টুইটারকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৯:২২
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে সাংবাদিকদের অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ডের নিন্দা করেছে জাতিসংঘ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটিকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এমনটাই বলা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে।
এক টুইটবার্তায় জাতিসংঘ বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খেলনা নয়। অন্যদিকে ইইউ টুইটবার্তায় সরাসরি টুইটার ইনকরপোরেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে।
জাতিসংঘের বৈশ্বিক যোগাযোগবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিং জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের ইচ্ছামতো টুইটারে সাসপেন্ডের ঘটনায় তিনি খুবই বিরক্ত।
তিনি বলেন, ‘মুক্ত গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর এবং ক্ষতিকারক বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধানতম হাতিয়ার।’
এর আগে শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার ভেরা জাউরোভা টুইটারকে ইউরোপের নতুন ডিজিটাল সেবা আইনের অধীনে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখানো দরকার।
ভেরা জাউরোভা বলেন, ‘ইলন মাস্কের এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। শেষ সীমা বলে একটা কথা আছে এবং নিষেধাজ্ঞা, শিগগিরই।’
তবে সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বাকস্বাধীনতার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করা হচ্ছে টুইটারের পক্ষ থেকে।
প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র আমেরিকার একটি প্রযুক্তিবিষয়ক সাইটকে বলেছেন, লাইভ ডেটা শেয়ারের কারণে অ্যাকাউন্টগুলো সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ইলন মাস্কের একটি বিমানের লাইভ অবস্থান শেয়ার করা নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত।
অ্যাকাউন্ট সাসপেনশনের বিষয়ে একটি টুইটের জবাবে মাস্ক বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের জন্য একই রকম ডক্সিং (ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে টুইটারের নীতিমালা) নিয়ম; যা অন্য সবার জন্য প্রযোজ্য।’
মাস্ক আরও বলেন, ‘সারা দিন ধরে আমার সমালোচনা করা সম্পূর্ণ ঠিক, তবে আমি বর্তমানে কোথায় আছি তা প্রকাশ করা এবং আমার পরিবারকে বিপদে ফেলা ঠিক নয়।’
যাদের অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—টাইমসের রিপোর্টার রায়ান ম্যাক, ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টার ড্রু হারওয়েল, সিএনএনের রিপোর্টার ডনি ও’সুলিভান, মাশাবেলের রিপোর্টার ম্যাট বিন্ডার।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘আজ রাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের রায়ান ম্যাকসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সাংবাদিকের টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা দুর্ভাগ্যজনক। টাইমস বা রায়ান কেউই কেন এমনটি ঘটেছে সে সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা পাননি। আমরা আশা করি সব সাংবাদিকের অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং টুইটার এ পদক্ষেপের জন্য সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেবে।’
গত অক্টোবরে ৪৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে ইলন মাস্ক টুইটার অধিগ্রহণ করেন। এর পরই তিনি টুইটারে নিজের বিষয়ে লেখেন ‘চিফ টুইট’ (টুইটারপ্রধান)। এপ্রিল থেকে ইলনের টুইটার কেনার বিষয়ে প্রযুক্তিজগতে আলোচনা চলছিল।
তবে মাঝে কিছু সময় টুইটারে বট প্রোফাইল (ফেক অ্যাকাউন্ট) থাকার অভিযোগ এনে চুক্তি স্থগিত করেছিলেন তিনি।
ইউডি/এ

