গণতন্ত্রের সাহসী কাণ্ডারি শেখ হাসিনা: বিশ্বপরিসরে সম্প্রসারিত এক আলোকবর্তিকা

গণতন্ত্রের সাহসী কাণ্ডারি শেখ হাসিনা: বিশ্বপরিসরে সম্প্রসারিত এক আলোকবর্তিকা

রাজিবুল হাসনাত । রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ১৭:৫০

শেখ হাসিনা শুধু একটি নাম নয়, একটি ইতিহাস, এক গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলন-সংগ্রামের আলোকবর্তিকা। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের অভিযাত্রায় পদে পদে তাকে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার মানেই হচ্ছে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম, বাংলাদেশের পুনর্জন্ম। এর ব্যাখ্যা প্রয়োজন নেই তবু স্মরণ করিয়ে দিই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে সপরিবারে নিহত হওয়ার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ অবস্থান করছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার সংবাদ পান। তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।

কাজেই তৎকালীন স্বৈরশাসকের রক্ষচক্ষু ও শত বাধা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। সেদিন থেকেই তার শুরু হয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই। শেখ হাসিনার পরবর্তী ইতিহাস একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় তিনি কীভাবে বাঙালি জাতির কাণ্ডারি হয়েছেন তারই ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন রূপায়ণের দিশারি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ শেখ হাসিনা বীরত্বের অনন্য উপাখ্যান। মূলত এই উপাখ্যানের সূচনা হয়েছিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এক ফিনিক্স পাখি। ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠে তিনি তার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন এই বাংলার আপামর মানুষের কল্যাণে। তিনি ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সমস্ত জীবন ধরে কণ্টকাকীর্ণ এক দীর্ঘ পথ হেঁটে, সহস্র বাধা মাড়িয়ে তিনি আজকের শেখ হাসিনা। এই পথের বাঁকে বাঁকে ছিল জীবনের অসংখ্য ঝুঁকি। শত্রুর শ্যেনদৃষ্টি তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখে এটি এই দেশের প্রতিটি মানুষই উপলব্ধি করে। দিনে দিনে শেখ হাসিনার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য। তার সুদক্ষ ও আন্তরিক নেতৃত্বের কারণে এ দেশের মানুষ একটি উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। এ দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়ে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এক নতুন লড়াইয়ে আজ তিনি অবতীর্ণ। সেই নিরিখেই ঘোষণা করেছেন ভিশন-২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১। এই লড়াইয়ের প্রতিটি পদক্ষেপ বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়ার।

তারই সুদক্ষ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে। বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল, নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, চিকিৎসার উন্নয়নের স্বীকৃতি এসেছে বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার যে প্রক্রিয়া এ দেশে শুরু হয়েছিল, তার বিপরীতে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এর সফল বাস্তবায়ন শেখ হাসিনা সরকারের একটি বিস্ময়কর সাফল্য। এ ছাড়া রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ তার সরকারের গৃহীত দশটি মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পথে।

১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তিচুক্তির ব্যবস্থা নেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তিপদকে ভূষিত করে। ওই সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেন। পরে শেখ হাসিনার সরকার ভারতের সঙ্গে ৬৮ বছর ধরে বিদ্যমান সীমানাবিরোধ ও ছিটমহল সমস্যার নিষ্পত্তি করে। মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তিনি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই মানবিক ভূমিকার জন্য ব্রিটিশ মিডিয়া তাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বলে আখ্যায়িত করে। পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ফোর্বস সাময়িকীর করা তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় ২০১৮ সালে ২৬তম স্থানে এবং ২০২০ সালের তালিকায় ৩৯তম স্থানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পিপলস অ্যান্ড পলিটিকসের বিশ্বের সবচেয়ে সৎ পাঁচজন সরকার প্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৪ সালে এশিয়ার প্রভাবশালী শীর্ষ ১০০ ব্যক্তির তালিকায় ২২তম অবস্থানে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ফরেন পলিসির বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় ‘প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা’ ক্যাটাগরিতে ১০ জনের মধ্যে নবম স্থানে আছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বাংলাদেশের মানুষের প্রেরণা ও অর্জনের বাতিঘর; উন্নয়নের রোল মডেল। জন্মদিনে তার জন্য প্রার্থনা তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করুন, একই সঙ্গে সুস্থতায় দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকবেন আগামী দিনেও। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading