‘ইতিহাস সৃষ্টি করতে’ ৩ চীনা নভোচারীর মহাকাশ যাত্রা
সেখানে থাকা নভোচারীরা নতুনদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। নতুন নভোচারীরা মহাকাশ স্টেশনটিতে ছয় জনের থাকার ব্যবস্থা করতে কাজ করবেন। এটি সফল হলে চীনের মহাকাশ প্রকল্প ইতিহাস সৃষ্টি করবে।
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:৫৪
নাসার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পর পৃথিবীর নিম্ন-কক্ষপথে তিয়ানগং নামে আরো একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করেছে চীন। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন নভোচারী একসঙ্গে সেই স্টেশনে পৌঁছেছেন। বুধবার (৩০ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার চীনের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৮ মিনিটে গোবি মরুভূমি থেকে ‘লংমার্চ-২এফ’ রকেটে তিন নভোচারী মহাশূন্যে রওনা দেন। তাদের সঙ্গে ছিল মহাকাশযান ‘শেনঝু-১৫’ অর্থাৎ ‘স্বর্গযান’।
উৎক্ষেপণের ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর মহাকাশযানটি স্টেশনে পৌঁছায় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্টেশনে থাকা নভোচারীরা নতুন সদস্যদের সাদরে বরণ করে নেন।
সেখানে থাকা নভোচারীরা নতুনদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। নতুন নভোচারীরা মহাকাশ স্টেশনটিতে ছয় জনের থাকার ব্যবস্থা করতে কাজ করবেন। এটি সফল হলে চীনের মহাকাশ প্রকল্প ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

২০১১ সালে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসার মহাকাশ কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার পর নিজস্ব স্টেশন তৈরি করে চীন।
তিয়ানগং স্টেশনটি প্রায় এক দশক মহাকাশে থাকবে। এই সময়টির মধ্যে শূণ্য-মাধ্যাকর্ষণে সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।
চীনের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান চায়না ম্যানড স্পেস স্টেশনের (সিএমএসএ) প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন তিন নভোচারী মহাকাশ স্টেশনটিতে যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন কাজ করবেন। ধারণা করা হচ্ছে আগামী বছরের মধ্যে স্টেশন তৈরির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।
আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী ফেডারেশনের নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ক্রিশ্চিয়ান ফেচিংগার বলেছেন, ‘বিশ্ব এখন চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ সামর্থ পর্যবেক্ষণ করছে।’
‘শেনঝু-১৫’ নভোযানে যে তিন জন গেছেন তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৫৭ বছর বয়সী ফি জাংলং। তিনি ২০০৫ সালে শেংঝৌ-৬ মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেটি ছিল তার প্রথম মহাকাশ মিশন। আগামী এক দশকে চীন প্রতি বছর দুইবার মহাকাশে নভোচারী পাঠাবে।
ইউডি/এআই

