ইরানি ফুটবলারের মৃত্যুদণ্ড
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ২০:০০
ইরানে চলমান বিক্ষোভে জড়িত থাকার দায়ে দেশটির একজন ফুটবলারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
টেলিগ্রাফ ইউকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় দলের অধিনায়ক ও দেশটির অন্যান্য ক্রীড়াবিদ তাকে ক্ষমা করার অনুরোধ উপেক্ষা করে এই রায় দেয়া হলো।
২৬ বছর বয়সী আমির নাসর-আজাদানি নামে অভিযুক্ত বিক্ষোভকারী কৈশোরে ইরানের জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে খেলেছিলেন। সবশেষ তিনি ইরানজাভান বুশেহর এফসি ক্লাবে ডিফেন্ডার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ।
সেপ্টেম্বর মাসে ইস্ফাহানে একটি সশস্ত্র দাঙ্গায় নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য নিহতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোহারাবেহের (স্রষ্টার বিরুদ্ধে যুদ্ধ) অভিযোগ আনা হয়।
সম্প্রতি মোবারাবেহের অভিযোগে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় শঙ্কা রয়েছে ইরানের সরকার হয়তো ফুটবলার আমিরের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করতে পারে।
আমেরিকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, চলমান বিক্ষোভে জড়িত থাকায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন ফিফপ্রো এক টুইটবার্তায় বলেছে, নারী অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রচারণা চালানোর জন্য আমির মৃত্যদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন, এমন আশঙ্কায় তারা মর্মাহত ও অসুস্থবোধ করছেন।
টুইটবার্তায় ফিফপ্রো আমিরের সঙ্গে একাত্মতাও ঘোষণা করেছে এবং তার মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে সোমবার (১২ ডিসেম্বর) দেশটির পবিত্র শিয়া নগরী মাশহাদে মজিদ রেজা নামে এক ব্যক্তির জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
মজিদ রেজার বিরুদ্ধে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যকে হত্যার অভিযোগ করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। তাই মোহারেবেহর (স্রষ্টার বিরুদ্ধে যুদ্ধ) অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগের বার্তা সংস্থা মিজান জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে জানায়। মৃত্যুদণ্ড হওয়া ২৩ বছর বয়সি মোহসেন শেকারির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ মিলিশিয়ার একজন সদস্যকে ছুরিকাঘাতে আহত করেছিলেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি রাস্তা অবরোধে জড়িত ছিলেন।
পরে সেই আহত বাসিজ মিলিশিয়ার বাঁ কাঁধে ১৩টি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়েছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, শেকারি স্বীকার করেছেন পুলিশ কর্মকর্তাকে আঘাত দেওয়ার জন্য এক বন্ধু তাকে অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিল।
আদালত বলছেন, তিনি সমাজে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন।
২৩ অক্টোবর মোহারেবেহর (স্রষ্টার বিরুদ্ধে যুদ্ধ) দায়ে আদালত শেকারিকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। চলমান বিক্ষোভে মৃত্যুদণ্ড হওয়া শেকারিই প্রথম ব্যক্তি।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) শেকারির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।
আইএইচআরের পরিচালক আমিরি মোগাদ্দামের মতে, যদি এর কোনো শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া না হয়, তাহলে প্রতিদিনই ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ঘটবে।
আমিরি মোগাদ্দাম সিএনএনকে জানান, শেকারিকে কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই শো ট্রায়ালের (লোক দেখানো) মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তবে চলমান আন্দোলনে ইরানের প্রশাসন কঠোর হলেও বিক্ষোভ এখনও চলছে। ইরান হিউম্যান রাইটস বলছে, এরই মধ্যে চারশর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে ইরান বরাবরই এ বিক্ষোভকে পশ্চিমা চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করছে।
ইউডি/এ

