মেটার বিরুদ্ধে কেনিয়ায় মামলা
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ২২:০০
কেনিয়ার আদালতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে দুই বিলিয়ন আমেরিকান ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করা হয়েছে। ইথিওপিয়ায় অধ্যাপক মেয়ারেগ আমারে আবরা এর খুনের জন্য ফেসবুককে দায়ী করে কেনিয়ায় মামলাটি করেন নিহতের ছেলে আবরাম মেয়ারেগ।
বাদীর দাবি, ফেসবুকের অ্যালগারিদম বিদ্বেষমূলক কনটেন্টের ব্যাপক প্রচারের জন্য সহায়ক আর এমন কনটেন্টই তার বাবার খুনের ইন্ধন যুগিয়েছে।
বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।
মামলার নথির বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর ইথিওপিয়াতে টিগরে অঞ্চলে আততায়ীরা খুন করেন আবরামের বাবা মেয়ারেগকে। ইথিওপিয়ায় সে সময়কার গৃহযুদ্ধ চলাকালে মেরারেগকে অনলাইনে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
পাশাপাশি মেয়ারেগের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছিল। কনটেন্টগুলো সম্পর্কে ফেসবুকের কাছে ‘রিপোর্ট’ করেও আবরামের পরিবার কোনো প্রতিকার পায়নি বলেও মামলায় দাবি করা হয়। একাধিক বিদ্বেষমূলক কমেন্টের মধ্যে একটি মেয়ারেগের মৃত্যুর পর আর অন্যটি সে বছরের ৮ ডিসেম্বরের পর সরিয়ে নেয় ফেসবুক।
এজন্যই বাবার মৃত্যুতে ফেসবুকের দায় দেখছেন ছেলে আবরাম। আবরাম বলছেন, ফেসবুকের অ্যালগারিদম বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন।
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ফেসবুকের একটি কনটেন্ট মডারেশন হাব (অনানুষ্ঠানিক কার্যালয়) রয়েছে। সেজন্যই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহায়তায় নাইরোবির একটি আদালতে মামলা করেন আবরাম।
আবরাম তার বাবার মৃত্যুর জন্য দুই বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ফেসবুকের বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট এর কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদের সহায়তার জন্য এই অর্থ দিয়ে তহবিল গঠন করার দাবি তোলেন তিনি। একইঙ্গে ফেসবুকের অ্যালগারিদম নীতিতেও পরিবর্তন আনার পাশাপাশি মেটার পক্ষ থেকে ‘ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা’র দাবিও করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মেটা জানায়, আমরা স্থানীয় জ্ঞান এবং দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী নিয়োগ দেই এবং দেশটিতে বহুল প্রচলিত ভাষায় প্রচারিত বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট শনাক্ত করতে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সবসময় কাজ করে যাচ্ছি; আমরাহিক, অরমো, সোমালি এবং টিগরিনিয়া এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
ইথিওপিয়ার মাত্র ১০ শতাংশ জনগণ ফেসবুক ব্যবহারকারী হলেও অতি গুরুত্বপুর্ণ অঞ্চল হিসেবে ফেসবুক দেশটিকে বিবেচনা করে বলেও জানায় মেটা।
ইউডি/এ

