কোকেনে আসক্ত ছিলেন ওয়াসিম আকরাম
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৪:১৫
খেলা ছাড়ার পর কোকেনে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। ‘সুলতান: আ মেমোরি’ নামক আত্মজীবনীতে চমক জাগানিয়া এই তথ্য তুলে ধরেছেন ইতিহাসের সর্বকালের সেরা পেসারদের অন্যতম ওয়াসিম।
টেস্ট ও ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ওয়াসিম ১৮ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ২০০৩ সালে। এরপর বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেট ধারাভাষ্য দেয়ার সময় থেকে কোকেন নেওয়া শুরু করেন তিনি। ওয়াসিমের আত্মজীবনী এখনও প্রকাশ পায়নি। তবে সেটির কিছু অংশ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস’-এ গতকাল শনিবার প্রকাশিত তার সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন ৫৬ বছর বয়সী ওয়াসিম।
তিনি বলেন, আমি যা ইচ্ছা তাই করতে চাইতাম; পার্টি করতে পছন্দ করতাম। দক্ষিণ এশিয়ায় খ্যাতির ধরনটা সর্বগ্রাসী, প্রলুব্ধ করে এবং মনকে বিপথে ঠেলে দেয়। এখানে এক রাতে দশটি পার্টিতে যাওয়া সম্ভব এবং কেউ কেউ যায়ও। এটি আমার ওপর প্রভাব ফেলেছিল। ওয়াসিম বলেন, সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, আমি কোকেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলাম। এটা ধীরে ধীরে শুরু হয়েছিল, যখন আমাকে ইংল্যান্ডের একটা পার্টিতে এটার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এরপর আমি এটা আরও বেশি করে ব্যবহার করতে থাকি। এক পর্যায়ে আমার মনে হতে থাকে, ঠিকমতো কাজ করার জন্য এটা আমার লাগবেই।

কীভাবে তার স্ত্রী কোকেনের প্রতি তার আসক্তি ধরে ফেলেন এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, সেটিও তুলে ধরে এই সুইং মাস্টার জানান, এক সময় হুমা আমার বিষয়টি বুঝে ফেলে, আমার মানিব্যাগে কোকেনের একটি প্যাকেট পায় সে… বলল, তোমার সাহায্য দরকার। আমি রাজি হয়ে গেলাম। কোকেন নেয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। আমি নিজেকে সামলাতে পারতাম না। আমি ঘুমাতে পারতাম না, খেতে পারতাম না। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকেও অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলাম, যার কারণে আমার মাথাব্যথা হতো ও মেজাজ খারাপ হতো।
ওয়াসিম পরে পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানকার জীবন কতটা কষ্টের ছিল, সেটিও জানান তিনি। এমনকি ওই সময়ে বিবাহবিচ্ছেদের কথাও নাকি ভেবেছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯১৬ উইকেট শিকারি। ২০০৯ সালে বিরল ছত্রাক সংক্রমণে ওয়াসিমের প্রথম স্ত্রী হুমার মৃত্যু হয়। স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা তাকে নাড়িয়ে দেয় এবং ভয়ানক নেশার অন্ধকার পথ থেকে বেরিয়ে আসেন বলে আত্মজীবনীতে লিখেছেন ওয়াসিম। তিনি বলেন, হুমার শেষ নিঃস্বার্থ কর্মকাণ্ড আমাকে মাদক সমস্যা থেকে বের করে এনেছিল। জীবনের সেই পথ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং আমি আর পেছনে ফিরে তাকাইনি।
ইউডি/সুপ্ত

