উদাসীন বিশ্ব সম্প্রদায়: রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন কতদূর?

উদাসীন বিশ্ব সম্প্রদায়: রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন কতদূর?

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৬ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৩:৫৫

সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর থেকেই নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। কিন্তু দেখতে দেখতে পাঁচ বছর পূর্ণ হলেও কবে নিজ মাটিতে ফিরতে পারবে একথা আজও অজানা তাদের কাছে। তারা চায় সুষ্ঠু পরিবেশে মাতৃভূমিতে ফিরতে। কিন্তু বিশ্ববাসীর যথাযথ উদ্যোগের অভাব ও মিয়ানমারের উদাসীনতায় বোঝা বাড়ছে বাংলাদেশের। এদিকে, রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ ও ইইইউ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সাইফুল অনিক।

২৫ আগস্ট, রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস। ২০১৭ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। গতকাল বৃহস্পতিবার গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে সমাবেশে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে মোনাজাত করেন রোহিঙ্গারা। এতে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুরা উপস্থিত ছিল। সমাবেশে শিশুদের হাতে হাতে নিজ দেশ মিয়ানমারের পতাকা দেখা গেছে। ফেস্টুনে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট টু ব্যাক হোম’ লেখা ছিল। নিজ দেশে ফেরার আকুলতায় আছে জটিল সমীকরণ না বোঝা রোহিঙ্গা শিশুরাও। তারা মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে চায়, সেখানে খেলতে চায়, পড়তে চায়।

‘শরণার্থী থাকতে চাই না, দেশে ফিরতে চাই’
সমাবেশ শেষে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা তাদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচার ও নিজ দেশে মর্যাদার সঙ্গে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। সমাবেশ রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, প্রত্যাবাসন থমকে গেছে। কারণ মিয়ানমার তাদের ফেরত নিতে চায় না। মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে জোরালোভাবে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরা যুগযুগ ধরে এখানে অবস্থান করে বাংলাদেশের বোঝা হতে চাই না। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দাবি জানাই, যেন রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যেগ নেওয়া হয়।

নিবন্ধন ও নাগরিকত্বের সমাধান চান রোহিঙ্গারা
বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারের অস্থায়ী শিবিরে অনিশ্চয়তায় দিন গুণছে দেশ ছেড়ে আসা এই মানুষগুলো। তবে অনিশ্চয়তা যতই থাকুক, দেশের ফেরার অদম্য ইচ্ছা আর প্রত্যয় ভিটেমাটিহারা এ মানুষগুলোর৷ ফিরে পেতে চান নিজেদের ফেলে আসা ঘর আর মাটি। কিন্তু নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন পরিস্থিতি তৈরি হলে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে চান তারা। চলাফেরার স্বাধীনতা, নিবন্ধন ও নাগরিকত্বের সমাধান দিতে হবে। দিতে হবে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও জীবিকা অর্জনের সুযোগ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আমরা এর সমাধান চাই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমারকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রাখাইন রাজ্যে কাজ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের উচিত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রাখাইন রাজ্যে কাজ করার অনুমতি দেওয়া।’ মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত নোলিন হাইজার গণভবনে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘আমরা মিয়ানমারকে এই বিষয়ে আহ্বান জানিয়েছি এবং এ নিয়ে আলোচনাও করেছি। কিন্তু, এখনো কোনো সাড়া আসেনি। আমরা এর সমাধান চাই। আমরা কতদিন এই বিপুল সংখ্যক লোককে আতিথ্য দিতে পারি?’ রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে সামাজিক অপরাধমূলক কাজে-মানব পাচার এবং মাদকের অপব্যবহারে জড়িত হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এই অঞ্চলের পরিবেশও ধ্বংস করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

দ্বিপক্ষীয় নয়, রোহিঙ্গা ইস্যু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু আমাদের কোনো দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে মিয়ানমার এখনো পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়নি। এই সঙ্কটের শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট: প্রত্যাবাসনের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ সেমিনারের আয়োজন করে সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ। ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ভার বহন করে চলেছে। তবে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি শুধু বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলেও পড়বে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে আসিয়ান ভূমিকা নিতে পারে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করি ছোট গ্রুপ হলেও প্রত্যাবাসন শুরু হবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস

রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করতে জাতিসংঘের আহ্বান
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বুধবার মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দেশটির সামরিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সামরিক দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ব্যাপক যাত্রা শুরুর পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে ব্যাপক বৈষম্যের শিকার রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের আশা প্রকাশ করেছেন। তারা দেশটিতে নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত। গুতেরেসের মুখপাত্র বলেছেন যে, মিয়ানমারে সংঘটিত সমস্ত আন্তর্জাতিক অপরাধের অপরাধীদের জবাবদিহি করতে হবে। ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার দেশ এবং এর জনগণের জন্য একটি টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ভবিষ্যতে অবদান রাখবে।

আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারে রোহিঙ্গা ইস্যু : ইইউ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থাকা অবশিষ্ট কয়েক লাখ রোহিঙ্গার সংকট এবং নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণগুলোর সমাধান আন্তর্জাতিকভাবে অবশ্যই সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। রোহিঙ্গা সংকটের পঞ্চম বর্ষপূর্তিতে ইইউ কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বোরেল, কমিশনার লেনারসিক এবং কমিশনার উরপিলাইনেন বলেন, ‘ইইউ আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারিক কার্যক্রমকে পূর্ণ সমর্থন করে।’
ইইউ রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদে, স্থায়ীভাবে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে আনার পক্ষে কাজ চালিয়ে যাবে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপীয় কমিশন রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের সম্পূর্ণ দায় মিয়ানমারের নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত কৌশলের কার্যক্রমে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাঁচ বছর পরও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ও তাদেরকে নিজভূমিতে ফেরার শর্ত তৈরি করতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানানো হলেও রোহিঙ্গাদের ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের কয়েক দশক ধরে আশ্রয় দিয়ে আসছে।

সংকট সমাধানে ঢাকার দূতাবাসগুলোর অঙ্গীকার
রোহিঙ্গা সংকট এবং এর কারণগুলোর দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ঢাকায় পশ্চিমা দেশের ১৪টি দূতাবাস। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক জবাবদিহিমূলক উদ্যোগের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়া নিয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করে দেশগুলো। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছি। পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন ও এই সংকটের সমাধান চাই। আমরা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে মিয়ানমারজুড়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবেদন উদ্বেগের সঙ্গে নোট করছি। আমরা মিয়ানমারে দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসানের আহ্বান জানাই।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন

রোহিঙ্গাদের ফেরানো খুব সহজ নয়: ব্রিটিশ হাইকমিশনার
গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরানো খুব সহজ নয় বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। তবে বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের ওপর হস্তক্ষেপ করলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর পৌরসভায় শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (ইউএনডিপি) প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, আজ রোহিঙ্গা ট্রাজেডির পঞ্চম বর্ষপূর্তি। রোহিঙ্গারা অনেক ভাগ্যবান। যখন লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছিল তখন এদেশের সরকারের কাছ থেকে অভূতপূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটি খুব সহজ নয় যে, এত তাড়াতাড়ি বিষয়টি সমাধান হবে। এজন্য একত্রে বিভিন্ন দেশের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সংকট নিরসনে মরিয়া বাংলাদেশ
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। প্রত্যাবাসন শুরু করতে সহায়ক মাধ্যমগুলোতেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যাবাসন শুরু করতে সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। নেপিডোর সঙ্গে কাজ করছে ঢাকা। রোহিঙ্গাদের ভেরিফিকেশন বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিষ্পত্তির কাজ চলমান রয়েছে। এরআগে, আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি। ২০১৮ সালের নভেম্বর এবং ২০১৯ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। ওই সময় রাখাইন রাজ্যের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ফিরতে রাজি হয়নি রোহিঙ্গারা।

উত্তরদক্ষিণ । ২৬ আগস্ট ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

রাষ্ট্রহীন এই মানুষদের প্রতি উদাসীন বিশ্ব
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, পুরো সময় তাদের অবস্থান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বদলে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার জবাবদিহি নিশ্চিত করাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। সঙ্গে ছিল রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ভুরি ভুরি প্রশংসা আর আশ্বাস। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর থেকেই মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের মধ্যে প্রত্যাবাসন বিসয়ে আলোচনা চলছে৷ প্রত্যাবাসন বিষয়ে রোহিঙ্গাদের তালিকা করতে একটি জযেন্ট টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সমস্যার কোন সমাধানই হয়নি। অথচ আন্তর্জাতিক বিশ্ব ইউক্রেন শরণার্থীদের সোনার চামচ মুখে দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে। ইউক্রেন শরণার্থীরা প্রচুর সুবিধা পেলেও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

‘ফুরিয়ে আসছে’ রোহিঙ্গা তহবিল, উদ্বেগে জাতিসংঘ
এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা না আসায় রোহিঙ্গাদের তহবিলে টান পড়েছে। ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ৮৮১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছিল জাতিসংঘ। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই তহবিলে জমা পড়েছে মাত্র ৪২৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, শতকরা হিসেবে যা জাতিসংঘের প্রস্তাবিত অর্থের মাত্র ৪৯ শতাংশ। জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান-জেআরপি তহবিলের গত ৪ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিবছরই রোহিঙ্গা মানবিক তহবিলের পরিমাণ কমেছে এবং কোনো বছরই জেআরপি তহবিলের প্রয়োজনের শতভাগ পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে জেআরপি তহবিলের ৭৩ শতাংশ পাওয়া গেছে, ২০১৮ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৫ শতাংশ, ২০২০ সালে ৬৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৭২ শতাংশ পাওয়া গেছে।

স্বপ্নহারা লাখো রোহিঙ্গা কেবল একটি স্বপ্নেই বিভোর। নিজ দেশে ফিরতে পারার। যতক্ষণ না তাদের পক্ষে এটি করা নিরাপদ হয়, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা বিশ্বের কাছে আরও সহায়তা এবং সহানুভূতির জন্য অনুরোধ করছেন।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading