ইউক্রেনে হামলা-গণভোট-আংশিক অন্তর্ভুক্তি-পারমানবিক হুমকি: রাশিয়ার শেষ রক্ষা হবে কী

ইউক্রেনে হামলা-গণভোট-আংশিক অন্তর্ভুক্তি-পারমানবিক হুমকি: রাশিয়ার শেষ রক্ষা হবে কী
উত্তরদক্ষিণ ০২ অক্টোবর ২০২২

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ১১:৩০

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট ধীরে ধীরে এর গতিবিধি পরিবর্তন করছে। সবশেষ ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে (খেরসন, জাপোরিঝঝিয়া, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা এ যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য ভ্লাদিমির পুতিনের এমন সিদ্ধান্ত তার নয়া কোনো ফন্দিরই অংশ। পশ্চিমাবিশ্ব তার এই ফন্দির বিপরীতে কোন পথে এগোয় সেটাই এখন বড় প্রশ্ন । বিস্তারিত লিখেছেন সাদিত কবির

২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে যেভাবে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল ঠিক একইভাবে এবার ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজেদের অন্তর্ভুুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। ক্রিমিয়া দখলের সময়কালে যদিও পরিস্থিতি বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিলো। এবার পুতিনের এমন ঘোষণা জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সবমহলেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। পশ্চিমাবিশ্ব তথা ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো ইতোমধ্যেই এর পাল্টা জবাবও দিচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এমন সিদ্ধান্ত চলমান এই যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ধাবিত করে তাই নিয়ে চলছে আলোচনা।

যুদ্ধের মোড় ঘোরাতেই কী পুতিনের নয়া ফন্দি? : টানা সাত মাস ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ চলছেই। প্রথম দিকে রুশ আগ্রাসনের কাছে অনেকটাই মলিন ছিলো ইউক্রেনের প্রতিরোধ। কিন্তু গত এক মাস ধরে ইউক্রেন সেনাদের পাল্টা জবাবে নিজেদের পেছানো শুরু করে রুশ বাহিনী। পরিস্থিতির এমন এক পর্যায়েই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজের নয়া ফন্দি একেছেন বলে জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ। তারা বলছেন, আচমকা ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণার পেছনে পুতিন চরম চতুরতার পরিচয় দিয়েছেন। পুতিন ইউক্রেনের মিত্রদেশগুলো তথা পশ্চিমাবিশ্বকে এমন বার্তাই দিলেন যে ঘোষণার পর থেকে ওই চার অঞ্চলে ইউক্রেন হামলা চালালে, তা রাশিয়ার ওপরে হামলা বলেই ধরবে মস্কো। আর এই চার অঞ্চলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চটুকুই দেবে রাশিয়া, এমন হুঁশিয়ারিও এসেছে পুতিনের কাছ থেকে। তাতে এটা স্পষ্ট যে, পুতিন ইউক্রেনের ছায়ায় আমেরিকা-ইউরোপকেই নতুন একটা বার্তা দিয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুয়ের কথায়ও সেটা পরিস্কার ভাবেই ফুটে ওঠে যে, ইউক্রেনের চেয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধেই বেশি লড়ছে মস্কো। তবে, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকিকে অবশ্য আমলে নিচ্ছে না ইউক্রেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক পল স্ত্রোনস্কি বলেন, মস্কোর এসব হুমকি-ধমকি দিচ্ছে মূলত পশ্চিমা দেশগুলোকে ভয় দেখাতেই।

রাশিয়ার ঘোষিত চার অঞ্চলে কী হচ্ছে : ক্রিমিয়া দখলের সময় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক ছিলো রাশিয়াপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণেই। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া চলমান এই যুদ্ধে দোনেৎস্কের ৬০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রুশ সেনারা। তবে এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর লিমান-এর নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের দখলে যাওয়ার সম্ভাবনই বেশি।
অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ অপর অঞ্চল জাপোরিঝঝিয়ার রাজধানী বর্তমানে ইউক্রেনের সেনাদের দখলেই রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা আরেক অঞ্চল খেরসনের খুব কাছাকাছি অবস্থানেই রয়েছেন ইউক্রেনের সেনারা। তাতে বলা যায় রাশিয়া ঘোষণা করলেও এই চার অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার কাছে নেই এবং খুব সহজেই ইউক্রেনের থেকে যে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে তাও স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের ওই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে গত শুক্রবার ক্রেমলিনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ওই অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার হিসেবে ঘোষণা করেন পুতিন। পুতিন ওই চার অঞ্চলকে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি যে কোনো উপায়ে তা রক্ষা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার ভাষ্য- ওই চার অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণে কখনোই ছেড়ে দেবে না মস্কো।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ

আলোচনায় পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহার ও ‘ফ্রন্টলাইন’ ইস্যু: ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রতিরোধের মুখে যখন অনেকটাই হোঁচট খেতে শুরু করে রুশ বাহিনী তখনই এই যুদ্ধের বাঁক ভিন্ন দিকে ঘোরাতে চেস্টা করেন পুতিন। গত মাসের ২১ তারিখ তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিজ দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করবে রাশিয়া। একই সঙ্গে তিনি সেনা সমাবেশের ঘোষণাও দেন। পুতিন বলেন, এটা কোনো ধাপ্পাবাজি নয়। যারা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আমাদের ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা করছে, তাদের এটা জেনে রাখা উচিত, হাওয়া তাদের দিকে ঘুরে যেতে পারে। পুতিনের ভাষণের পর রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শইগু বলেন, আংশিক সেনা সমাবেশের অধীন প্রায় তিন লাখ রিজার্ভ সেনা ডাকা হবে। তবে প্রকৃত সংখ্যা হতে পারে অনেক বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহারের হুমকি শুধুমাত্র ইউক্রেনকে ঘিরেই নয়, বরং ইউক্রেনের মিত্র দেশ তথা পশ্চিমাদের ঘিরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়ায় গণসেনা সমাবেশের ঘটনা আর ঘটেনি। নতুন করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুগত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পুতিন সরকারের সামাজিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে, যেহেতু রাশিয়া খেরসন, জাপোরিঝঝিয়া, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে সে হিসেবে তারা এখন এই অঞ্চলের ফ্রন্টলাইনে নিজেদের সেনাদের পাঠাতে পারবে। অর্থ্যাৎ- দুটি দেশ একে-অপরের সঙ্গে যে স্থানে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়ার ক্ষমতা রাখে তাতে রাশিয়ার অধিকৃত এই চার অঞ্চলের ফ্রন্টলাইন ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। এছাড়াও এই চার অঞ্চল নিজেদের দাবি করার ফলে এসব অঞ্চলে ইউক্রেনীয়দের সাহায্যকারী দেশগুলোকে পাল্টা জবাবও দিতে পারবে রাশিয়া। আর এক্ষেত্রে পুতিনের পারমানবিক অস্ত্রের ব্যবহারের ঘোষণা সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকগণ। এই চার অঞ্চলকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রথমে রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ডুমায় সংবিধান সংশোধন বিল পাস করা হবে। সেখান থেকে যাবে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিলে। সেখানে পাস হলে যাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে। এরপর তিনি তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন। আগামী শুক্রবার পুতিনের ৭০তম জন্মদিন। এর আগেই সব প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাপোরিজ্জিয়ার পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রধানকে আটক: ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান ইহোর মুরাশভকে অপহরণ করেছে রাশিয়া, এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। প্ল্যান্টের প্রধানকে বেশ কিছু ইস্যুতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থাটি জানিয়েছে, ইহোর মুরাশভকে আটক করেছে মস্কোর বাহিনী। তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিনা নিশ্চিত করেনি আইএইএ।

ইউএসএ সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

হুমকি পরোয়া করে না আমেরিকা: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া চারটি অঞ্চলকে রক্ষায় প্রয়োজনে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে রাশিয়া। এবার তার এমন বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন তার দেশ রুশ প্রেসিডেন্টের বেপরোয়া হুমকির পরোয়া করে না। পুতিনের বক্তব্যকে বাইডেন বেপরোয়া ও হুমকি বলে চিহ্নিত করেছেন। বাইডেন আরও বলেন, পুতিন আমাদের ভয় দেখাবেন না।বাইডেন বলেন, আমেরিকা ও মিত্রদেশগুলো এসব হুমকির পরোয়া করছে না। ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত প্রতি ইঞ্চি অঞ্চল রক্ষায় মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকা পুরোপুরি প্রস্তুত। জনাব পুতিন, আমি কী বলছি সেটাকে ভুল বুঝবেন না। আমি বলেছি, প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করা হবে।

নিরব ভূমিকায় চীন-ইন্ডিয়া: এদিকে, ইউক্রেনের ওই চারটি অঞ্চল রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে একটি খসড়া নিন্দা প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাতিল হয়েছে। যদিও এই নিন্দা প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল রাশিয়ার দুই মিত্র চীন ও ইন্ডিয়া। এই প্রস্তাবে যদিও ভেটো দিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুদ্ধ অবসানের কথা বলেছিলেন, তিনি বর্তমান খাদ্য ও জÍালানি সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেছিলেন, এই সময়টা যুদ্ধের জন্য নয়। তখন থেকেই অনুমেয় ছিল ইন্ডিয়াও চায় দ্রুত এই যুদ্ধ বন্ধ হোক। অন্যদিকে চীনও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চায়। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশকেই ‘সংকট ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত রাখতে’ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রভাবিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, চীন ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়ক সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। সর্বাধিক অগ্রাধিকার হলো শান্তির জন্য আলোচনার পথ তৈরি করা। আর নিরাপত্তা পরিষদের নিন্দা প্রস্তাবে রাশিয়ার এই দুই মিত্র দেশের ভোট দানে বিরত থাকা স্পষ্ট করে যে তারা যুদ্ধকে ‘না’-ই বলছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দশটি দেশ এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে চীন, গ্যাবন, ইন্ডিয়া এবং ব্রাজিল ভোটদানে বিরত থাকে। ভোটদানে বিরত থাকা মানে রাশিয়ার পক্ষ নেয়া নয় মন্তব্য করেন থমাস-গ্রিনফিল্ড। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, একটি দেশও রাশিয়ার পক্ষে ভোট দেয়নি। ভোটদানে বিরত থাকা মানে রাশিয়ার পক্ষ পরিষ্কার করে না। সদস্য দশটি দেশ এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে চীন, গ্যাবন, ইন্ডিয়া এবং ব্রাজিল ভোটদানে বিরত থাকে।ভোটদানে বিরত থাকা মানে রাশিয়ার পক্ষ নেয়া নয় মন্তব্য করেন থমাস-গ্রিনফিল্ড। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, একটি দেশও রাশিয়ার পক্ষে ভোট দেয়নি। ভোটদানে বিরত থাকা মানে রাশিয়ার পক্ষ পরিষ্কার করে না।

উত্তরদক্ষিণ । ০২ অক্টোবর ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

আত্মঘাতী পররাষ্ট্রনীতির শিকার হবেন লাখো রাশিয়ান: পুতিনের শাসনামলে রাশিয়ার নাগরিকেরা রাজনীতি থেকে নিজেদের পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। কিন্তু যদি পুতিনের সেনা সমাবেশের ঘোষণার সফল বাস্তবায়ন ঘটে সেক্ষেত্রে লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে পুতিনের আত্মঘাতী পররাষ্ট্রনীতির শিকার হবেন। নিজেদের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই তখন শর্তসাপেক্ষে তাদের সেটা মেনে নিতেই হবে। রাশিয়ার নিরপেক্ষ ধারার পত্রিকা নোভায়া গেজেটা ক্রেমলিনের এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ডিক্রির অপ্রকাশিত একটি ধারায় সেনা সমাবেশের সংখ্যা বলা হয়েছে ১০ লাখ। অবশ্য ক্রেমলিন এ খবর নাকচ করে দিয়েছে।
ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশের জনগণের মধ্যে পশ্চিমাদের তরফে প্রকৃত হুমকির বোধ জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন হয়ে পড়ে পুতিনের। এ হুমকিকে বাস্তবে রূপ দেওয়াও তার জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ে। রাশিয়াকে ভূরাজনৈতিকভাবে একঘরে করে পশ্চিমা দেশগুলোও দেশটির নাগরিকদের একটা গণতান্ত্রিক ইউরোপীয় বিকল্প পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে। প্রেসিডেন্ট পুতিন জনগণের একটি বড় অংশকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন, যেখানে ব্যক্তিগতভাবে বাঁচতে হলেও তাদের লড়াই করতে হবে। পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে না পারলে নাগরিক অসন্তোষ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করবে। কেননা যখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দিকেই জনগণের নজর বেশি থাকে, তখন বিপ্লবী হয়ে ওঠার চিন্তা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে ওঠে। কোনো যুদ্ধ বিপ্লবের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার পরিবর্তে একে আরও ম্লান করে।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading