সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলায় পুলিশের আপত্তি
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:৩০
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজনে আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর আগারগাঁও থেকে কমলাপুরে মেট্রোরেলের রুট চালু হওয়ার পর এমন আপত্তি তুলেছে তারা। এতে মেট্রোরেল ও বইমেলার পাঠক, দর্শক, প্রকাশকদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির কর্মকর্তাদের নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে যান ডিএমপি কর্মকর্তারা। এবারের বইমেলার উদ্বোধনী স্থান ও পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন শেষে আপত্তির কথা জানান তারা।
২০২৪ সালে বইমেলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় কোনো মাঠে বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামীকাল (১৯ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
কোভিড মহামারির কারণে গত দুই বছর বইমেলায় আসতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন তিনি। তার আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার নিরাপত্তার ইস্যুতে বাংলা একাডেমির সঙ্গে বৈঠকে বসেন ডিএমপির কর্মকর্তারা।
এ সময় প্রথমেই মেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় ডিএমপি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে মেলার আগে শাহবাগ থেকে বাংলা একাডেমি হয়ে মেট্রোরেল চালু হয়ে যাবে। তখন মেলা ও মেট্রোরেল দুটো একসঙ্গে চললে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) এ কে এম হাফিজ আকতার গণমাধ্যমকে বলেন, বেশকিছু আলাপের মধ্যে এবারই এখানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) বইমেলা শেষ করার কথা বলেছি আমরা। বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে ইতিবাচক। এবার মেলার গেট কমিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রবিরোধী, ধর্মীয় উসকানিমূলক বই যেন কেউ প্রকাশ করতে না পারে সেজন্য শক্তভাবে মনিটরিংয়ের কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, মেট্রোরেলের জন্য পুরাতন অনেক গেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে গেটের সংখ্যা কমাতে বলা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা বিবেচনায় অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক ও আনসার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এবং বাংলা একাডেমির প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন কে এম মুজাহিদুল ইসলাম।
পুলিশের আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেলার আঙ্গিক পরিবর্তনের বিষয়টি তাদের অবহিত করার পর মঙ্গলবার সকালে তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শনে আসেন। মেট্রোরেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই স্থাপনার জন্য এবার বইমেলার গোটা আঙ্গিক আমাদের পরিবর্তন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশে গতবারের মেলার যে ১৮২টি স্টল ছিল তাও এবার সরিয়ে আনতে হবে। সার্বিক বিষয় নিয়ে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে।’
মুজাহিদুল ইসলাম জানান, আগামী ১৯ জানুয়ারি বইমেলা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বেশকিছু নতুন সিদ্ধান্ত আসবে।
ইউডি/এ

