টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ডাচদের বিপক্ষে স্বস্তির জয়ে টাইগারদের মিশন শুরু

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ডাচদের বিপক্ষে স্বস্তির জয়ে টাইগারদের মিশন শুরু

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার , ২৪ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৩:৪৫

২০০৭ সালের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বে জয় বঞ্চিত ছিলো টাইগাররা। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্স মোটেও আশা জাগানিয়া ছিলো না। অনেক যদি-কিন্তু’র ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ অবশেষে স্বস্তির জয় পেলো। সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের বিপক্ষে সম্ভাবনায় নিজেদের এগিয়ে রেখেছিল নেদারল্যান্ড। কিন্তু ম্যাচ শেষে ৯ রানে জিতেছে সাকিব আল হাসানের দল।

বাংলাদেশের দেয়া ১৪৫ রানের লক্ষ্য জয়ের মূল কারিগরই ছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। প্রথম দুই বলে দুই উইকেট তুলে চাপে ফেলে দেন ডাচদের। সেই চাপের কাছে মাথা নত করে রান আউটে পড়েছে আরও দুই উইকেট। তাতে ১৫ রানেই ৪ উইকেট পড়েছে। স্কট অ্যাডওয়ার্ডস ও অ্যাকারম্যান ৪৪ রানের জুটিতে ইনিংস মেরামত করলেও লাভ হয়নি তাতে। পরে অ্যাকারম্যান তো লড়াকু এক ফিফটিতে চেষ্টা করে গেছেন। ৪৮ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রান করা এই ব্যাটারকে দলীয় ১০১ রানে থামিয়েছেন তাসকিন। শেষমেষে ইনিংসের শেষ বলে ডাচরা অলআউট হয় ১৩৫ রানে।

এর আগে, সোমবার হোবার্টের ম্যাচে টস পক্ষে আসেনি বাংলাদেশের। শুরুটা ভালো হলেও ব্যাটাররা প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। কিছু দায় উইকেটের ছিল। তবে ৮ উইকেটে ১৪৪ রানে আটকে যাওয়ার মতো কঠিন উইকেটও ছিল না। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের শুরু করেন সৌম্য সরকার, দুই বাউন্ডারি থেকে নেন ১২ রান। এরপর চতুর্থ ওভারে এসে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকান শান্ত। অনেকদিন ধরে ধুঁকতে থাকা উদ্বোধনী জুটিত স্বস্তি খুঁজে পায় বাংলাদেশ। ৩০ ম্যাচ আসে ৪০ রান ছাড়ানো শুরুর জুটি।

টার্নিং পয়েন্ট দুই রান আউট

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে এসে প্রথম ছন্দপতন হয় বাংলাদেশের। ভ্যান মেকেরেনের করা দ্রুতগতির শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে মিডউইকেটে ধরা পড়েন সৌম্য। দুই চারে ১৪ বলে ১৪ রান করেন তিনি, দলের রান তখন ৪৩। পরের ওভারের প্রথম বলে শান্তকেও হারায় বাংলাদেশ। এবার সুইপ করতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন শান্ত। ৪ চারে ২০ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান। নিজের ইনিংসকে বড় করতে পারেননি লিটন দাসও। ১১ বলে ৯ রান করে ভ্যান বিকের বলে টম কুপারের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দলের বড় ভরসার জায়গাজুড়ে। কিন্তু তাকে ফিরতে হয়েছে ডি লেডের দুর্দান্ত এক ক্যাচ হয়ে। ৯ বলে ৭ রান করে শারিজের বলে বাউন্ডারি লাইনে লাফিয়ে ধরা ক্যাচে সাজঘরে ফিরতে হয় সাকিবকে। মাত্র ২০ রানের ভেতর চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এর মধ্যেই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ, যদিও ওভার কমেনি। দলের বিপদ আরও বাড়ে ইয়াসির আলি রাব্বি ফিরলে। এরপর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন নুরুল হাসান সোহান ও আফিফ হোসেন।

দারুণ কিছু বাউন্ডারি হাঁকান আফিফ, মাঝে প্রিঙ্গেল তার ক্যাচও ছাড়েন। ১৮তম ওভারের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২ চার ও সমান সংখ্যক ছক্কায় ২৭ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের রানের ভিতটা শক্ত করেন মূলত মোসাদ্দেক হোসেন। আট নম্বরে নামা এই ব্যাটার ২ চার ও ১ ছক্কায় ১২ বলে করেন ২০ রান। ডাচদের পক্ষে দুই উইকেট করে নিয়েছেন পল ভ্যান মেকেরেন ও ভাস ডি লেডে।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading