‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দায়িত্ব বাংলাদেশের একার নয়, বিশ্বমোড়লদেরও’
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৮:২৯
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের একার নয়, বরং বিশ্বের মোড়ল হিসেবে পরিচিত দেশগুলোরও দায়িত্ব আছে।’
তিনি বলেন,‘সত্তর থেকে নব্বই দশকেও রোহিঙ্গারা এ দেশে এসেছেন, তাদেরকে ফেরতও নিয়েছে মিয়ানমার। কারণ তখন বিশ্বমোড়লদের কার্যকর উদ্যোগ ছিল। সে সময় অথনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল মিয়ানমারের ওপর। তবে বর্তমানে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে।’
রোববার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে সিলেট নগরীর ধোপাদিঘিরপাড়ে হাফিজ কমপ্লেক্সে আল খায়ের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মানুষের মধ্যে হুইল চেয়ার ও সেলাই মেশিন বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা কদিন পর পর আমাদের দেশে আসেন। সত্তর দশকে আসছে, আশি ও নব্বইয়ের দশকে আসছেন। পরবর্তী সময়ে মিয়ানমার সরকার তাদের নিয়েও গেছে, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে। এবারে সংখ্যাটা অনেক বেশি। একেবারে ১১ লাখ।
‘তারা (মিয়ানমার) কিন্তু কখনোই বলে নাই, এদেরকে নেবে না। আমরা তাদের বলেছি, তোমরা নিয়ে যাও। তারা বলছে, নেবে। আমরা বলেছি, এদের নিয়ে তোমরা নিরাপত্তা দেবে। তারা বলছে, দেবে। আমরা বলেছি, তোমাদের দেশে এরা যাতে স্বেচ্ছায় যেতে চায়, যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করো। বলছে, করবো।’
‘সবকিছুতেই রাজি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত, পাঁচ বছর পার হয়েছে, একটাও লোক নেয় নাই। একটা রোহিঙ্গাও ফেরত যায় নাই। ওদের (মিয়ানমার) আন্তরিকতার অভাব। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে, দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক…আমরা এমনকি কোর্টেও গেছি’, যোগ করেন মোমেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নতুন একটা প্রজেক্ট নিয়েছি। সব যদি নাও যেতে পারে, কিছু লোককে অন্য দেশে (পাঠানো)। আমাদের দেশ খুবই ঘনবসিতপূর্ণ, প্রতি বর্গ মাইলে প্রায় ২৯শ লোক থাকে। আর আমেরিকায় মাত্র ৪০ জন থাকে। ইউরোপে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ জন লোক থাকে। ওদের দেশটা অনেক বড়।
আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার শুরু করেছে, এর সমাধানও তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।’
এ সময় সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি/এ

