টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: এক নজরে অস্ট্রেলিয়ার ৭ ভেন্যু
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ২২:০০
ক’দিন বাদেই শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সবচেয়ে বেশি যে দেশটি রঙিণ পোশাকে একদিনের ম্যাচের বিশ্বকাপ জিতেছে সেই দেশেই আয়োজন করা হচ্ছে এ বছরের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সর্বোচ্চ আসর। অস্ট্রেলিয়ার সাতটি ভেন্যুতে হবে এবারের ১৬ দলের বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াই।
অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন, জিলং, হোবার্ট, মেলবোর্ন, পার্থ ও সিডনির মাঠে ব্যাটে বলে দাপট দেখাবে বিশ্বের ১৬ দেশের ক্রিকেটাররা। ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু করে আগামী ১৩ নভেম্বরের ফাইনাল পর্যন্ত ক্রিকেটীয় যুদ্ধে মেতে থাকবে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। এক নজরে ভেন্যু গুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উত্তরদক্ষিণের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

কার্ডিনিয়া পার্ক, জিলং: অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের বন্দর নগরী জিলংয়ে অবস্থিত কার্ডিনিয়া পার্ক স্টেডিয়াম। স্থানীয়রা এটিকে সাইমন্ডস স্টেডিয়াম নামে ডাকে। প্রায় ২৬ হাজার ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। এই স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয় ১৯৪১ সালে। কার্ডিনিয়া পার্ক অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক ভেন্যুগুলোর একটি। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের সবগুলো হবে এই স্টেডিয়ামে। মোট ৬টি ম্যাচের আয়োজক কার্ডিনিয়া পার্ক।

পার্থ স্টেডিয়াম, পার্থ: পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বার্সউড উপকূলে অবস্থিত পার্থ স্টেডিয়াম। ২০১৭ সালের শেষের দিকে এই স্টেডিয়ামের কাজ সমাপ্ত হয় এবং ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৬০ হাজার দর্শকের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামটি অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম। এই মাঠে ক্রিকেট ছাড়াও সকার, রাগবিসহ বিভিন্নধরনের কনসার্ট ও বিনোদমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপের মোট ৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে পার্থ স্টেডিয়ামে।

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি): ১৮৫৩ সালে নির্মিত এমসিজি সাউদার্ন হেমিস্ফিয়ারের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম, আর বিশ্বের দশম। ধারণক্ষমতা ১ লাখ। ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী স্টেডিয়াম এটি এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছে এখানে।এমসিজিতে প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছিল ১৮৫৪ সালের সেপ্টেম্বরে। আসন্ন বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে এই এমসিজিতে।

অ্যাডিলেড ওভাল: অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরের একটি বিখ্যাত মাঠ এই অ্যাডিলেড ওভাল। অ্যাডিলেড খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে পরিপূর্ণ একটি শহর। অ্যাডিলেড ওভাল স্টেডিয়াম নির্মাণ হয় ১৮৭১ সালে। এই স্টেডিয়ামে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার ডন ব্যাডম্যানের স্মৃতি জাদুঘর। ৫০ ধারণ ক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর সুখস্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশর। এই মাঠে বাংলাদেশের রয়েছে দুটি ম্যাচ। ২ নভেম্বর ইন্ডিয়ার ও ৬ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড: দেড়শ বছরের পুরোনো এই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। প্রায় সব বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার এই ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মাতিয়ে গেছেন। দেশের স্থাপত্যশিল্ডে এই গ্রাউন্ড আছে সামনের সারিতে। এসসিজি বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। নতুন বছরের টেস্ট ছাড়াও আন্তর্জাতিক ওয়ানডে এখানেই অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া এনএসডব্লিউ ব্লুস ও সিডনি সিক্সার্সের হোম গ্রাউন্ড এটি।

দ্য গ্যাবা, ব্রিসবেন: ১৮৯৬ সাল থেকে কুইন্সল্যান্ডের হোম অব ক্রিকেট গ্র্যাবা। শেফিল্ড শিল্ড ম্যাচের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফর্মের খেলা আয়োজিত হয়। সাধারণত অস্ট্রেলিয়ান সামারের প্রথম টেস্ট ম্যাচ এখানেই হয়ে থাকে। আসন্ন বিশ্বকাপে উত্তেজনায় ভরা ম্যাচ হবে বলে প্রত্যাশা। কারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য যে ধরনের দ্রুতগতির ও বাউন্সি পিচ দরকার, তার সবকিছুই আছে।

বেলেরিভ ওভাল, হোবার্ট: সিডনির আছে বালমেইন, মেলবোর্নের উইলিয়ামসটাউন, পার্থের ফ্রিম্যান্টল এবং হোবার্টের বেলেরিভ, এটি ঐতিহাসিক বন্দর। সেখানেই অবস্থিত বেলেরিভ ওভাল। ১৯১৪ সালে বেলেরিভ ওভালে হয়েছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক ক্রিকেট ম্যাচ। তবে ক্রিকেট তাসমানিয়া নদীর ওপার থেকে এসে এখানে স্টাম্প পুতেছিল ১৯৮৭ সালে। দ্য ওভাল গত কয়েক বছর ধরে সংস্কারের মধ্যে ছিল। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই তৈরি হয় রিকি পন্টিং স্ট্যান্ড, এর ধারণক্ষমতা ২০ হাজার।
ইউডি/সুপ্ত

