টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাইগারদের শ্বাসরুদ্ধকর জয়
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৩:১৫
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের লড়াইয়ে জিম্বাবুয়েকে ৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫০ রান করে। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৮ উইকেটে ১৪৭ রান করতে পারে জিম্বাবুয়ে। তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে নতুন ইতিহাস লেখা হয়ে যায় বাংলাদেশের। এবারই প্রথম নির্দিষ্ট কোনও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেলো লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
সাকিবদের এই জয়টাও এলো নানা নাটকীতায়। জয় উদযাপন করেও আবার মাঠে নামতে হয় বাংলাদেশকে! মোসাদ্দেক হোসেনের করা শেষ ওভারের শেষ বলে স্টাম্পিং হলেন ব্লেসিং মুজারাবানি। ১ বলে ৫ রানের প্রয়োজনীয়তা তাতে মিটলো না জিম্বাবুয়ের। বাংলাদেশের জয় উৎসব হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা গেলো উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান স্টাম্প ক্রস করার আগেই বল গ্লাভসে নিয়েছিলেন। আসে ‘নো’ বলের সিদ্ধান্ত। সেসময় জিম্বাবুয়ের শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার পড়ে ৪ রান। একটা বাউন্ডারি হলেই হয়। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে অবশ্য বাংলাদেশই হেসেছে। মোসাদ্দেকের শেষ বলটা ব্যাটেই লাগাতে পারেননি মুজারাবানি।
এর আগেও উত্তেজনার কমতি ছিল না ব্রিসবেনের ম্যাচটিতে। শুরুতে চাপে পড়লেও উইলিয়ামসের ব্যাটে আশা বাড়তে থাকে জিম্বাবুয়ের। চমৎকার ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। তার আউটেও আছে চরম উত্তেজনা। নিজের বলে নিজেই ফিল্ডিং করে দু্র্দান্ত থ্রোতে উইলিয়ামসকে রান আউট করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৪২ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৬৪ রান করেছেন উইলিয়ামস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন রায়ান বার্ল। এই ব্যাটার অপরাজিত ছিলেন ২৭ রানে। ২৫ বলের ইনিংসে তিনি মেরেছেন ২ চার ও ১ ছক্কা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চলছে তাসকিন আহমেদের ‘ম্যাজিক’। অন্তত প্রথম ওভারের পারফরম্যান্সে সেটি বলাই যায়। নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও যে প্রথম ওভারে উইকেট পেলেন এই পেসার। উইকেট উদযান করতে মাত্র ৩ বল লেগেছে বাংলাদেশের। তাসকিনের হাত ধরে এসেছে প্রথম সাফল্য। এই পেসারের আগের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন ওয়েসলি মাধেভেরে। পরের বলেই ডিপ থার্ডম্যানে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ধরা পড়েন জিম্বাবুয়েইন ব্যাটার। ফেরার আগে ৩ বলে ১ বাউন্ডারি করেন ৪ রান।
তাসকিনের গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আলো ছড়ালেন মোস্তাফিজ। বল হাতে নিয়েই উইকেট পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার। শুরুটা মিল্টন শুম্বাকে দিয়ে। এই আউটে সাকিব আল হাসানের অবদান কম নয়। বাংলাদেশ অধিনায়ক নিয়েছেন চমৎকার এক ক্যাচ। শুম্বা স্টেট ব্যাট খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল উঠে যাওয়ায় মিডঅফে ঝাঁপিয়ে দারুণ এক ক্যাচ নিয়েছেন সাকিব। ফেরার আগে শুম্বা ১৫ বলে করেন ৮ রান।
এর আগে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সময় পার করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সৌম্য সরকার ও লিটন দাস বিদায় নিলেন দ্রুত। তৈরি হলো চাপ। ওই মুহূর্তে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে পথে ফেরান শান্ত। শুধু তা-ই নয়, হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসও খেলে ফেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। তবে দলের অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় স্কোর খুব বড় হয়নি বাংলাদেশের। শান্তর ৭১ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫০ রান করেছে বাংলাদেশ।
ইউডি/এজেএস

