উল্কার আঘাতে কেঁপে উঠেছিল মঙ্গল

উল্কার আঘাতে কেঁপে উঠেছিল মঙ্গল

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০২ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৮:৫০

আগামী চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে অভিযান সমাপ্ত করবে নাসার ইনসাইট ল্যন্ডার। এর আগে নাসা জানালো, এই গ্রহে একটি উল্কার আঘাত হানার কথা ইনসাইট শনাক্ত করেছিলো। নাসা জানায়, মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি বিশাল আকারের বরফের খণ্ড উপড়ে ফেলেছিল উল্কাপিণ্ডটি।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গল গ্রহে একটি উল্কার আঘাতে ৪ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর ফলে মঙ্গলের বুকে তৈরি হয় বিশাল গর্ত। এটিকে এখন পর্যন্ত গ্রহটিতে শনাক্ত করা সবচেয়ে বড় উল্কার আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এ তথ্য জানিয়েছে।

এক প্রতিবেদনে এপি জানিয়েছে, উল্কা আঘাত হানার সময় মঙ্গলের মাটিতেই ছিল নাসার ইনসাইট মহাকাশ যান। প্রায় চার বছর আগে মঙ্গলে অবতরণ করা যানটি ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর উল্কার আঘাতে মঙ্গলপৃষ্ঠে সৃষ্ট ভূকম্পনটির রেকর্ড ধারণ করে। এই কম্পনের কারণ সম্পর্কে তখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মহাকাশ যান মার্স রিকনেসান্স উল্কার আঘাতে সৃষ্ট গর্তের ছবি তুলেছে। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে এটি আঘাতের স্থানের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। এরপরই ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল।

ছবিতে দেখা যায়, ৪৯২ ফুট প্রশস্ত এবং ৭০ ফুট গভীর এক গর্ত তৈরি হয়েছে মঙ্গলে। ১৬ বছর আগে থেকে গ্রহটি প্রদক্ষিণ করছে স্যাটেলাইট। এবারই প্রথম এরকম বৃহৎ কোনো গর্তের ছবি তোলা সম্ভব হলো। ইনসাইট এবং এমআরও মিশনে কাজ করা ইনগ্রিড ডাবা সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা এ রকম বড় কিছু দেখবো কল্পনা করিনি।

সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখের ইনস্টিটিউট অফ জিওফিজিক্সের বিজ্ঞানী ডাইওন কিম বলেছেন, আমাদের এখনও মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং গতিশীলতা বুঝতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে ইনসাইট ও এমআরও মিশনে কর্মরত ইংগ্রিদ ডাউবার বলেন, আমরা এ রকম বড় কিছু দেখব কল্পনা করিনি। মঙ্গলে উল্কা আঘাত হানার ঘটনা বিরল কিছু নয়। তবে সে আঘাতে এত বড় প্রভাব পড়ার ঘটনা এবারই প্রথম।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ভূকম্পনের তরঙ্গ গ্রহের কেন্দ্র এবং ভূত্বকের ওপরে সমান্তরালভাবে ছড়িয়েছে। এতে করে প্রথমবারের মতো মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ গঠন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন তারা। এছাড়াও উল্কা আছড়ে পড়ার সময় রেকর্ড হওয়া এক অডিও ফাইল প্রকাশ করেছে নাসা। বিজ্ঞানীদের দাবি, উল্কা ভূপাতিত হওয়ার ওই ঘটনা খতিয়ে দেখার মধ্য দিয়ে গ্রহের অভ্যন্তর সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানা যাবে।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading