রাজধানীতে নয়া কৌশলে বেড়েছে ছিনতাই

রাজধানীতে নয়া কৌশলে বেড়েছে ছিনতাই
উত্তরদক্ষিণ । ২২ আগস্ট ২০২২

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২২ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৩:৪০

বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপ্রবণ এলাকা রাজধানী ঢাকা। লিখিত হোক কিংবা অলিখিত হোক না কেনো ঢাকায় বসবাসরত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ছুঁইছুঁই। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা দিতে কাজ করছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে আতঙ্কের এক নাম ছিনতাই। বিভিন্ন চক্রের সদস্যরা নয়া কৌশল অবলম্বন করে ছিনতাইয়ের মাত্রা বাড়িয়েছে বহুগুণে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এই বিষয়ে সর্বোচ্চ দৃষ্টি দিচ্ছে। বিস্তারিত লিখেছেন সাদিত কবির

রাজধানীতে বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ পরিশ্রমটুকুই দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতীতের তুলনায় তাই চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা এ ধরণের অপকর্মের ঘটনা নেই বললেই চলে। কিন্তু অতি সম্প্রতি বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। রাজধানীর বিশেষ বিশেষ এলাকাকে চিহ্নিত করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে বেশ কিছু চক্র। তাদের অধিকাংশই মাদক সেবনকারী এবং তারা বারবার গ্রেপ্তার হয়েও একই অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। রবিবার র‌্যাব এ ধরণেরই এক চক্রের ৩৭ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে ছিনতাইয়ের জন্য তারা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। ছিনতাইকারীরা সাধারণ মানুষকে বিষাক্ত পানীয় সেবন করায়, বিষাক্ত স্প্রের ঘ্রাণে অজ্ঞান হয়ে পড়া যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে যান ছিনতাইকারীরা। তবে সবচেয়ে আতঙ্কের কারন হয়ে উঠছে-প্রায়ই ছিনতাইকারীদের হাতে মারাত্মক আহত হচ্ছে পথচারীরা। তারা ছিনতাইয়ের সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিরীহ পথচারীকে আঘাত করতেও দ্বিধা করছে না। এমনকি ছিনতাইয়ে এখন আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার হচ্ছে। যাতে করে ছিনতাইকারীদের হাতে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য শঙ্কা ও আতঙ্কের।

একই অপরাধে বারবার জড়ায় ওরা : রাজধানীর চারটি এলাকা থেকে এক রাতেই অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাই চক্রের ৩৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব। তাদের বিষয়ে জানাতে বাহিনীটির পক্ষ থেকে করা সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে ছিনতাইকারী চক্র ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। রাজধানীর শাহজাহানপুর, মতিঝিল, মুগদা ও তেজগাঁও থেকে অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের ওই ৩৭ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। যাদেরকে ধরা হয়েছে তাদের মধ্যে ১৭ জন একই অপরাধে আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিল বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি। বলা হয়েছে, তাদেরকে স্বজন বা অন্যরা ছাড়িয়ে আনার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই অপরাধে লিপ্ত হয়। তাদের কাছ থেকে বিষাক্ত মলম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, র‌্যাব-৩ এর একটি দল শনিবার রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুর, মতিঝিল, মুগদা ও তেজগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে করে ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন, মিজানুর রহমান (২১), মো. সোহেল (২০), মাসুদ রানা (২১), সাব্বির (২২), আবু বকর সিদ্দিক (২২), শাকিল (২০), নাঈম মোল্লা (২০), মো. সালমান (২৬), জালাল হোসেন (২১), মো. শাওন (২২), শহিদুল ইসলাম (৪০), মো. রফিক (৩৩), আজিজুর (৩৬), সৈকত মন্ডল (১৯), আরিফ গাজী (২৬), মো. জনি (১৮), মো. রুবেল (২৮), মো. আফজল (১৮), দ্বীন ইসলাম (২৩), মো. তুহিন (১৮), রবিউল আউয়াল হƒদয় (২২), আরমান (২২), সানোয়ার হোসেন (৩১), মো. রুবেল (৩৪), মো. সোহেল (৩৫), মো. শান্ত (২৫), মো. আজাদ (৩৫), মো. আকাশ (২২), নাইম খান (১৬), আপন মিয়া (২০), নাজমুল হোসেন (২৮), মাসুম মিয়া (২৮), মো. শান্ত (২০), সোহেল মাতব্বর (২৩), হৃদয় (১৯), সোহরাব (১৯) ও ইয়াছিন ব্যাপারী (২২)। গ্রেপ্তারকালে তাদের নিকট থেকে ১২টি মোবাইলফোন, তিনটি সুইচ গিয়ার, তিনটি অ্যান্টি কাটার, ১২টি ব্লেড, একটি কাঁচি, ছয়টি চাকু, তিনটি ক্ষুর, সাতটি বিষাক্ত মলমের কৌটা, দুটি বিষাক্ত স্প্রে এবং নগদ আট হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

বাসস্ট্যান্ড-রেলস্টেশনে বিচরণ, টার্গেট সাধারণ যাত্রী : র‌্যাব-৩ সিও লে. কর্নেল আরিফ বলেন, গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারী সদস্যরা ঘোরাফেরা করতে থাকেন। সহজ সরল যাত্রীদের টার্গেট করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং বিষাক্ত চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। বিষাক্ত পানীয় সেবন করার ফলে বা বিষাক্ত স্প্রের ঘ্রাণে অজ্ঞান হয়ে পড়া যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে যান ছিনতাইকারীরা। এ ছাড়া কখনো ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের চোখে-মুখে বিষাক্ত মলম বা মরিচের গুঁড়া বা বিষাক্ত স্প্রে করে সর্বস্ব কেড়ে নেন।
অনেক সময়ে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। তারা স্বজনদের খোঁজে দিশাহারা হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। ভুক্তভোগীরা ছিনতাইকারী সদস্যদের খুব কম ক্ষেত্রেই শনাক্ত করতে পারেন। র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন অলি-গলিতে ওত পেতে থাকে। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারা পথচারী, রিকশা আরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে সর্বস্ব লুটে নেয়। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাদের ছিনতাইকাজে বাধা দিলে তারা নিরীহ পথচারীদের আঘাত করতেও দ্বিধা বোধ করে না।

যেসব এলাকায় ছিনতাইকারীর তৎপরতা বেশি: র‌্যাব জানায়, খিলগাঁও মালিবাগ রেলগেট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালভার্ট রোড, হাতিরঝিলের নাসিরের টেক, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, পল্টন মোড়ের ইউবিএল ক্রসিং, গোলাপশাহ মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গনি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি দেখা যায়।

রবিবার র‌্যাব এক চক্রের ৩৭ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে

ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় না নেওয়ায় অপরাধ বাড়ছে: র‌্যাব বলছে ভুক্তভোগীর বেশিরভাগই কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেন না। এ কারণে সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। র‌্যাব জানায় রাজধানীতে মাসে প্রায় ৩৫টি ছিনতাইসহ মলমপার্টি ও অজ্ঞানপার্টির ঘটনা ঘটে। রাজধানীতে ২০০ স্পটে ৫০টি চক্রের ২০০ সদস্য ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত। চক্রের সদস্যরা ছিনতাইয়ের সময় বাধা পেলে মরণাঘাত করতেও পিছপা হয় না। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। এসব ঘটনায় ৪১টি মামলা হয়েছে।

ছিনতাইকারীদের নয়া কৌশল : রাজধানীর লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন এলাকায় অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা ঘোরাফেরা করে। তারপর সহজ সরল যাত্রীদের টার্গেট করে কখনও তাদেরকে ডাব, কোমল পানীয় কিংবা পানির সাথে বিষাক্ত চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। আবার কখনও যাত্রীবেশে লঞ্চ, বাস ও ট্রেনে চড়ে যাত্রীদের পাশে বসে তাদের নাকের কাছে চেতনানাশক ঔষধে ভেজানো রুমাল দিয়ে যাত্রীদের অজ্ঞান করে থাকে। বিষাক্ত পানীয় সেবন করার, বিষাক্ত স্প্রের ঘ্রাণ নেওয়ার পর যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। এছাড়াও কখনও ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের চোখে-মূখে বিষাক্ত মলম বা মরিচের গুড়া বা বিষাক্ত স্প্রে করে যাত্রীদের যন্ত্রণায় কাতর করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। এরপর কোন সহৃদয় ব্যক্তি অজ্ঞান ও অসুস্থ যাত্রীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। চেতনানাশকের পরিমাণ বেশী হলে ওই ভুক্তভোগীর জ্ঞান ফিরতে ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত লেগে থাকে। অজ্ঞানপার্টির শিকার ব্যক্তি শারিরীকভাবে দুর্বল ও বয়স্ক হলে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর চোখে-মূখে বিষাক্ত মলম লাগানোর ফলে তার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারানোর সম্ভাবনা থাকে। অজ্ঞানপার্টির শিকার ভূক্তভোগীর চেতনা না থাকায় তিনি পরিবারের সাথে জ্ঞান ফেরার পূর্ব পর্যন্ত যোগাযোগ করতে পারেন না।

মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নেপথ্যের কারন : অপরাধ কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, দীর্ঘদিন করোনা মহামারির কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের সমাগম কম ছিল। তখন অপরাধ প্রবণতাও ছিল কম। এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। রাজধানীর কর্মব্যস্ত মানুষ ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তায় চলাচল করছে। এই সুযোগে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে। কর্মহীন ছিন্নমূল কিছু মানুষও চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধকে বেছে নিচ্ছে জীবিকার তাগিদে। আবার মাদকাসক্তরা নেশাদ্রব্য কেনার টাকার জন্য চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতার মতো অপরাধে জড়াচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার ফারজানা রহমান এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ছিনতাই, চুরি, দস্যুতাসহ অন্তত ৫ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ-করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। এ সময়ে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে। পণ্যের মূল্য ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় নানারকম চাপে সমাজের একশ্রেণির মানুষ নতুন করে অপরাধে জড়াচ্ছে।

উত্তরদক্ষিণ । ২২ আগস্ট ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর হওয়া জরুরি: একটি পরিসংখ্যান বলছে, ছিনতাইয়ের অভিযোগে যেসব মামলা হয়, সেসব মামলায় ৮৫ শতাংশ ছিনতাইকারীর শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। বিশ্লেষকরা বরছেন, তাই অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে অপরাধ কমবে না। দিন-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়া রীতিমতো উদ্বেগজনক। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের আরও কঠোর হতে হবে। যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা। বাড়াতে হবে পুলিশের নজরদারি ও টহল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিক হলে অপরাধের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোও সম্ভব। ছিনতাইয়ের এ প্রবণতার নেপথ্যে অন্যতম দুর্বলতা হিসেবে কাজ করছে, শাস্তি অপ্রতুল ও জামিনযোগ্য হওয়া। জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি করাসহ কঠোর আইন প্রণয়ন ও সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে এ অপরাধ কমতে পারে।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading