রাজনীতির মাঠে উত্তাপ: গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই
শাখাওয়াত হোসাইন । বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ২১:১৫
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০২৪ সালে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে। তবুও এর মধ্যে রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নির্বাচনী হাওয়া। আমাদের দেশের রাজনীতিতে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য যে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে শুরু হয় নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক। বর্তমান সরকারের অধীনে না অন্য কারো অধীনে নির্বাচন এ নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, অতিকথন যা রাজনীতিতে দেখা দিতে পারে নানা অঘটন। আমরা মনে করি গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তাই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা হোক। সাংবিধানিক ধারায় যথাসময়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক।
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংবিধান মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারের মেয়াদ ৫ বছর। ৫ বছর পরপর দেশের নির্বাচন হয় যাকে আমরা জাতীয় নির্বাচন বলি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের বৈধ পথ হচ্ছে নির্বাচন। গণতন্ত্রে বিভিন্ন দল থাকবে মতের মানুষ থাকবে বিরোধী দল থাকবে এগুলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্র শিক্ষা দেয় সহনশীলতার, সহমর্মিতার, অপরের মতামতকে সম্মান জানানো। বরং গণতন্ত্র হচ্ছে সব দল-মতের মানুষকে একীভূত করে দেশের উন্নয়ন ঘটানো। সারা বিশ্বের বিভিন্ন শাসনব্যবস্থার মধ্যে গণতন্ত্র হচ্ছে সর্বগ্রহণযোগ্য ও শ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা। অন্যান্য শাসনব্যবস্থার বিপরীতে গণতন্ত্র জনগণই ক্ষমতার উৎস। সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশবাসী প্রত্যাশা করে। জনগণ চায় এমন একটি নির্বাচন যে নির্বাচনে রাজনৈতিকদলগুলো ও জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। দীর্ঘ কয়েক বছর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ তারা করেনি। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে। সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হবে এবং দেশবাসী প্রত্যাশা করে সে নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। জনগণ চায় দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের গতিকে অব্যাহত রাখা। তাই ভোটাররা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে আগামী নির্বাচনে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো।
আগামী ২০২৪ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখনো এক বছরের বেশি সময় রয়েছে। সাধারণ মানুষের মন কীভাবে জয় করা যায় কীভাবে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা যায় সেসব বিষয়ে বড় দু’দলের নেতারা নানাভাবে জনগণের আস্থা অর্জনে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিয়ে তারা বিভাগীয় সভা-সমাবেশ করছে। বিএনপি’র অভিযোগ, তাদের সভা সমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন তৎপরতা সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে ভোটের প্রস্তুত হওয়ার তাগাদা। বড় দুটি দলই নির্বাচনে জিততে চায়। নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে উভয় দলই মরিয়া। তারা দলীয় কোন্দল মিটিয়ে দলের মধ্যে একটা পরিচ্ছন্ন ভাবধারা গড়ে তুলে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে। তাই আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ-সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে এমনটি আশা করেন দেশবাসী। আগামী নির্বাচনকে সব দলের অংশগ্রহণের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যবস্থা সরকারকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সব দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সততা, নিরপেক্ষতা, কর্মতৎপরতায় আগামী নির্বাচন অবাধ, সর্বজনগ্রহণযোগ্য হোক এটাই দেশবাসীর কামনা।
লেখক: সাংবাদিক
ইউডি/সিফাত/সুপ্ত

