ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী : আমলাদের হতে হবে জনগনের সেবক
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৪:১০
অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়েছে সারাবিশ্বে। যার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। চলমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এরই রূপরেখায় জেলা প্রশাসকদের কৃচ্ছ্রতা সাধনের সঙ্গে ২৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সরকারি আমলাদের জনগনের সেবক হওয়ারও তাগিদ দেন। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৩ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারপ্রধানের নির্দেশনার চুম্বক অংশ নিয়ে আসাদ এফ রহমান’র প্রতিবেদন
অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ: জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের জনগনের সেবক হতে হবে। আমরাও যে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাই বা আপনারা সরকারি আমলা হিসেবে যে সুযোগ-সুবিধা পান এগুলোর অবদান কিন্তু জনগনের। কারণ, জনগণের অর্থ এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকাতেই সবকিছু চলে। এর জন্য আমরা একেবারে তৃণমূল থেকে জনগণকে শক্তিশালী করে আনতে চাই। ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেকটি গ্রামের মানুষকে আমরা শহরের সুবিধা দিয়ে দিতে চাই। এতে শহরমুখি প্রবণতা কমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে অর্থনৈতিক প্রাণ চাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাবে।

খাদ্য এবং চিকিৎসা সেবা খাতে অগ্রাধিকার: সরকারপ্রধান বলেন, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে আমাদের কৃষি উৎপাদন যাতে বাড়ে সেজন্য যা খরচ লাগে আমরা করবো। অন্য দেশ যা করেনি আমরা বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছি।
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর তাগিদ: প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় সারাবিশ্ব এখন হিমসিম খাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশও অর্থনৈতিক মন্দার দেশ হিসেবে নিজেদের ঘোষণা দিয়েছে। কাজেই আমাদের যেন সেটা করতে না হয় সেজন্যই আমরা কৃচ্ছ্রতা সাধনের ঘোষণা দিয়েছি, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ফেলেছি এবং এই ব্যাপারেও আপনারা সচেতন থাকবেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির নির্দেশ: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন কোনোভাবেই অবনতি না হয় সে লক্ষ্যে নজরদারি জোরদার করতে হবে। মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন স¤প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতে জঙ্গিবাদে জড়িত না হয় সে জন্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’র ব্রান্ডিংয়ের আহ্বান: শেখ হাসিনা আরও বলেন, প্রতিটি জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যের প্রচার, বিপণন এবং ব্রান্ডিং করতে হবে। এ ছাড়া জেলার সব সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ তথা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে উদ্যোগী হওয়ার জন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর : ডিসিদের উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধান আরও বলেন, গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভ‚মিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
ইউডি/এজেএস

