নাসার ছবিতে প্রকাশ পেল মিথেন গ্যাসের ‘সুপার-এমিটার’ অঞ্চল
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ২৩:০০
মধ্য-এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৫০টির বেশি মিথেন গ্যাসের ‘সুপার-এমিটার’ এলাকা চিহ্নিত করেছে নাসার স্পেকট্রোমিটার। নাসা গত জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ‘ইমেজিং স্পেকট্রোমিটার’ বসিয়েছে। এর মূল লক্ষ্যই ছিল বায়ুমণ্ডলে ভেসে থাকা ধুলা আর বিশ্বের যে অঞ্চলগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ হয় সেগুলো খুঁজে বের করা।
মঙ্গলবারেই ‘সুুপার-এমিটার’ অঞ্চলগুলোর ছবি প্রকাশ করেছে নাসার জেপিএল। এর একটি ছবিতে তুর্কমেনিস্তানের তেল ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে নিঃসরণ হওয়া মিথেন গ্যাস উঠে এসেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এর মধ্যে এক জায়গায় জমাট বাাঁধা মিথেন গ্যাসের দৈর্ঘ্য ছিল ৩২ কিলোমিটারের বেশি।নাসার গবেষকদের অনুমান, তুর্কমেনিস্তানের উৎসগুলো থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ হাজার ৪০০ কিলোগ্রাম মিথেন গ্যাস নিঃসরণ হচ্ছে।

মিথেন গ্যাসের বড় দুটি উৎসের সন্ধান মিলেছে নিউ মেক্সিকো এবং ইরানে। এ দুটি উৎস থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজার কেজি মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে নাসা। জেপিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিথেন গ্যাসের উৎস হিসেবে এই দুটি অঞ্চলের ব্যাপারে আগে থেকে জানা ছিল না বিজ্ঞানীদের। টানা এক বছরের মিশন শেষে ইএমআইটি ভূপৃষ্ঠে মিথেন গ্যাসের কয়েকশ বড় বড় উৎস আবিষ্কার করবে বলে আশা করছেন নাসা।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা বলছে, নাসার স্পেকট্রোমিটার যে এলাকাগুলোকে মিথেন গ্যাসের ‘সুপার-এমিটার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার কয়েকটি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আগে থেকে জানা থাকলেও বাকিগুলো নতুন আবিষ্কার; বেশ কয়েকটি তেল ও গ্যাসক্ষেত্র আছে এর মধ্যে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার উচ্চতায় ভাসমান আইএসএসে চড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একবার করে পৃথিবীকে ঘিরে চক্কর দিচ্ছে স্পেকট্রোমিটার। ফুটবল মাঠের সমান তুলনামূলক ছোট স্থান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি একই সময়ে বেশ কয়েক মাইল এলাকা জুড়ে নজর রাখার সক্ষমতাও আছে এর। ইএমআইটি যত জায়গায় জমাট বাঁধা মিথেন গ্যাস চিহ্নিত করেছে তার মধ্যে কয়েকটি এযাবৎকালের মধ্যে সর্ববৃহৎ – মহাকাশ থেকে পর্যবেক্ষণে আগে এমন কিছু ধরা পরেনি, বলেছেন জেপিএলের গবেষক দলের সদস্য অ্যান্ড্রু থর্প।
ইউডি/সুপ্ত

