বিজয় কিবোর্ড ব্যবহারের নির্দেশনা ‘বিভ্রান্তিকর’: মোস্তাফা জব্বার
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৪:৩০
মোবাইল ফোনে বিজয় কিবোর্ড ব্যবহার সংক্রান্ত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশনার মধ্যে ‘বাধ্যতামূলক’ শব্দটিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে মনে করছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বুধবার (২৫ জানুয়ারি) মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘মোবাইল হ্যান্ডসেটে ব্যবহারকারীর জন্য বিজয় কিবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ব্যবহারকারী চাইলে যে কোনো কিবোর্ড ব্যবহার করতে পারেন। এখানে হ্যান্ডসেট আমদানিকার বা প্রস্তুতকারককে বাংলা লেখার জন্য একটি কিবোর্ড ইনস্টল করে দিতে বলা হয়েছে। সেটা শুধু বিজয় নয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮৮ সাল থেকে বিজয় ব্যবহার হচ্ছে। বলা হচ্ছে বিজয় তথ্য চুরি করে। এর প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।’
এর আগে বিটিআরসি থেকে এক নির্দেশনায় মোবাইল আমদানিকরক ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের হ্যান্ডসেট বাজারে ছাড়ার আগে বিজয় কিবোর্ডের অ্যান্ড্রয়েড কিট বা এপিকে ইনস্টল রাখার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়। এই কিট বিটিআরসির কাছে থেকে সংগ্রহ করার কথাও বলা হয়। সেখানে শুধু বিজয় কিবোর্ডের কথা উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয়।
মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আনন্দ কম্পিউটার্সের একটি পণ্য বিজয় কিবোর্ড। আর বিটিআরসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনের একটি সংস্থা। মন্ত্রী তার ক্ষমতাবলে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া মোবাইলে কল ড্রপের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘যে পরিমাণ অবকাঠামো দরকার, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে সে পরিমাণ অবকাঠামো নেই। আমরা বিনিয়োগকারীদের অবকাঠামো বৃদ্ধি করার কথা বারবার বলে আসছি।’
টেলিটকের সেবা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের একটি ব্যবসার জন্য অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়, কিন্তু সেখানে টেলিটকের বিনিয়োগ মাত্র চার হাজার কোটি টাকা। টাকা পাওয়া গেলে সেবা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’
ফাইভ জি সম্প্রসারণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি যখন একনেকে উত্থাপন করা হয়, তখন বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কথা বলে আপাতত ফাইভ জি সম্প্রসারণ বন্ধ রাখতে বলা হয়।’
তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ফাইভ-জি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ইউডি/এ

