ নয় আমাদের সামনের দিকেও চিন্তা করতে হবে। তাই এবারের ২১ আগস্ট সবাই আমরা চিন্তা করি মুজিববর্ষে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিন্তা করেছিলেন একটা শোষণ মুক্ত সমাজের লড়াই সেই শোষণ মুক্ত সমাজের দিকে যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading