বরখাস্তের পরও অফিস করছেন মেয়র, তুলেছেন ৩২ লাখ টাকার বিল

বরখাস্তের পরও অফিস করছেন মেয়র, তুলেছেন ৩২ লাখ টাকার বিল

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৫:০৩

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র আল মামুন খানকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ২২ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারির পর চিঠিও পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তার পরও ২২ দিন ধরে অফিস করছেন বরখাস্তকৃত মেয়র মামুন।

শুধু তা-ই নয়, মন্ত্রণালয়ের চিঠি গোপন করে এ সময়ের মধ্যে তিনি ৩২ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে বরখাস্ত মেয়রের দাবি, মন্ত্রণালয়ের চিঠি তিনি পেয়েছেন দেরিতে।

২২ নভেম্বর পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা আল মামুন খানকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর মেয়রের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন এক নারী। মামলার পর ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক মেয়র মামুনকে বরগুনা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৬ দিন জেল খেটে অস্থায়ী জামিনে বের হন। তার বিরুদ্ধে মামলা এখনও বিচারাধীন।

ওই নারী জানান, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হলে তালাক হয় তাদের। এরপর গত বছর মেয়র মামুনের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরিচয়ের খাতিরে মেয়র তার দায়িত্ব নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় মেয়র ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি মামলা করেন ওই নারী। তবে মামলা তুলে নিতে তাকে নানা হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুঠিয়া পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর জানান, বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) মেয়রের বরখাস্তের বিষয়ে জানতে পেরেছেন তারা। এর আগে দীর্ঘ এক মাস মেয়র জেলে থাকায় পৌরসভার কাজে এসে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় নাগরিকদের। সমান বিপাকে পড়তে হয়েছে কাউন্সিলরদেরও।

মেয়র বরখাস্ত হলেও গত ২২ দিনে তিনি পৌরসভার চলমান উন্নয়ন কাজের বিল পরিশোধের নামে অন্তত ৩২ লাখ টাকার বিলে সই করেছেন। পাশাপাশি পৌরসভার বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন বলেও একাধিক কাউন্সিলর অভিযোগ করেন।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বরখাস্তের বিষয়টি আমরা অফিসিয়ালি জানতে পেরেছি ১৪ ডিসেম্বর। এরপর প্যানেল মেয়রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।’

পৌরসভার প্যানেল মেয়র কামাল হোসেন বলেন, ‘চেক পাওয়ারসহ আমাকে ক্ষমতা হস্তান্তরের চিঠি পেয়েছি।’

এদিকে বরখাস্ত মেয়র আল মামুন খান বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্য মেয়র পদ থেকে আমাকে সরানো হয়েছে। একটি মামলায় আমি কারাগারে ছিলাম। জামিনের পর ৪ নভেম্বর থেকে আবারও দায়িত্বে বসি। বরখাস্তের বিষয়টি আমি কোনোভাবেই অবগত ছিলাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী মেয়র হতে পারেননি। আমার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতারা মডিফাই করে ওই নারীকে দিয়ে ধর্ষণের মামলা করিয়েছেন। এর আগে বিএনপির আসাদুল হক আসাদ পৌরসভার মেয়র হওয়ার পর তাকেও ১৪ মাস পর জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়।’

বরখাস্তের পরও আল মামুন খানের মেয়রের দায়িত্ব পালন ও ৩২ লাখ টাকার বিল পরিশোধসহ আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, ‘যদি এমন কিছু ঘটে থাকে তবে বর্তমানে যিনি প্যানেল মেয়র আছেন তিনি অভিযোগ দিলে প্রচলিত যে আইন আছে সে অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading