নিজেকে বদলে ফেলুন সমাজ বদলে যাবে
আনোয়ার শাহাদাত । শুক্রবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:০৫
সময় ও সমাজের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগ বিস্তর। কান পাতলেই বলতে শোনা যায়, সময় বড়ই খারাপ, মানুষের মন থেকে বিশ্বাস ও ধর্মানুরাগ বিদায় নিয়েছে, ভদ্র ও শালীনতার মৃত্যু হয়েছে, মানুষ আল্লাহ ও পরকাল থেকে বিমুখ। জীবন ও সমাজের যেদিকেই তাকাবেন স্খলনের ঝড় দেখতে পাবেন। বিপরীতে সমাজ ও জীবনধারায় পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাও কম নয়। অজস্র ব্যক্তি ও সংগঠন ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রত্যেকে নিজের সাধ্য ও সীমার মধ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এসব সংগঠনের কাজের প্রভাবও দেখা যায় কোথাও কোথাও। তবে সামগ্রিক বিচারে সব প্রচেষ্টাই অর্থহীন মনে হয়। সামগ্রিকভাবে সামাজিক জীবনে তার উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব দেখা যায় না, বরং নিরাশাই সর্বত্র প্রকট। মানবসমাজের এই অবনতির পেছনে অনেক কারণই দায়ী এবং তা এত ব্যাপক যে আমরা চাইলেই তার কূল-কিনারা করতে পারব না।
ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে এই বিষয়ে কাজ হচ্ছে বটে, তবে সামগ্রিকভাবে সমাজে এর প্রভাব সেভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এত চেষ্টার পরও চারিদিকে অবক্ষয় আর নিরাশার পদধ্বনি। কেন? নিশ্চয় আমাদের প্রচেষ্টায় ত্রুটি আছে, পদ্ধতিগত ও প্রয়োগগত সমস্যা আছে। ঘাটতি রয়েছে আমাদের সঠিক ও কার্যকর দৃষ্টিভঙ্গিরও। আমরা প্রায়শ অপরকে বদলানোর চেষ্টা করি, বিভিন্ন উপদেশ দেই, অপরের গর্হিত কাজের জন্য তিরস্কার করি। সমাজকে ঢেলে সাজাতে চাই, আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের কথা বলি। কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের জন্য প্রথমেই যে নিজের পরিবর্তন দরকার তা মোটেও ভাবি না। সমাজে কী ভুল আছে সে সম্পর্কে প্রত্যেক মানুষ নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করে এবং এটি খুব সহজও। কিন্তু নিজের কাছে কী ভুল আছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা আমরা করি না। আমরা প্রতিনিয়ত নানান অভাব অভিযোগ, অসঙ্গতির কথা বলে বেড়াই, এই সমাজ বা পৃথিবী বাসের অযোগ্য হয়ে গেছে, এখানে ভালো মানুষ থাকার মতো অবস্থা আর নেই আরো কত কী, অথচ, ভেবে দেখার বিষয়, এই পৃথিবীর বয়স কত। প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবী বেঁচে আছে এবং অনেক সুন্দরভাবে বেঁচে আছে।
এই সমাজ- সংসারে অস্থিরতা, অপূর্ণতা থাকবে। তার ভেতরেও কেউ চাইলে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে। তার জন্য দরকার হলো নিজেকে পরিবর্তন করা এবং নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। সত্যিকার অর্থে বাইরের পরিস্থিতি ততটা খারাপ না, যতটা আমি-আপনি ভাবি বা মনে করি। চলমান বাস্তবতার পরিবর্তন করতে চাইলে আজ থেকেই পরিবর্তনের শুরু করা উচিত এবং নিজেকে দিয়েই শুরু করা উচিত। কেউ যদি হতাশ, রাগান্বিত বা বিব্রতকর অবস্থা বোধ করে তাহলে কৌতূহলী হয়ে উঠতে হবে এবং কাজ করতে হবে। মানসিকতা, অভ্যাস এবং কর্ম পরিবর্তন করতে হবে। বেশির ভাগ মানুষ নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করে। এটি পরিহার করতে হবে। মিথ্যা বা ভনিতার আশ্রয় নেয়া বন্ধ করতে হবে। নিজের বিশ্বাসের প্রতি দৃঢ় ও মজবুত হতে হবে। কারো কাছে অধিক ভালো দেখানোর জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়া কখনও উচিত হবে না। আমরা আসলে এই সমাজ বা পৃথিবীর পরিবর্তন চাই। কিন্তু নিজেকে বদলানোর ক্ষেত্রে বড়ই কৃপণতা করি বা মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে সমাজ পাল্টানোর চেষ্টা করে থাকি। আসলে আমরা পরিস্থিতির শিকার না, আমরা আমাদের কর্মের এবং সিদ্ধান্তের ফলাফল ভোগ করে থাকি। ভাগ্যের বা পরিস্থিতির দোষ না দিয়ে যদি প্রথমে নিজেকে সংশোধন করি এবং অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস রাখি যে, নিজে বদলে গেলে সমাজ বদলে যাবে, তবেই আমাদের ভেতরকার পরিবর্তন আসবে। যার যেই অবস্থান সে সেই অবস্থান থেকে যদি নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি এবং নিজের ভেতরের দোষ ত্রুটি শোধরানোর চেষ্টা করি, তাহলে কিন্তু আমাদের চারপাশ এমনিতেই বদলে যাবে এবং সমাজ হয়ে উঠবে ন্যায়ভিত্তিক, সুন্দর ও সাবলীল।
লেখক: কলামিস্ট।
ইউডি/সুস্মিত

