মীরসরাইয়ে ড্রেজারডুবি: খোঁজ মেলেনি ৪ শ্রমিকের
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৯:০১
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামে ড্রেজার ডুবে নিখোঁজ আট শ্রমিকের মধ্যে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট চার শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ড্রেজারের ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
উদ্ধার হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন জাহেদুল, মাহমুদ ও ইমাম। তারা সবাই পটুয়াখালীর জৈনকাঠি এলাকার বাসিন্দা।
ইউএনও বলেন, ‘সকালে ওই ড্রেজারের কম্পার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ড্রেজারটি উঠানো যায়নি। তাই উদ্ধারকারীরা ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহগুলো বের করার চেষ্টা করছেন।’
এর আগে মঙ্গলবার রাতে একজনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস। শুরুতে গণমাধ্যমকে তার নাম জাহেদুল জানানো হলেও পরে জানানো হয় নিহতের নাম আল আমিন।
ড্রেজারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা শ্রমিক মো. সালাম জানান, সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ে সৈকত-২ নামে তাদের ড্রেজারটি মীরসরাই উপকূলের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ডুবে যায়। ড্রেজারের মালিক সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানকে মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে নিয়োগ দিয়েছে বেপজা। ড্রেজারটিতে থাকা ৯ শ্রমিকের মধ্যে তিনি কিনারে আসতে পারলেও বাকি আট শ্রমিক আটকা পড়েন।

মীরসরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে একজনের লাশ উদ্ধারের পর রাত ১২টায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ (বুধবার) সকাল ৯টা থেকে পুনরায় উদ্ধার শুরু হয়। আরও তিন শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’
বিকেলে কোস্টগার্ড মীরসরাই স্টেশনের সিপিটি অফিসার (সিপিও) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ডুবুরি দল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আর কোনও লাশ পাওয়া যায়নি। ড্রেজারটি পানিতে উপুড় হয়ে ডুবে যাওয়ায় ভেতরের দুটি কম্পার্টমেন্টে ঢোকা যাচ্ছে না। ওই কম্পার্টমেন্টে বালু ভরাট হয়ে গেছে। ড্রেজারটি উদ্ধারে ক্রেন প্রয়োজন। বিকেল পর্যন্ত কোনও ক্রেন না আসায় উদ্ধার অভিযানে অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।’
ইউডি/এআই

