এক টেবিলে নাশতা করলেন রওশন-কাদের

এক টেবিলে নাশতা করলেন রওশন-কাদের
কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শীর্ষ দুই নেতা দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া জি এম কাদের রওশন এরশাদের শারীরিক বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৯:১৭

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। এ সময় নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব ভুলে গিয়ে এক টেবিলে নাশতা করেন জাপার এই দুই নেতা।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে তাদের দুজনের সাক্ষাৎ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপার কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু, রওশন এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদ ও তার স্ত্রী।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু জানান, অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে তাদের দুজনের সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা এক টেবিলে বসে নাশতা করেছেন। সেখানে শুধু তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন।

‘প্রতিটি দলের অভ্যন্তরেই ঝামেলা থাকে। তবে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের মধ্যে কোনো দূরত্ব ছিল না। তারা সব সময় এক সঙ্গেই ছিলেন। আসলে জি এম কাদের দলকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে গেছেন’, বলেন শফিকুল ইসলাম।

কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শীর্ষ দুই নেতা দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া জি এম কাদের রওশন এরশাদের শারীরিক বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’

এর আগে গত রোববার দুপুরে প্রায় পাঁচ মাস পর থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন রওশন এরশাদ। এখন রাজধানীর একটি হোটেলে অবস্থান করছেন তিনি।

কেন দ্বন্দ্ব

জাতীয় পার্টিতে ভাবি-দেবরের এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখান থেকে রওশনের পাঠানো এক চিঠিকে কেন্দ্র করে। ৩১ অক্টোবরের ওই চিঠিতে হঠাৎ করে তিনি ২৬ নভেম্বর দলের সম্মেলনের ডাক দেন। পরে অবশ্য তা স্থগিত করা হয়।

জি এম কাদের ও তার অনুসারীরা রওশনের এই ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রওশন এমনটা করতে পারেন না।

এর পাল্টা হিসেবে রওশনকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরিয়ে জি এম কাদেরকে সেই পদে বসাতে স্পিকারকে চিঠি দেয় জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল। এ বিষয়ে এখনও স্পিকারের দপ্তর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

এরপর দলটির সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধার করা একটি মামলায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরের দলীয় যাবতীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার ওই অস্থায়ী আদেশ দেয়। তবে মঙ্গলবার এ নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়ালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

ইউডি/এআই

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading