আইটি ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়লে বাড়বে কর্মসংস্থান

আইটি ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়লে বাড়বে কর্মসংস্থান

আনিসুল সারোয়ার । শনিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৯:২০

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন জোয়ার বইছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। আইসিটিতে ঈর্ষণীয় সাফল্য বাংলাদেশকে আসীন করছে অনন্য উচ্চতায়। বিশেষ করে এই করোনাকালে প্রযুক্তির প্রভূত সুফল মিলছে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক চালু রাখাসহ অনেকের বাসা-বাড়ি হয়ে উঠেছে ‘বিকল্প কার্যালয়’। নানামাত্রিক সুফল মিলছে দেশে-বিদেশে। বাংলাদেশের সামনে রয়েছে উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিস্তৃত রোডম্যাপ। প্রযুক্তি খাতে প্রতিনিয়ত নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সবাই বাধ্য হয়ে প্রযুক্তির দ্বারস্থ হচ্ছে। কিন্তু সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার বিবেচনায় আমরা এখনো যথেষ্ট দক্ষ লোকবলের অভাব অনুভব করছি।

উদাহরণস্বরূপ এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের কথায় আসা যেতে পারে। ১৯৯৯ সালের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ব্যবহার ধীরে ধীরে শুরু হয়। ২০০৪-০৫ সালে এসব সফটওয়্যারের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এ ধরনের এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ইমপ্লিমেন্টেশন, সাপোর্ট-সার্ভিসের ক্ষেত্রে আমরা এখনো পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

ডিজিটাইজেশনের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে দেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে সরকারের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চান দেশে প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের বিকাশ ঘটুক। তা সত্ত্বেও আমাদের অগ্রগতি কম। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতে কাজের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সফটওয়্যার ব্যবহার এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্রে এসএপি ওরাকল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের সলিউশনগুলো সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। কিন্তু এ ধরনের সফটওয়্যার ইমপ্লিমেন্টেশনের ক্ষেত্রে যে দক্ষ লোকবল দরকার তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই এসব সফটওয়্যার ইমপ্লিমেন্টেশনের জন্য প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও বীমা, গ্রুপ অব কম্পানিজ, ফার্মাসিউটিক্যাল, গার্মেন্ট সেক্টর, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, অটোমোবাইল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, এনার্জি সেক্টর, হাসপাতাল ইত্যাদি অটোমেশনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইআরপি সফটওয়্যার ব্যবহার হয়। যে ইআরপি সফটওয়্যারগুলো জার্মানি, আমেরিকা বা ইসরায়েলের বানানো। বাংলাদেশের দক্ষ জনবলের অভাবে সে সফটওয়্যারগুলো বাংলাদেশে ইমপ্লিমেন্টেশনও করছে ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশ। এসব করেই ভারত আয় করছে একটি বিশাল অঙ্কের টাকা। বাংলাদেশের সফটওয়্যার কম্পানিগুলো আশানুরূপ আয় করতে পারছে না তাদের দক্ষ জনবলের অভাবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে সরকার ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার জনকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রয়োজন সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ। সরকারি উদ্যোগই এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ দেশে দক্ষ জনবল তৈরি করলে যে হাজার হাজার কোটি টাকা ভারতে চলে যাচ্ছে এই খাত থেকে সেটি আস্তে আস্তে শূন্যের কোঠায় আনা যেত।

পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ১৯৯০ সালে টাটা গ্রুপের হাত ধরে এসব এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ব্যবহারের গোড়াপত্তন ঘটে। বর্তমানে এসব সফটওয়্যার ইমপ্লিমেন্টেশনে বাংলাদেশের চেয়ে ইন্ডিয়ার সক্ষমতার ব্যবধান অনেক। টাটা কনসালটিং লিমিটেড তাদের ব্যবসায় এ ধরনের সফটওয়্যার কনসালট্যান্সি এবং ইমপ্লিমেন্টেশন তাদের ব্যবসার মূলধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তারই ফলে ভারতজুড়ে এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি দক্ষ জনবল বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের দক্ষতার ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভারতজুড়ে রাতারাতি অনেক কম্পানি এ ধরনের দক্ষ জনবল তৈরি করে বিভিন্ন ইমপ্লিমেন্টেশন প্রজেক্টের সঙ্গে নিজেদের দেশের জনবলকে সম্পৃক্ত করে। ভারতের ‘ইনফোসিস’ এমন এক প্রতিষ্ঠানের নাম, যা আইটির দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে পৃথিবীতে এক রোল মডেল।

বাংলাদেশে আইটি সেক্টর ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধে এই সেক্টরকে সরকারিভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকার নিজেও আইটি সেক্টর নিয়ে আশাবাদী। দ্রুত সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, যা সংকটে থাকা আর্থিক খাতকে কিছুটা হলেও স্বস্তি বাড়াবে। এ ছাড়া বাড়বে কর্মসংস্থান।

লেখক: সাংবাদিক।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading