আন্দোলনে খেলা হবে, বিএনপি থেকে সাবধান: ওবায়দুল কাদের
আসাদ এফ রহমান । রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১১:৩০
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে, কেউ হারাতে পারবে না। আন্দোলনে খেলা হবে। বিএনপি থেকে সাবধান। শনিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁও শেরেবাংলা নগর পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি এত তাফালিং করতেছে কেন জানেন? এর উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, ভোট হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হেরে যাবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে না দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যত নাচানাচি লাফালাফি করুক তাদের সঙ্গে জনগণ নেই।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল টাকার বস্তার ওপর শুয়ে আছেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ফখরুল এখন চাঙা হয়ে গেছে৷ টাকা পাচ্ছে তো। টাকারে টাকা! আরব আমিরাতের দুবাইয়ের টাকা। এই তো এলো টাকা। ফখরুল মহাখুশি। টাকা পাইলেই তার দল খুশি। টাকা ওড়ে আকাশে, বাতাসে; টাকা ওড়ে পাড়ায়-মহল্লায়। আমরা খবর নিচ্ছি। কারা টাকা পাঠায়। খোঁজ পেয়েছি, ব্যবস্থা হবে।
টাকার খেলা হবে না, খেলা হবে জনগণের মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, খেলা হবে, আন্দোলনে খেলা হবে, নির্বাচনে খেলা হবে। ভোট চুরির বিরুদ্ধে, ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলা হবে। যারা ১৭ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তাদের বিরুদ্ধে খেলা হবে, প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে খেলা হবে।
বিএনপি স্বাধীনতার আদর্শ গিলে ফেলেছে দাবি করে তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশশুদ্ধ গিলে ফেলবে। সাবধান, বিএনপি থেকে সাবধান। বড় লোকদের বাড়ির সামনে লেখা থাকে কুকুর থেকে সাবধান। আমরা বলি, বিএনপি থেকে সাবধান।
বিএনপি মারমুখি আচরণ করছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাবধান থাকতে হবে না? দেখেন না কি রকম মারমুখো? মরণ কামড় আর জীবন কামড়। যে কামড়ই দেন। বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়কের ভূত মাথা থেকে নামিয়ে ফেলুন। সেটা আর হবে না। আদালত মিউজিয়ামে পাঠিয়েছে। আমাদের দোষ নেই। আমরা তো নিষিদ্ধ করিনি। বিএনপি নির্বাচনে যাবে। গাধা পানি ঘোলা করে খায়। সময় আসলে দেখা যাবে।
রংপুরে বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রংপুরে একটি সমাবেশ হচ্ছে। আপনারা কেউ জানেন? কত রঙ্গ দেখাইলারে জাদু, কত রঙ্গ দেখাইলা! রংপুরে রঙ্গে রঙ্গের নাটক। তিন দিন আগে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে রংপুরে এনে সব শোয়াইয়া রাখছে। মঞ্চের সামনে শুয়ে আছে। মঞ্চের ওপরে শুয়ে আছে। বাড়ির ছাদের ওপর, গুদাম ঘরে শুয়ে আছে।
মির্জা ফখরুলকে টেলিভিশনে আওয়ামী লীগের সম্মেলন দেখার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, রংপুরের ছবিও দেখুন। আপনারটাও দেখুন। আমাদেরটাও দেখুন। এখানে তো শেখ হাসিনা নাই। দেখাবো, পলোগ্রাউন্ডে দেখাবো। সেখানে ১০ লাখ লোকের সমাগম হবে। শেখ হাসিনা যাবে। আপনারা ১০ লাখ মুখে বলবেন, আমরা বাস্তবে দেখাবো। আপনাদেরটা বাস্তবে সত্য নয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমøলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কামরুল ইসলাম; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

‘বিএনপিকে মোকাবিলা করার সক্ষমতা আমাদের আছে’: আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আজকের মহাসমাবেশ, এর উচ্ছ্বাস, প্লাবন মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। আজকে যারা সরকারের পতন ঘটানোর জন্য হুঙ্কার দিচ্ছেন, তারা ভুলে যান কেন যে তারা ২০১৪ সালে তাøব করেছেন, ১৫ সালে আগুন সন্ত্রাস করেছেন। তখন খালেদা জিয়া লেজ গুটিয়ে নিয়ে গুলশানে চলে গেছেন। আপনাদের মোকাবিলা করার সক্ষমতা আমাদের আছে। সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, বিএনপি সভা সমাবেশ করছে। আমাদেরও আগামী এক বছরে অনেক কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগের থানা-ওয়ার্ড, ইউনিট কমিটির উদ্যোগে বড় জনসভা করতে কেন্দ্রের বা মহানগরের অনুমোদন প্রয়োজন নেই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্ধিত সভা, বিশেষ সভা, জনসভা করতে করো নিদের্শনার প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওয়ার্ড, ইউনিট বা থানা কমিটি যে কোন কর্মসূচি দিতে পারে। তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বরের পর নাকি খালেদা জিয়া দেশ চালাবেন। আগামী দুই মাস ঢাকা শহরে বিশাল বিশাল জনসভা করে জানান দিব সাংগঠনিক শক্তি। বুঝিয়ে দিব কারা দেশ চালাবে। আর কারা সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী।

‘মন্ত্রিপরিষদও গঠন করেছে বিএনপি’: আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পরিকল্পনা করে বিএনপি মন্ত্রিপরিষদও গঠন করেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন ধরে শুনছি ১০ ডিসেম্বর তারা (বিএনপি) ঢাকা দখল করবে, আমাদের তাড়িয়ে দেবে। আমরা শুনছি, তারা ডিক্লিয়ার করে নাই। আমরা শুনছি, তারা মন্ত্রিপরিষদও গঠন করে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণকে নিয়ে চলে দাবি করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, এ দেশের জনগণ ভুল করবে না। তারা আবারও ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে আওয়ামী লীগ সুপ্রতিষ্ঠিত নাই। সারা দেশের মানুষ মনে করে, যত দিন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ চলবে, তত দিন দেশ আলোকিত থাকবে। নেতা-কর্মীদের প্রতি ঐক্যের ডাক দিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘সবাই আমরা একসঙ্গে চলব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।

‘তত্ত্বাবধায়ক নয়, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী’: প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, বিএনপি এখন বড় বড় কথা বলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে নাকি তারা নির্বাচনে আসবে না। আমরা বলে দিতে চাই, সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। কোনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। তারা নির্বাচনে আসলে আসবে, না আসলে নাই।বিগত এক-এগারোর সরকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগ নেত্রীকে জেলে রেখে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা সফল হয়নি। আগামীতে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর পেছনে থেকে জেলার পাঁচটি আসনে এমপি উপহার দেবে।

‘আওয়ামী লীগকে জনগণ দেখাতে আসবেন না’: আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলার সম্মেলনে ‘বাণিজ্য মেলার মাঠ জনগণে টিটম্বুর’ বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জনগণ দেখাতে বাড়ন করে নানক বলেন আওয়ামী লীগ জনগণেরই দল। তিনি বলেন, বিএনপি দেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়। আমরা বেঁচে থাকতে সেটি হতে দেবো না, দেবো না। নানক অভিযোগ করে বলেন, জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে বঙ্গবন্ধু, শেখ কামাল, শেখ রাসেলকে হত্যার দায়ে তার ফাঁসি হতো। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নানক বলেন, আজকে ঐক্যবদ্ধতার মধ্য দিয়ে সত্তরের নির্বাচনের চেতনায় আগামী নির্বাচনকে আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে ইনশাআল্লাহ।

‘শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না’: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। কাউকে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না। জনগণ বিশঙ্খলা পছন্দ করে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যাবো আমরা। বিএনপি হলো খুনি দল। তারা ১৫ আগস্টের খুনি, ২১ আগস্টের খুনি। এই অপশক্তি রুখে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এদেশের মানুষ শান্তি চায়, শিশুরাও শান্তি চায়, সেই পথেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্বে একটা সংকট দেখা দিয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে। তারপর মানুষের কষ্ট হচ্ছে আমরা জানি। এ কষ্ট সাময়িক, তাই সাময়িক কষ্ট সকলে মিলে মোকাবিলা করতে হবে।

‘সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আমরা প্রতিহত করব’: আওয়ামী লীগ সকল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম। বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, যারা পাকিস্তানি ভাবধারার, তারা যড়যন্ত্র শুরু করেছে। এর আগে সংবিধানকে পদদলিত করেছে, সাম্প্রদায়িক সংঘাত করেছে বিএনপি-জামায়াত।তিনি বলেন, তারা আন্দোলন সংগ্রামের নামে সন্ত্রাস করতে চায়। কোনো যড়যন্ত্র আমরা মেনে নেব না। সকল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আমরা প্রতিহত করব। সম্মেলনে আগতদের স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা জেলার সম্মেলন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

ইউডি/সুপ্ত

