ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৭:৩০
দেশের সব ইতিহাস-অর্জনের সাক্ষী, আন্দোলন ও সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেওয়া গর্বের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার (৪ জানুয়ারি)।
এ উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
এদিন সকাল ৮টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ অনেকে শ্রদ্ধা জানান।
এসময় সভাপতি সাদ্দাম বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়া ছাত্রলীগের লক্ষ্য। আগামীর বাংলাদেশে গবেষণাময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয় প্রকাশ করছি আমরা। রাজনীতির অধিকারের নামে যারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করতে চায়, তাদের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে।’

জেলায় জেলায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
বর্ণাঢ্য আয়োজনে সারা দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দৃশ্যমান, লক্ষ্য এবার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ স্লোগানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বছরব্যাপী কার্যক্রম ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
এ উপলক্ষে বুধবার (৪ জানুয়ারি) জেলায় জেলায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, র্যালি, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন নেতাকর্মীরা।
লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের মিলন মেলা দেখা যায়। এদিন বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নেতারা। পরে ক্যাম্পাসের বঙ্গবন্ধু উন্মুক্ত মঞ্চে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হয়।
এরপর কলেজের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের উত্তর তেমুহনী মুজিব চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রকি ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া এতে নেতৃত্ব দেন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান।
বক্তব্যে নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, ‘ছাত্রলীগ হচ্ছে আওয়ামী লীগের সকল আন্দোলনের অন্যতম শক্তি। বিগত দিনে লক্ষ্মীপুরে ছাত্র রাজনীতির পরিশ্রমী ও ত্যাগী নেতারা আজ অনেক দিন পর একত্রিত হয়েছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাদের অনেক কিছু শেখার আছে। সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাদের এ মিলনমেলা আগামীর ছাত্র রাজনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন মাস্টার, আবদুল মতলব, জাকির হোসেন ভূঁইয়া আজাদ, হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, শাহজাহান কামাল, আহছান কবির রিপন, সৈয়দ আহম্মদ পাটওয়ারী, ফরিদা ইয়াসমিন লিকা, একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু, রাসেল মাহমুদ মান্না, এমরান হোসেন নান্নু, সৈয়দ নুরুল আজিম বাবর, শেখ জামান রিপন, রাকিব হোসেন লোটাস, মির্জা আমজাদ হোসেন আজিম ও আশরাফুল আলম।
তারা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে ছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
৪ জানুয়ারি (বুধবার) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কেক কাটেন চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন টিপু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অন্য নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ক্যাম্পাস থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন চবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

রেজাউল হক রুবেল বলেন, ‘সূচনালগ্ন থেকেই এই ছাত্র সংগঠন অন্যায়, অবিচার ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘এক সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি ছিল। স্বাধীনতাবিরোধী যে কোনো অপশক্তির উত্থান রুখে দিতে চবি ছাত্রলীগ সর্বদা প্রস্তুত।’
এদিন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগও। এ উপলক্ষে বড় পরিসরে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু বলেন, ‘আমরা আজ ছোট পরিসরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। আগামী ২৮ জানুয়ারি আমরা কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেব। এতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সবকিছুই চূড়ান্ত, শুধু অনুষ্ঠানে স্থান এখনো ঠিক করা হয়নি।’

দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় তানভীর হোসেন তপুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। আলোচনা সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে বিকাল ২টার দিকে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
এদিকে বগুড়ায় নানা আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন বুধবার সকাল থেকে জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে শহরের মুজিব মঞ্চের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৮টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরে দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু। এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু। এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাসহ বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভা শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা ও সাধারণ সম্পাদক আল মাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে শহরে আনন্দ র্যালি বের হয়। এতে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মুজিব মঞ্চে এসে শেষ হয়। পরে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন নেতাকর্মীরা।
বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিন র্যালি, কেক কাটা, আলোচনা সভা, দোয়া এবং পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ করা হবে।’

এ ছাড়াও গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, শেরপুরসহ অন্যান্য জেলায় নানা আয়োজন ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
ইউডি/এ

