রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ার ঊর্ধ্বগতি: ভাড়াটিয়াদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
আতিকুর রহমান । রবিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৮:১৫
দেশে বাড়িভাড়া সংক্রান্ত একটি আইন রয়েছে। কিন্তু এ আইনের প্রচার না থাকায় অধিকাংশ মানুষ এ ব্যাপারে অজ্ঞ। এর ফলে ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে বাড়িওয়ালাদের দৌরাত্ম্য সহ্য করে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই বছর বছর ভাড়া বৃদ্ধি করা যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। অনেক ভাড়া বাড়িতে প্রয়োজনীয় পানি ও গ্যাস পাওয়া যায় না। কিন্তু তাতে কী! ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের কোনো ধরনের শিথিলতা নেই।
মূলত বাড়ি ভাড়া আইনের প্রয়োগ, এ আইন বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও সঠিক নির্দেশনার অভাবে বাড়িওয়ালারা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অধিকাংশ মানুষ জানে না, কোথায় গেলে এ বিষয়ে সঠিক প্রতিকার পাওয়া যাবে। ফলে দেশে আইন থাকতা সত্ত্বেও বাড়িওয়ালাদের অনৈতিক ভাড়াবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ড বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বাড়িভাড়া আইন তার এলাকার বাড়িওয়ালার মেনে চলছে কিনা তা তদারকির দায়িত্ব নিতে হবে। যৌক্তিক মাত্রায় বাড়িভাড়া নির্ধারণের পাশপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভূমিকা রাখতে হবে, যা অধিক জরুরি ।
কেননা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে তাল মিলিয়ে রাজধানীতে নীরবে বাড়ছে এই বাসা ভাড়া, দেখার যেন কেউ নেই যা সত্যি দুঃখজনক। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বেড়েছে ব্যয়, বাড়েনি মানুষের আয়। ঠিক এ সময়ে বাসা ভাড়া বাড়াচ্ছেন বাড়িওয়ালারা, যা সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর এই ভাড়া বৃদ্ধি যেন ভাড়াটিয়াদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। শুধু কি তাই দেশে পাগলা ঘোড়ার পিঠে চেপে ক্রমেই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। পাশাপাশি বেড়েছে সংসারের খরচও, ভাঙতে হচ্ছে সঞ্চয়ও। সবমিলিয়ে চরম হিমশিমে নগরীর মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ফলে কেউ ঝুঁকছেন সাবলেটে, কেউ যাচ্ছেন এক রুমের আধাপাকা বা টিনশেডের বাড়িতে। আবার কেউ যাচ্ছেন শহর ছেড়ে গ্রামে কিংবা ঢাকার আশপাশের নিম্ন ভাড়ার বাড়িগুলোতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খরচের সাথে সমন্বয় করতেই ভাড়াটিয়াদের কেউ ফ্ল্যাট শেয়ারে ঝুঁকছেন, কেউ পরিবার গ্রামে পাঠাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিকতার কারণে খরচা বেড়ে যাওয়ায় এমনটা হচ্ছে নগরবাসীর। তাই এটি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
করোনার সময় বাড়িওয়ালা ভাড়া কিছুটা কমালেও তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বাসা ভাড়া বাড়ানোর নোটিশ দিয়েছেন বাড়িওয়ালা। বর্তমানে অনেকেই কম খরচের ফ্ল্যাট খুঁজছেন। যদি না পান তাহলে সাবলেটে বা এক রুমের আধাপাকা বাড়িতে উঠার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। যেহেতু ব্যয় বেড়েছে, আয়-রোজগার বা বেতন বাড়েনি তাই টিকে থাকতে হলে তাকে অবশ্যই স্বল্প খরচের বাসস্থানে উঠতে হবে। বর্তমানে করোনার ঘাটতি পোষাতে ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কারণে ভাড়া বাড়াচ্ছেন তারা। তবে বেশিরভাগ বাড়িওয়ালা সঠিকভাবে এর সদুত্তর দিতে পারছেন না। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় অনেকে বাসা ছাড়ছেন। তাই প্রত্যেক মাসে এক-দুইটি ফ্ল্যাট খালি থাকছেই। আবার দুই পরিবার মিলে বাসা নিচ্ছেন অনেকে। সাবলেট দিলে ভাড়াটিয়া পাওয়া যাচ্ছে সহজেই। তা না হলে প্রত্যেক মাসে ফ্ল্যাট খালি থাকছেই। তাই সাবলেট দিতে ও নিতে আগ্রহী ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালারা।
দ্রর্বমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শুধু শহর নয় গ্রাম-গঞ্জের মানুষও খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে নগরের বাসিন্দারা তো আরো বিপাকে। তাই তারা খরচের সাথে সমন্বয় করতেই বাসা ভাড়াও কমাতেও চাচ্ছেন। ভাড়াটিয়া পরিষদের সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য মতে, বাড়িওয়ালারা সৃজনশীল পদ্ধতিতে বাসা ভাড়া বাড়াচ্ছেন। যেমন জানুয়ারিতে একবার বাড়াবে আবার ছয়মাস গেলেই আবার বাসা ভাড়া বাড়াবে। তারা ভাড়াটিয়াদের মানুষই মনে করে না। মন চাইলেই তারা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। এমন এক পরিস্থিতিতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের দৃশ্য উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অধিক জরুরি বলে মনে করছি। পাশাপাশি বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
লেখক: কলামিস্ট।
ইউডি/সুস্মিত

