প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিটি করপোরেশন ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চান যশোরবাসী

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিটি করপোরেশন ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চান যশোরবাসী

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৩:০৯

যশোরের শামস-উল হুদা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে ঘিরে ব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন এখানকার মানুষ। এই কর্মসূচি সফল করতে গত সাত দিন ধরে আওয়ামী লীগের নানা তৎপরতার মধ্যে শহরজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার এই আগমনকে ঘিরে তার কাছে দীর্ঘদিনের দুটি প্রাণের দাবির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তা হলো- যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা এবং যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকে রূপান্তর করা।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাচীন জনপদ যশোর, যা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় ২৪০ বছর আগে, ১৭৮১ সালে। যশোর পৌরসভা হয়েছে ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট, ১৫৭ বছর আগে। সেই সময়ের যশোর পৌর সমিতি স্বাধীনতার পর পৌরসভার মর্যাদা পায়। ইতিহাসের সাক্ষী এই পৌর শহর ১৪ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার, লোকসংখ্যা চার লাখ ৪৭ হাজার ৯১৪ জন।

ব্রিটিশরা ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়ালে যশোরে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, ছয় মাসের মধ্যে সেটি চালু হয়। ঘাঁটিটি ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সচল ছিল। ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাকিস্তান স্বাধীন হলে ১৯৫০ সালে যশোরে ফের বিমানঘাঁটি স্থাপন করে। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান আমলে ১৯৫৬ সালে যশোরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা চালু হয় ১৯৬০ সালে। সেটিই যশোর বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যশোরবাসী বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকে রূপান্তর করা এবং পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ, যশোরকে বিভাগ করা, ভৈরব নদ সংস্কার, ভবদহে জোয়ারাধার চালুসহ আরও কিছু দাবিও রয়েছে তাদের।

এর আগে ২০১২ সালে শহরের ঈদগাহ মাঠে আওয়ামী লীগের এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেন। সে সময় দাবিগুলো সামনে আসে। এবারও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার এই জনসভাকে নিয়ে স্বপ্নে বুক বাঁধছেন স্থানীয়রা।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বেশ কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, পৌরসভাটি সিটি করপোরেশন হলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। পদ্মা সেতু ও মধুমতি সেতু নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় এটি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তখন এটি আজ হোক আর কাল হোক বাস্তবায়ন হবেই।

তারা আরও বলেন, যশোরসহ এই অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিবেশী ইন্ডিয়ায় নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। আকাশপথে দেশটিতে যেতে হলে রাজধানী ঢাকা হয়ে যেতে হয়। এমতাবস্থায় যশোর বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক করা হলে এসব মানুষ উপকৃত হবে।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হয়েছে। তবে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি রয়ে গেছে। বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ হওয়ায় এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ঘোষণা প্রত্যাশা করছেন যশোরের মানুষ। এ ছাড়া অন্য দাবিগুলোও তিনি আগামীতে নজরে আনবেন বলে মনে করেন তারা।

যশোর শহরের রিকশাচালক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। দিন আনতে পান্তা ফুরায়। হাসপাতালটা ৫০০ সিটের হলে খুব ভালো হয়। অনেকে চিকিৎসা পাবে। পৌরসভা সিটি করপোরেশন হলে হয়তো রিকশা ছেড়ে অটোরিকশা চালাতে হবে। তবুও আমি চাই, সিটি করপোরেশন হোক, অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে নাকি।’

কেশবলাল সড়কের চায়ের দোকানি আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘যশোর অনেক পুরনো শহর। রাস্তা-ঘাট উন্নত হয়েছে। এখন এটি সিটি করপোরেশন হওয়া দরকার। আশা করি, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুটি করে দেবেন।’

বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির যশোর জেলা সভাপতি সাকির আলীর মতে, যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করার দাবি দীর্ঘদিনের। এটি হলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যাক্স ফি বাড়বে। তবুও আমাদের আকাঙ্ক্ষা সিটি করপোরেশন হোক। আর যশোর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইন্ডিয়া যান, সে কারণে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক করা হলে মানুষের উপকার হবে।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ বলেন, ‘বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক করা, হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, যশোর ও আশেপাশের ১০ কিলোমিটারের রাস্তাগুলো চার লেনে উন্নীত করা এবং পুরানো ম্যাপ অনুযায়ী ভৈরব নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর পর তিন মেয়াদে ক্ষমতায় এসে যশোরবাসীকে অনেক কিছু উপহার দিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন, মেডিক্যাল কলেজ দিয়েছেন, শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক দিয়েছেন, ভৈরব নদ খনন শুরু করেছেন। স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও কামলা সেতু করে দিয়েছেন। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের কিছু প্রাপ্তি বাকি আছে। তিনি আরও উপহার দেবেন বলে আমরা আশা করি।’

ইউডি/এআই

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading