‘আমি তো আমিই থাকবো, সে যতদিনই বাঁচি’

‘আমি তো আমিই থাকবো, সে যতদিনই বাঁচি’

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:১৫

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন নির্বাসিত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন লেখিকা।

বাড়ি ফিরেই তিনি পোস্ট করেন, ‘লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে হাসপাতাল থেকে পঙ্গুত্ব কিনে বাড়ি ফিরলাম।’ পরে আবার রাতে পোস্ট করেন, ‘জীবন যাপনের আনন্দ অনেকটাই নষ্ট করেছে, কিন্তু আমি তো আমিই থাকবো, সে যতদিনই বাঁচি।’

কয়েক দিন ধরেই তার চিকিৎসা বিষয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে যাচ্ছিলেন তসলিমা। এসব পোস্টে চিকিৎসকদের গাফিলতির তীব্র নিন্দা করেছেন লেখিকা।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তসলিমা লিখেছেন, ‘আমাকে বাংলাদেশি মুসলিম রোগী হিসেবে দেখা হয়েছে। যার কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে অপারেশান করা হবে। সেই নিরীহ রোগী দেশে ফিরে যাবে, এবং ভেবে সুখ পাবে যে তার ট্রিটমেন্ট হয়েছে।’

তসলিমা তার সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, পড়ে গিয়ে তিনি হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছেন। কিন্তু লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে চিকিৎসকরা তার হিপ রিপ্লেসমেন্ট করেছেন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর প্রথম পোস্টে তিনি সবকিছু তুলে ধরেন।

ফেসবুকে লেখিকা জানান, তিনি বাড়িতে ওভারসাইজ পাজামা পরেছিলেন। সে সময়ই হঠাৎ পড়ে যান। ব্যথা অনুভব করায় হাসপাতালে ছুটে যান। এরপর সেখানে অপারেশন করা হয় তার।

হাসপাতালে লেখিকাকে চিকিৎসার জন্য দুটো অপশন দেয়া হয়। একটি ইন্টারনাল ফিক্সেশন, অন্যটি হিপ রিপ্লেসমেন্ট। তসলিমা প্রথমটির কথা বললেও তাকে হিপ রিপ্লেসমেন্টের কথা বলেন চিকিৎসকরা। পরে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে ফিক্সেশনের কথা হলেও এক পর্যায়ে অনেকটা বাধ্য করিয়ে লেখিকাকে রাজি করিয়ে হিপ রিপ্লেসমেন্ট করানো হয় বলে দাবি তসলিমার।

আলোচিত লেখিকার ভাষ্যমতে, যারা প্রায় একেবারেই অথর্ব, তাদের এই হিপ রিপ্লেসমেন্ট করা হয়। শরীরচর্চা করা একজন সচল মানুষ তিনি, তাকে কেন এভাবে চিরতরে পঙ্গু বানিয়ে দেয়া হলো? অভিযোগ, প্রাইভেট হাসপাতালে টার্গেট মার্কেটের শিকার হয়েছেন তিনি।

নিজের বাড়ি ফেরার পোস্টের শেষের দিকে হতাশার কথা ফুটে উঠেলেও আশার কথাও লিখেছেন তিনি।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ১৬ মিনিটে তসলিমা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘টাকার লোভে কিছু অসৎ ডাক্তার আমি যে রোগের রোগী নই, সেই রোগের রোগী বানিয়ে আমার সর্বনাশ করেছে, আমার আয়ু অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে, জীবনকে দুর্বিষহ করেছে, জীবন যাপনের আনন্দ অনেকটাই নষ্ট করেছে, কিন্তু আমি তো আমিই থাকবো, সে যতদিনই বাঁচি। দীর্ঘজীবন না পাবো, না পেলাম। কিন্তু অল্প কদিনই মাথা উঁচু করেই বাঁচবো। নিজের আদর্শ নিয়েই বাঁচবো। কোনও আদর্শ বিসর্জন দেব না, মৃত্যু এলে আসুক।’

তসলিমার দাবি, চিকিৎসা বিভ্রাটের ফাঁদেই পা দিয়ে পস্তাচ্ছেন তিনি। তার মতে, নিজে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তসলিমা বুঝেও কিছুই করে উঠতে পারেননি।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading