প্রজনন সংকটের মুুখোমুখি মানবজাতি!

প্রজনন সংকটের মুুখোমুখি মানবজাতি!

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৯:৩০

মানবজাতি শিগগিরই প্রজনন সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে সাবধান করেছেন গবেষকরা। শুক্রাণুর পরিমাণ কমা প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট বাড়বে বল জানিয়েছেন তারা। দুইশর বেশি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে জার্নাল হিউম্যান রিপ্রোডাকশন আপডেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সাবধানবাণী দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা।

তবে সর্বশেষ গবেষণায় তথ্যউপাত্ত নেওয়া হয়েছে ৫৩টি দেশ থেকে। এ গবেষণা বলছে, কেবল ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা আর অস্ট্রেলিয়াতেই নয়, শুক্রাণুর ঘনত্ব কমছে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার পুরুষদেরও। এ ঘনত্ব কমার হার বাড়ছেও উদ্বেগজনক হারে। সব মহাদেশের ১৯৭২ সাল থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, শুক্রাণুর ঘনত্ব প্রতি বছর ১ দশমিক ১৬ শতাংশ করে কমছে; ২০০০ সাল থেকে কমার এই হার বছরপ্রতি ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ করে।

ওই গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা। বলছে, ১৯৭৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গড় শুক্রাণু ঘনত্ব প্রতি মিলিলিটারে আনুমানিক ১০১ দশমিক ২ মিলিয়ন থেকে ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি মিলিলিটারে ৪৯ মিলিয়নে পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে শুক্রাণুর পরিমাণও কমেছে ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে প্রকাশিত একই দলের করা অপর এক গবেষণায় আগের ৪০ বছরে শুক্রাণুর ঘনত্ব অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে বলে জানানো হয়েছিল।

হিউম্যান রিপ্রোডাকশন আপডেট

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাজাই লেভিন জানান, এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করা দরকার। আমার মনে হয় এটি একটি সংকট, যা এখনই মোকাবেলা করা উচিত, কেননা পরে এটি এমন জায়গায় চলে যেতে পারে, যেখান থেকে আর ফেরার কোনো পথ থাকবে না।

আগের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শুক্রাণুর ঘনত্ব প্রতি মিলিলিটারে ৪০ মিলিয়নের নিচে নেমে এলে প্রজনন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ গবেষণায় ২০১৮ সালে গড় শুক্রাণু ঘনত্ব প্রতি মিলিলিটারে ৪৯ মিলিয়ন দেখা গেছে। লেভিন বলছেন, এটা গড় হিসাব; অর্থ্যাৎ, অসংখ্য পুরুষের শুক্রাণু ঘনত্ব এখনই প্রতি মিলিলিটারে ৪০ মিলিয়নের নিচে, এবং এই সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্রোলজির অধ্যাপক অ্যালান প্যাসি। তিনি জার্নাল হিউম্যান রিপ্রোডাকশন আপডেটে প্রকাশিত গবেষণা দলে ছিলেন না, তবে তাদের কাজের প্রশংসা করেছেন। এরপরও বলেছেন, শুক্রাণু কমছে কিনা এ নিয়ে তিনি এখনও সন্দিহান। এমনকী গবেষণাগারে সবচেয়ে সেরা পদ্ধতিতেও শক্রাণু গণনা বেশ কঠিন।

ইউডি/সুপ্ত

Taanjin

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading