সারাদেশে বেপরোয়া অজ্ঞান পার্টি: এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি
রোমানা পারভিন মনিরা । রবিবার, ২০ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:২০
অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা আবারও বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানীসহ সারাদেশে বেপরোয়া অজ্ঞান পার্টি। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, রাজধানীর শাহবাগে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন এক যুবক। ১৪ নভেম্বর সোমবার বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। কয়েকদিন আগে এক রিকশাচালকও অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। অবশ্য এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কজন অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা যায়, প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সেখানে চিকিৎসার জন্য যায়।
গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসে দুই শতাধিক মানুষ অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে। এদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ফেরি-ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন কোথাও নিরাপদ নয় কেউ। হকার কিংবা সহযাত্রী- বন্ধু সেজে সাধারণ মানুষের সবকিছু কেড়ে নেয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এদের দৌরাত্ম্য থামাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে। অনেককে ধরে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে তাদের কোনোভাবেই নির্মূল করা যাচ্ছে না। এজন্য পথচারী বা যাত্রী সবাইকে সতর্ক হতে হবে। অজ্ঞান পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান কাগজপত্র হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের খাওয়ানো নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিষক্রিয়ায় আবার কেউ কেউ প্রাণও হারান। এর নেপথ্যে রয়েছে তিন কারণ- অসচেতনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়া ও এই প্রতারণায় সহজ সাজা ও জামিন। আমরা মনে করি, প্রয়োজনে আইনের ধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। যাতে এদের দৌরাত্ম্য কমে আসে। এটা সত্য, অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা বেশির ভাগই গণপরিবহণ ও ভাসমান অবস্থায় অপরাধ করে। তাই এসব চক্র থেকে রক্ষায় জনসাধারণকেই বেশি সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে চলার পথে কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ও খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে। এদের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। তবে যারা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে তারা ঝামেলা এড়াতে অনেকে মামলা করে না। আবার মামলা বা গ্রেপ্তার হলেও স্বল্প সাজা ও জামিনে বের হয়ে যায় তারা। এসব প্রতারণায় আইন কঠোর হওয়া উচিত। তাহলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটা কমে আসবে। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদাসীনতার কারণেও অনেক সময় অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সজাগ ও সচেতন থাকা জরুরি।
অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা আবারও বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মোহাম্মদপুরের বসিলায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পুলিশ কর্মকর্তা মীর আব্দুল হান্নান মারা গেছেন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়। অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের খাওয়ানো নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে- অসচেতনতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঝিমিয়ে পড়া ও অপরাধীদের সহজ সাজা ও জামিন। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অজ্ঞান পার্টির বেপরোয়া হওয়ার নেপথ্যে তিনটি কারণ রয়েছে। দেখা যায়, অজ্ঞান পার্টির প্রধান টার্গেট থাকে সাধারণ যাত্রীরা। তারা বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এদের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। তবে যারা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে তারা ঝামেলা এড়াতে অনেকে মামলা করে না। আবার মামলা বা গ্রেফতার হলেও স্বল্প সাজা ও জামিনে বের হয়ে যায়। এসব প্রতারণায় আইন কঠোর হওয়া উচিত। তা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটা কমে যেত। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঝিমিয়ে যাওয়ায় অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বেড়ে গেছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সজাগ থাকা দরকার।
লেখকঃ সাংবাদিক
ইউডি/আতা/সুপ্ত

