গণপরিবহণে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য থামাতে পদক্ষেপ নিন
সজীব হায়দার । শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৩:০৫
গণপরিবহণে ভাড়া আদায় কিংবা সার্ভিস সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, তা কতটা উদ্বেগের বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি রাজধানীর গণপরিবহণ সংক্রান্ত যে চিত্র উঠে আসছে এবং গণপরিবহণের ভাড়া নৈরাজ্যর বিষয়টি আলোচনায় আসছে- তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই প্রতীয়মান হয়। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, যাত্রী কল্যাণ সমিতি দাবি করেছে, রাজধানীর গণপরিবহণে প্রতিদিন ১৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থের ভাড়া নৈরাজ্য চলছে। এর দায়ভার কে নেবে?
মালিকের দৈনিক জমা, জ্বালানির উচ্চমূল্য, সড়কে চাঁদাবাজি, গাড়ির মেরামত খরচ ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে গণপরিবহণ শ্রমিকরা এই ভাড়া নৈরাজ্য চালাতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা এসব তথ্য তুলে ধরেছেন। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার- সামগ্রিকভাবে আলোচিত বিষয়গুলো এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতি যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছে তা আমলে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং সেই মোতাবেক দ্রম্নত কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেছেন, জাইকার সমীক্ষানুযায়ী রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন শ্রেণির গণপরিবহণে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ কোটি ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হয়। গত এক বছরে দুই দফা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরে গণপরিবহণে অস্বাভাবিক হারে ভাড়া নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। এছাড়া আলোচনায় এসেছে যে, রাজধানীতে ১৫ হাজার বৈধ অটোরিকশা চলে। পাশাপাশি ঢাকা ও আশপাশের জেলায় নিবন্ধিত অটোরিকশা অবৈধভাবে চলাচল করে আরও ১৫ হাজার। এই ৩০ হাজার অটোরিকশা দৈনিক গড়ে ১২ ট্রিপ হিসেবে ৩ লাখ ৬০ হাজার ট্রিপ যাত্রী বহন করে। এসব অটোরিকশায় প্রতি ট্রিপে গড়ে ১৪৫ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। এতে দৈনিক ৩ লাখ ৬০ হাজার ট্রিপ যাত্রীকে অটোরিকশা খাতে কেবল বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। এছাড়া ৫ লাখ রাইডশেয়ারিং মোটর সাইকেল, প্রাইভেট কার, ট্যাক্সিক্যাবে দৈনিক গড়ে ২ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ট্রিপ যাত্রী বহন করছে উলেস্নখ করে মহাসচিব জানিয়েছেন, এসব যানবাহনে যাত্রীপ্রতি গড়ে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যেখানে এসব যানবাহনে প্রতিদিন গড়ে আদায় করা হচ্ছে ১৬২ কোটি ৩০ লাখ টাকার অতিরিক্ত ভাড়া।
আমরা মনে করি, সার্বিক বিষয়গুলো যেমন খতিয়ে দেখতে হবে সংশ্লিষ্টদের- তেমনি এটাও এড়ানো যাবে না যে, এই ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে সামাজিক অস্থিরতা বেড়েছে, পণ্যমূল্য বেড়েছে, সামাজিক অপরাধ বাড়ছে বলেও জানা যাচ্ছে। সঙ্গত কারণেই রাজধানীর গণপরিবহণের ভাড়া নৈরাজ্য সংক্রান্ত যে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসছে, তা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, যত দ্রম্নত সম্ভব যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া। যাত্রীদের জিম্মি করে কিংবা কোনোভাবেই যেন ভাড়া নৈরাজ্য সৃষ্টি না হয় সেটি আমলে নিতে হবে। বলা দরকার, এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও বাস ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে জনদুর্ভোগের বিষয় সামনে এসেছিল। এছাড়া ভাড়া নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। এর আগে সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিতে গিয়ে গণপরিবহণ কর্মীদের হাতে সাধারণ যাত্রীদের অপমান অপদস্থ হওয়ার প্রতিবাদও জানিয়েছিল বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আমরা বলতে চাই, যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা অত্যন্ত নেতিবাচক পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
সর্বোপরি, রাজধানীর গণপিরবহণে ভাড়া নৈরাজ্যের যে বিষয়টি আলোচনায় আসছে তা আমলে নিন। একই সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যত দ্রম্নত সম্ভব করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিশ্চিত করুন। কেউ যেন মানুষকে জিম্মি করে ইচ্ছামাফিক ভাড়া আদায় করতে না পারে সেই লক্ষ্যে মনিটরিংও জোরদার করতে হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এমনটি কাম্য।
লেখক- কলামিস্ট।
ইউডি/সুস্মিত

