টরেন্স পাড়ে পদ্মা-গঙ্গার লড়াই
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০২ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৯:৪১
অ্যাডিলেডকে বলা হয় সংস্কৃতির শহর। বছরের নানা সময় এখানে উৎসব লেগেই থাকে। এই যেমন শীত চলে যাওয়ার আগে শীতকালীন বিদায় উৎসব হচ্ছে টরেন্স নদীর পাড়ে। এর পাশে বিশাল এক অডিটোরিয়াম আর নদীর এক কোল ঘেঁষে বসেছে এশিয়ান ফেস্টিভাল। এশিয়ার প্রায় সব দেশের সংস্কৃতির পসরা সাজিয়েছে আয়োজকরা। যেখানে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্বও করছে একটি দল।
টরেন্সের পূর্ব পাড়ে যখন সংস্কৃতির উৎসব, পশ্চিমে পদ্মা-গঙ্গার লড়াইয়ের উত্তাপ। আসলে উত্তাপ বলাও ঠিক হবে কি না সেটা নিয়ে তুমুল আলোচনা হতে পারে। প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার লড়াইয়ে আগেই তো জল ঢেলে দিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
২০১৫ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছিল সেই হাওয়া এতটাই প্রবল ছিল যে, মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দিতো। হ্যাঁ, প্রতিপক্ষকে সম্মান জানাতো ঠিকই। কিন্তু কখনও নিজেদেরকে খাটো করে নয়। বাংলাদেশের সুখস্মৃতির ভেন্যু অ্যাডিলেড ওভাল। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে এই মাঠে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

সেই মাঠে আরও একবার পা রেখে সাকিবের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকার কথা। কিন্তু মাঠে নামার আগে সাকিব ইন্ডিয়াকে যে স্থানে রেখেছেন সেটা বাস্তবতা হলেও নিজেদেরকে হারিয়ে খুঁজছেন বোঝাই যাচ্ছে। ‘ইন্ডিয়া ফেভারিট দল। তারা এখানে বিশ্বকাপ জিততে এসেছে। আমরা ফেভারিট নই, বিশ্বকাপ জিততে এখানে আসিনি।’– অ্যাডিলেডের সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন সাকিব।
২২ গজের লড়াইয়ে পারবেন কি পারবেন না সেটা থেকে জরুরি নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী রাখা। অন্তত প্রতিপক্ষকে নিজেদের দুর্বলতা বুঝতে না দেওয়া। কথার লড়াইয়ে ম্যাচের আগে অধিনায়করা, কোচরা উত্তাপ ছড়িয়ে দেন। সেটা মাঠের ক্রিকেটেও প্রতিফলন হয়। কিন্তু সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে থাকা বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান যেন ‘আত্মসম্পর্ণই’ করলেন প্রতিপক্ষের সামনে। ভারতকে শুধু ফেভারিটই মানেননি বরং বাংলাদেশ কোনোভাবে যদি মাঠের ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারে সেটা হবে অঘটন।

অথচ এই ভারতকে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র ১ রানের জন্য হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে হারাতে পারেনি সামান্য রানের ব্যবধানে। সেই সময়গুলোতে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে কথা বলা, মাঠে নামার আগে ঝাঁজ ছড়িয়ে দেওয়া ছিল নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার আরেকটি কৌশল। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয় নিজেদের অবস্থান, শক্ত হয় মনোবল। কিন্তু এবার সেমিফাইনালে যাওয়ার ভালো সুযোগ থাকার পরও নিজেদের গুটিয়েই নিল বাংলাদেশ!
পঞ্চাশ হাজার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন অ্যাডিলেড ওভালের গ্যালারিতে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়াবেন সমর্থকরা। থাকবে ইন্ডিয়ার ঝাণ্ডাও। সমর্থকরা বাংলাদেশের জয় দেখতেই আসবেন। সাকিবরা সেই জয় উপহার দিতে পারবেন কি না সময় বলে দেবে। সাকিবের চোখে ভারতকে হারানো যদি অঘটন হয়ে থাকে তাহলে আজ অঘটনই ঘটুক। অ্যাডিলেড ওভালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর নাসের হুসেইন বলেছিলেন, ‘হিস্ট্রি ফর বাংলাদেশ ক্রিকেট।’ আজ সেরকই কিছুই শোনাক না হার্শা ভোগলে, রবী শাস্ত্রী, সুনীল গাভাস্কার কিংবা আতাহার আলী খান।
ইউডি/এআই

