লিওনেল মেসির সামনে বিশ্বকাপের হাতছানি
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৩:২৫
কাতার বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ফুটবলে সবকিছু জয় করা মেসির সামনে এবার অধরা বিশ্বকাপের হাতছানি। এ নিয়ে আসাদ এফ রহমানের প্রতিবেদন
মেসির আর একটি গোল রেকর্ড গড়বে: ক্লাব ও জাতীয় দলে সম্ভাব্য সব ট্রফি পেয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি। কেবল বিশ্বকাপ শিরোপাই এখনও জেতা হয়নি তার। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের সামনে এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা জেগেছে। অধরা সেই শিরোপার হাতছানি ফুটবল জাদুকরের সামনে। এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে অঘটনের শিকারের পর আর পেছনে ফেরে তাকায়নি মেসি ও তার দল। মেসির কাঁধে ভর করেই তৃতীয় শিরোপার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে লাতিন জায়ান্টরা। মেসি নিজে গোল করছেন, করাচ্ছেন সতীর্থদের দিয়েও। উপহার দিচ্ছেন দুর্দান্ত সব মুহূর্ত। নিজের শেষ বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা। অনেকের চোখে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে দেখা যাচ্ছে তার সেরা চেহারায়। ভাবনার পেছনের কারণও আছে যথেষ্ট। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে ৪ গোল করেছেন মেসি, করিয়েছেন দুটি। তিন ম্যাচে জিতেছেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ১০ গোলের রেকর্ডে গাব্রিয়েল বাতিস্তুতার সঙ্গী এখন লিওনেল মেসি। সিংহাসনে একা বসতে স্রেফ এক গোল চাই মেসির। আর সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বাধা টপকে ফাইনালে নাম লেখাতে মেসি যে তার সর্বোচ্চটা দেবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না, শেষ বিশ্বকাপটা যে শিরোপা নিয়েই রাঙ্গাতে চাইবেন এই জাদুকর।

মদ্রিচ বলছেন ফাইনালের জন্য তৈরি ক্রোয়েশিয়া: সেমিফাইনালের আগে যেন আর্জেন্টিনাকে একরকম হুমকি দিয়েই রাখলেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। একটি স্প্যানিশ গণমাধ্যমেক দেয়া সাক্ষাৎকারে মদ্রিচ বলেন, আমরা বড় টিমের বিপক্ষেই সেমিফাইনাল খেলতে চেয়েছি। মেসি নিশ্চিতভাবেই তাদের সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু আমরা তৈরি। নিজেদের সেরাটা দেওয়াই ফাইনালে ওঠার জন্য যথেষ্ট। রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলে রিয়াল মাদ্রিদের মতোই ডিএনএ রয়েছে। যারা সবসময় শেষ দেখেই ছাড়ে। কখনও হাল ছাড়ে না। চার বছর আগে বড় ব্যবধানে হারের যন্ত্রণা নিয়েই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোটদের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ক্রোয়েশিয়াও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ফাইনালের দিকে এক পা বাড়িয়ে রাখা আর্জেন্টাইনদের স্বপ্ন ধুলোয় মিশিয়ে দিতে তৈরি, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন ক্যাপ্টেন মদ্রিচ।
আর্জেন্টাইন শিবিরে উত্তেজনা তুঙ্গে: সৌদি আরবের বিপক্ষে হার দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে পথচলা শুরু করে আর্জেন্টিনা। এরপর চার ম্যাচে স্রেফ তিন গোল হজম করে ষষ্ঠবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠে তারা। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুইবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া। যেখানে একটি করে জয় দুই দলেরই। ১৯৯৮ সালে গ্রুপ পর্বে ১-০ গোলে জেতে লাতিন আমেরিকানরা। গত আসরে গ্রুপ পর্বেই তাদের ৩-০ গোলে হারিয়ে দেয় ক্রোয়েশিয়া। এবার প্রতিশোধের মিশন আর্জেন্টাইনদের। আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া সব মিলিয়ে পরস্পরের বিপক্ষে খেলেছে পাঁচটি ম্যাচ। যেখানে দুটি করে জয় দল দুটির। আরেকটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে হৃদয় ভাঙে লাতিন আমেরিকার দলটির।

সেমিফাইনাল খেলা মানেই আর্জেন্টিনার জয়: সেমিফাইনালের চারটি দলের মধ্যে ফাইনালের দৌড়ে একটু হলেও বেশি আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা। একটি পরিসংখ্যান বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে আলবিসেলেস্তদের। বিশ্বকাপে এর আগে চারবার সেমিফাইনালে খেলেছে আর্জেন্টিনা। একবারও হারেনি দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল খেলা মানেই জয়। সেমিফাইনালে ওঠা মানেই ফাইনালে খেলা। ১৯৩০ সালে আমেরিকাকে ও ১৯৮৬ সালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে দলটি। ১৯৯০ সালে ইতালিকে ট্রাইবেকারে আর ২০১৪ সালে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ফাইনালে নাম লেখে আকাশি-নীল শিবির।
ইউডি/এজেএস

