ইরানের পতাকা থেকে ‘আল্লাহ’ শব্দ বাদ: আমেরিকার ফুটবল ফেডারেশনের ধৃষ্টতা
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৫:৩০
ইরান-আমেরিকা বৈরিতা দীর্ঘদিনের। দু’দেশের রাজনৈতিক কোন্দল এবার ছড়ালো ফুটবলেও। ইরানের পতাকা অবমাননা করে চরম ধৃষ্টতা দেখালো আমেরিকার ফুটবল সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস সকার ফেডারেশন (ইউএসএসএফ)’। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে সেই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর আসন্ন আমেরিকা-ইরান বিশ্বকাপ ম্যাচ ভিন্ন এক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। বিস্তারিত লিখেছেন বিনয় দাস
পতাকা অবমাননা নৈতিকতার সীমা লংঘন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেপথ্যে থাকা আমেরিকা এবার ইরানের সার্বভৌমত্বেও আঘাত হেনেছে। পুরো বিশ্ব যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে স্থবির তখনই ইরানের সঙ্গেও ভিন্ন এক খেলায় মত্ত হলো আমেরিকা। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন ইরানের পতাকা থেকে ‘আল্লাহ’ শব্দটি বাদ দিয়ে দেশটির মর্যাদায় আঘাত হেনেছে। পুলিশ হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হিজাববিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান। শুরু থেকেই এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে আমেরিকা। এবার সেই আন্দোলনের সমর্থনে ইরানের পতাকা বিকৃতি করে চরম ধৃষ্টতা দেখালো দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। একটি দেশের পতাকা অবমাননা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পতাকা দেশের ধারক ও বাহক, দেশের গর্ব। আমেরিকা ইরানের নারীদের সমর্থন দিতে গিয়ে দেশটিকেই অপমান করেছে। মানবাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে তারা একটি রাষ্ট্রের সম্মানে আঘাত হেনেছে। আমেরিকার সরকারের উচিৎ রাষ্ট্রীয়ভাবে ইরানের কাছে ক্ষমা চাওয়া। ইরানের পতাকা অবমাননার জেড়ে দুদেশের ম্যাচ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। ম্যাচটি রূপ পাচ্ছে ভিন্ন এক যুদ্ধের, যা মাঠের খেলারও ঊর্ধ্বে।

আমেরিকার বিরুদ্ধে ফিফা কি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে: প্রবল ক্ষমতাধর রাস্ট্র আমেরিকার বিরুদ্ধে ফিফা কি বড় ধরণের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে? ফিফার গঠনতন্ত্র বলছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ফিফার কোনো সদস্য দেশের জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচিতি ও প্রতীকের অবমাননা করে তাহলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী অন্তত ১০টি ম্যাচ থেকে বাদ পড়বে। এই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই ফিফার কাছে আবেদন করেছে ইরান। যদিও ফিফার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ইরানের দাবি মেনে প্রতিবাদীদের আটকানোর নির্দেশও দেয়নি ফিফা। তবে, ফিফা যদি এই আবেদন গ্রহণ করে তাতে আমেরিকা আগামী ১০ ম্যাচ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ থাকবে। সেটা বিশ্বকাপের মতো আসরে এলে তা হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম এক নজির। এছাড়াও প্রতিপক্ষ দেশের সম্মানহানি ঘটে এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে ফিফা’র সদস্য দেশগুলোও দারুণ এক বার্তা পাবে।

ইরান চায় নিষেধাজ্ঞা,আমেরিকার পিছুটান: ইরানের ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যেই তাদের জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে ফিফার এথিকস কমিটির কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফিফার আইনকেই হাতিয়ার মানছেন তারা। ইরানের ফেডারেশন বলেছে, আমেরিকার ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা কঠোর নেওয়া হয়। বিশ্বকাপের আসরে রাষ্ট্রীয় অভ্যন্তরীণ ইস্যুর প্রতিবাদ বন্ধ করার জন্যও ফিফার কাছে আবেদন করেছে ইরান। আমেরিকাকে কমপক্ষে ১০টি ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এ ব্যাপারে আমেরিকার ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, পতাকা থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতীক সরিয়ে দিয়ে তারা মাহসা আমিনির মৃত্যু এবং ‘মৌলিক অধিকারের জন্য লড়াইরত ইরানি নারীদের সঙ্গে সংহতি’ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বলেছে, ২৪ ঘন্টার জন্য তাদের গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ইরানের নারীদের প্রতি আমাদের সমর্থন দেখাতে চেয়েছে। এদিকে, পতাকা বিতর্কের রেশ বিশ্বকাপ ভেন্যুতেও দেখা দিয়েছে। ইরান ও আমেরিকার দুদেশের সাংবাদিকদের মধ্যেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে বুধবারের ম্যাচ নতুন ঘিরে নতুন এক চ্যালেঞ্চে ফিফা।
ইউডি/এজেএস

