বাস্তবতা বনাম ভার্চুয়াল বাস্তবতার লড়াই: ‘মেটাভার্স’ নিয়ে বিতর্ক

বাস্তবতা বনাম ভার্চুয়াল বাস্তবতার লড়াই: ‘মেটাভার্স’ নিয়ে বিতর্ক

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার , ০৬ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:২০

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির জগতে আগামীর বিশ্বকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে টেক জায়ান্ট ফেসবুক তাদের কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে নিলো মেটাতে। মেটাভার্স আধুনিক বিশ্বের ভার্চুয়াল জগতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এক সংমিশ্রণ বলা যেতে পারে। টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে মেটাভার্সের মাধ্যমে পৃথিবীতে একত্রিত করার এক নতুন প্রচেষ্টা। এই নতুন প্রযুক্তির সাথে মানুষ কিভাবে নিজেদের মানিয়ে নিবে, কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে এটি, কতটা ভয়াবহ হবার সম্ভাবনা রয়েছে তা নিয়ে আলোকপাত সাইদুল কবির’র প্রতিবেদনে।

রহস্যময় জগতের হাতছানি: মেটাভার্স হল অনলাইন, থ্রিডি, ভার্চুয়াল স্পেসের একটি ধারণা যা ব্যবহারকারীদেরকে তাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে সংযুক্ত করে। একটি একক ব্রাউজারের মাধ্যমে অ্যাক্সেসযোগ্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট থাকা ইন্টারনেটের মতো এটি একাধিক প্ল্যাটফর্মকে সংযুক্ত করবে। নিল স্টিফেনসনের বিজ্ঞান-কল্পকাহিনী উপন্যাস স্নো ক্র্যাশে ধারণাটি তৈরি হয়েছিল। তবে, মেটাভার্সের ধারণা একসময় কল্পকাহিনী হলেও, এখন মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে এটি বাস্তব হলেও হতে পারে।

মেটাভার্স জীবনের সকল দিককে এক জায়গায় একত্রিত করবে। মেটাভার্সে আপনি একটি থ্রিডি অফিসে প্রবেশ করতে এবং আপনার সহকর্মীদের অ্যাভাটারের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন।মেটাভার্সে ভিআর চশমা বা মোবাইলের নির্দিষ্ট অ্যাপস এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আপনি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা আপনার বন্ধুর সাথে সামনাসামনি বসে খেলার মতো করে দাবা খেলতে পারবেন, দূরদূরান্তের মিটিং ও কনসার্টে না গিয়েও ঠিক শরীরে হাজির হওয়ার মতোভাবে যোগ দিতে পারবেন, পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা কোন কাপড় পড়ে দেখতে পারবেন, ঘরে বসেই দূরদূরান্তের দাপ্তরিক কাজ ঐ স্থানে হাজির থাকার আদলে শেষ করতে পারবেন।

মার্ক জুকারবার্গ

মার্ক জুকারবার্গের বহুমাত্রিক মিশন: একটি সমন্বিত মেটাভার্স তৈরির জন্য প্রকাশ হওয়া উচ্চকণ্ঠের মধ্যে ফেসবুক অন্যতম। ফেসবুকের স্ট্যাবলকয়েন প্রজেক্টের কারণে এটি একটি ক্রিপ্টো-চালিত মেটাভার্সের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। মার্ক জুকারবার্গ দূরবর্তী কাজকে সমর্থন করতে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষের জন্য আর্থিক সুযোগ উন্নত করতে একটি মেটাভার্স প্রজেক্ট ব্যবহার করার জন্য তার পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ফেসবুকের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, যোগাযোগ ও ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মের মালিকানা এইসকল বিশ্বকে একত্রিত করার একটি ভালো সূচনাবিন্দু প্রদান করে। মাইক্রোসফ্ট, অ্যাপল এবং গুগলসহ বৃহৎ বৃহৎ অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলোও একটি মেটাভার্স তৈরির দিকে মনযোগ নিবন্ধ করছে। ক্রিপ্টো-চালিত মেটাভার্সের প্রসঙ্গ আসলে, এনএফটি মার্কেটপ্লেস ও থ্রিডি ভার্চুয়াল মহাবিশ্বগুলোর মধ্যে আরো অধিক একীকরণকে পরবর্তী ধাপ বলেই মনে হয়। এনএফটি হোল্ডাররা ইতোমধ্যেই ওপেন সি এবং ব্যাকেরিসোয়াপ এর মতো মার্কেটপ্লেসগুলোতে তাদের একাধিক উৎসের পণ্য বিক্রি করতে পারে, কিন্তু এর জন্য এখনও কোনো জনপ্রিয় থ্রিডি প্ল্যাটফর্ম নেই।

ফেসবুকের চেয়েও লাভজনক: অর্থনৈতিক পরামর্শকারী সংস্থা ‘অ্যানালাইসিস গ্রুপের’ এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মেটাভার্সের বিকাশের ফলে পৃথিবীর মোট জাতীয় আয় বা জিডিপি ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে। অ্যানালাইসিস গ্রুপের মতে, ২০৩১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার জিডিপির ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বা ১ দশমিক শূন্য ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাবে, যদি ২০২২ সালের মধ্যে মেটাভার্সের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা হয়। ব্যবসা থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাক্ষেত্রে মেটাভার্স হবে একটি বিশাল মাইলফলক। কেননা, সামগ্রিক উন্নতি সাধনে ভবিষ্যতে মেটাভার্স অভাবনীয় ভূমিকা রাখবে

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ০৬ জানুয়ারি ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির শঙ্কা: সাইবার অপরাধের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং পুরোনো ধাঁচের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডগুলো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। এ সংস্থার প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক মাদান ওবেরয়ের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মেটাভার্সের সম্ভাব্য অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে শঙ্কিত হয়ে উঠেছে ইন্টারপোলের সদস্য দেশগুলো। ‘কিছু অপরাধ এ মাধ্যমে নতুন করে হতে পারে; কিন্তু বিদ্যমান অপরাধ কর্মকাণ্ডগুলো এ মাধ্যমে নতুন মাত্রা পাবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading