খাদ্য সংকট মোকাবিলায় নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই

খাদ্য সংকট মোকাবিলায় নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই

মার্জিয়া সুলতানা । শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ০৭:৩০

বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব এবং দেশে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন করে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-বিলাসী পণ্য আমদানিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে; খাদ্য, সার ও জ্বালানির উপকরণ আমদানির জন্য এলসি খুলতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিতে হবে; সব খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বাজেটে বরাদ্দসীমার মধ্যে রাখতে হবে; বর্তমানে ডলারের দামের যে ব্যবধান আছে, তা পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা যায়, বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সব পক্ষকে করণীয় সম্পর্কে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে সব খাতে মিতব্যয়ী ও সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া সংকট মোকাবিলায় জনগণের মধ্যেও সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তোলার জন্য প্রচার চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা আশা করব, এসব নির্দেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে। বিভিন্ন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাবটি পড়বে আগামী বছর। এ কথা মাথায় রেখে যে বিষয়টি নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো খাদ্য নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ খাদ্যপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর দিকে। এজন্য কৃষকের হাতে সঠিক সময়ে বীজ, সার ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যেসব খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোও যথাসময়ে দেশে পৌঁছতে হবে। এদিকে ডলার সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোয় এলসি খোলার মতো পর্যাপ্ত ডলার নেই।

এ কারণে খাদ্য, জ্বালানি ও সার আমদানি করার এলসিও কম খোলা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও শিল্প উভয় খাতেই। অথচ সার ও ডিজেল আমদানি কম হলে কৃষি উৎপাদন বিঘ্নিত হবে। খাদ্যপণ্য আমদানি কম হলে দেশে খাদ্যের দাম বেড়ে যাবে। তাই এলসি খুলতে হবে দ্রুত। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী খাদ্য, জ্বালানি ও সার আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার মাত্রা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা মনে করি, সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করা সবচেয়ে জরুরি। তাই যত সমস্যাই থাকুক, এলসি খুলতে যেন বিলম্ব না হয়ে যায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয়া হলেও চাল আমদানি তেমন একটা বাড়েনি। চালসহ খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। সব কিছুর দাম যথেচ্ছ বাড়লেও মানুষের আয় বাড়েনি। ফলে খাদ্যাভাব, দারিদ্র, পুষ্টিহীনতা ও মানসিক বিপর্যয় সীমা ছাড়াতে বসেছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানির মাধ্যমে অবিলম্বে খাদ্যের নিরাপদ মজুদ গড়ে তুলতে না পারা, খাদ্যাভাবই বাড়বে না, দেশ দুর্ভিক্ষের মুখেও পড়তে পারে। বিশ্ব খাদ্য পরিস্থিতিও অত্যন্ত নাজুক। খরা-বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিভিন্ন দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে বা কমে গেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ খাদ্য পরিস্থিতিকে আরো ঝুঁকিতে নিক্ষেপ করেছে। যুদ্ধের কারণে খাদ্যের আমদানি-রফতানি বা অবাধ চলাচলে নজিরবিহীন সংকট দেখা দিয়েছে। সবমিলে যে অবস্থা, তাতে আগামী বছর বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে।

বিশ্ব খাদ্য পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ যাতে খাদ্যাভাব বা দুর্ভিক্ষের শিকার না হয় সেজন্য তিনি খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর তাকিদ দিয়েছেন। সকল খালি জায়গায় খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার এ আহ্বান অত্যন্ত যৌক্তিক, বাস্তবিক ও সময়ানুগ। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে খাদ্যশস্যসহ মাছ, পল্ট্রি, তরিতরকারি, শাকসবজি ও ফলফলারীর উৎপাদন বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, খাদ্যপণ্য বলতে শুধু চাল ও গমই বুঝায় না, আরো অনেক কিছুই খাদ্যপণ্যের অর্ন্তগত। কাজেই, কৃষিতে উৎপাদনের একটা জোয়ার তৈরি করতে হবে। কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য ইত্যাদি মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে বসে একটা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও উপায় নির্ধারণ করতে হবে এবং কাজে নেমে পড়তে হবে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে জনগণ উদ্বুদ্ধ হয়ে উৎপাদন বিপ্লবে শরীক হতে পারে। একইসঙ্গে গণমুখী কর্মসূচী, উৎপাদনমুখী প্রকল্প, বিনিময়মূলক কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একদিকে খাদ্যসংস্থান, অন্যদিকে কর্মের ব্যবস্থা করতে পারলে খাদ্যাভাব বা দুর্ভিক্ষ রোধ করা সহজ হবে।

লেখক- কলামিস্ট।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading