ভিসা পেতে মন্দিরে ভিড়
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ২১:৩০
সাধারণত বিদেশে যেতে দূতাবাসে ভিড় করেন ভিসাপ্রত্যাশীরা। তবে ইন্ডিয়ার তামিলনাড়ুর বাসিন্দারা ভিসা পাওয়ার জন্য দূতাবাসে নয়, বরং ভিড় করেন মন্দিরে। শুনতে অবাক লাগলেও গত এক দশক ধরে চেন্নাই বিমানবন্দরের কয়েক মাইল উত্তরের শ্রী লক্ষ্মী ভিসা গণপতি মন্দিরের চিত্র এ রকমই।
মন্দিরে আগতদের বিশ্বাস, ‘অঞ্জনির পুত্র’ হনুমানও ভিসা সুরক্ষিত করার ক্ষমতার অধিকারী। এই মন্দিরে হনুমান ‘আমেরিকা অঞ্জনেয়া’ এবং ‘ভিসা অঞ্জনেয়া’ উপাধি পেয়েছে। কারণ শক্তি ও গৌরবের প্রতীক হনুমানের আরেক নাম ‘অঞ্জনেয়া’।
মন্দিরটি বিশেষ করে আমেরিকার ভিসাপ্রাত্যাশীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি স্থান হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তার বিদেশ যাওয়ার মনোবাসনা জানিয়ে এখানে পূজা দেন। দারুণ স্বাদের খাবার, প্রাচীন সব মন্দির-গির্জা, সিল্কের শাড়ি, শাস্ত্রীয় সংগীত, নৃত্যকলা আর ভাস্কর্যের জন্য চেন্নাইয়ের খ্যাতি সর্বত্র। এ সবের সঙ্গে এখন পরিচিত হয়ে উঠছে এই ‘ভিসা মন্দির’।
মন্দিরের সচিব জিসি শ্রীনিবাসন জানান, ২০১৬ সাল পর্যন্ত মন্দিরটির এত জনপ্রিয়তা ছিল না। এমনকি তখন পর্যন্ত এটি ‘ভিসা মন্দির’ নামেও পরিচিত ছিল না। এখানে এসে ভিসার জন্য প্রার্থনা করে সফল হওয়া কিছু লোক তাদের কথা ছড়িয়ে দিলে এর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।
মন্দিরে আসা জ্যোতি বন্থা নামের একজন বলেন, ‘চেন্নাইয়ের ইউএস কনস্যুলেটে ভিসার জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকার কোনো রকম ঝঞ্ঝাট ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। তাই ঠাকুরকে ধন্যবাদ জানাতে ফিরে এসেছি। ঠাকুরের কারণে তারা আমাকে তেমন কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। আমি এতে অবাক হয়েছি।’
জ্যোতির পাশেই ভিসা আবেদনের ফরম হাতে জড়সড় দাঁড়িয়ে ছিলেন বন্ধু ফণী ভিরাঙ্কি। দুজনই প্রতিবেশী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। তাদের ইচ্ছা এক সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে যাওয়া। টেলিগ্রাম থেকে এই ভিসা মন্দিরের খোঁজ পান তারা।
ভিরাঙ্কি বলেন, ‘আমার পরিবারে আমিই প্রথম যে আমেরিকায় যাব। স্বাভাবিকভাবেই মা আমাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে আমেরিকায় আমার জন্য যে সুযোগগুলো অপেক্ষা করছে, সে সবের জন্য আমি উত্তেজিত।’
ইউডি/এ

