তীব্র যানজটে স্থবির ঢাকা: ভোগান্তির দ্রুত সমাধান চান কর্মীজীবী মানুষ

তীব্র যানজটে স্থবির ঢাকা: ভোগান্তির দ্রুত সমাধান চান কর্মীজীবী মানুষ

ওবায়দুর রহমান । বুধবার, ২৪ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১২:৩০

সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন রাজধানীতে যানজটের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস সকাল থেকে তীব্র যানজটের ফলে ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানীবাসী। বাসে ১০ মিনিটের পথ পার হতে লাগে ঘণ্টারও বেশি সময়। অফিসগামী যাত্রী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। রোববার রাজধানীর মতিঝিল, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, মহাখালী, রামপুরা ও বিমানবন্দর এলাকা রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়িসহ গণপরিবহণ খুবই ধীরগতিতে এগোচ্ছিল। একই স্থানে আটকে থাকে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত। রাজধানীতে যানজটের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ পরিস্থিতি থেকে যেন নগরবাসীর মুক্তি নেই। রাজধানী ঢাকার নাগরিকদের সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা ও বিরক্তির কারণ যানজট। একদিকে উন্নয়নের কাজ চলছে, অন্যদিকে রাস্তায় চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এই দুয়ে মিলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি বাদ দিয়ে বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ঢাকার যানজটে। এ ক্ষতি দেশের জাতীয় বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। ঢাকা শহরে যানজটের কারণে বছরে জিডিপির সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাথাপিছু আয়ের ক্ষতি হচ্ছে মাইনাস ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।অতিমাত্রার যানজটের পেছনে অনিয়ন্ত্রিত ছোট ছোট যানকেও দায়ী করা যায়। সড়কের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন আপদ হিসেবে দাঁড়িয়েছে মোটর সাইকেল। আমাদের এখনই উচিত এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা। ২০৩০ সালের দিকে সড়কে যানবাহনের গতি মানুষের হাঁটার গতির চেয়েও কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজধানীতে আবারো শুরু হয়েছে তীব্র গরম। তীব্র গরমের সাথে দীর্ঘ যানজটের কারণে নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বাসে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের পথ পার হতে লেগেছে দুই ঘণ্টার বেশি সময়। অফিসগামী যাত্রী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। এরফলে গরম আর যানজটের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। সকাল থেকে নগরীর সড়কগুলোয় অসহনীয় যানজট। প্রচণ্ড গরম এবং যানজটের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এভাবে এ নগরীতে টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ছে। রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও এক সিগনালেই আটকে থাকে ৩০ থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বসে থাকতে হয়েছে। এরপর কয়েক মিনিট চলার পর আবারো আটকা পড়ে জটে। একই অবস্থা ছিল সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ি, ধানমন্ডি, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর ও আসাদগেট এলাকাতেও। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ ও গণপরিবহনের যাত্রীরা। তীব্র গরম আর দীর্ঘ যানজটের কারণে রাজধানীতে খেটে খাওয়া মানুষদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। গত দুইদিনে তীব্র গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে।

২০২০ সালে করা বুয়েটের এক গবেষণায় দেখা যায়, সড়কে পিক টাইমে চলাচল করা যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার। চলতি বছরে এই গতি নেমে এসেছে প্রায় ৪.৮ কিলোমিটারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০-২৯ বছর বয়সি মানুষের হাঁটার গতি ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার। ৩০ থেকে ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সি মানুষের হাঁটার গতি ঘণ্টায় ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার। ষাটোর্ধ্বদের ক্ষেত্রে এই গতি ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৮২ কিলোমিটার। এসব বয়সি মানুষের হাঁটার গড় গতি দাঁড়ায় ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। যেটি বর্তমানে পিক টাইমে ঢাকার সড়কে চলা গাড়ির গতির চেয়েও বেশি। এমন পরিস্থিতি সত্যিই দুঃখজনক। প্রতিদিনের এই যানজট আর কারও সহ্য হয়না। এব্যপারে সরকারের দ্রুত কোন ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। বছরের পর বছর গেলেও এই যানজটের কোন সমস্যার সমাধান হয়না। আমরা মনে করি, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে না এলে কোনোভাবেই যানজট নিরসন করা যাবে না। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমাতে হবে, বাড়াতে হবে গণপরিবহণের সংখ্যা। যে সব সড়ক অপ্রশস্ত, সে সব কীভাবে কম সময়ে প্রশস্ত করা যায়, ভাবতে হবে। সুতরাং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করাই সমীচীন।

লেখক: অনলাইন বিশ্লেষক।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading