সামরিক শাসনামলে মিয়ানমারে বেড়েছে আফিম চাষ

সামরিক শাসনামলে মিয়ানমারে বেড়েছে আফিম চাষ

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৪:৩০

অং সান সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশটির সামরিক শাসনের অধীনে আফিম চাষ বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। এর আগে গত ছয় বছর আফিম চাষে দেশটিতে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। ২০২২ সালে আফিমের সম্ভাব্য ফলন বেড়েছে ৮৮ শতাংশ।

২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর আফিমের পূর্ণ মৌসুমের উপাত্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) জাতিসংঘের মাদকদ্রব্য ও অপরাধ সংক্রান্ত অফিস (ইউএনওডিসি) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর ৪০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আফিম চাষ হয়। এর সম্ভাব্য ফলন ৭৯০ মেট্রিক টন। আফিম উচ্চ আসক্তিযুক্ত মাদক, যা থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে হেরোইন তৈরি হয়।

ইউনওডিসির রিজিওনাল রিপ্রেজেন্টেটিভ জেরেমি ডগলাস বলেছেন, ‘সামরিক বাহিনী মিয়ানমারে ক্ষমতা নেওয়ার পর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও শাসন ব্যাহত হওয়ার কারণে আফিম চাষ বেড়েছে।

‘উত্তরাঞ্চলীয় শানের সংঘাতপ্রবণ এলাকাসহ সীমান্তের অন্যান্য রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের আফিম চাষে ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।’

এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স মন্তব্য নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের জান্তা সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু সেই মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি।

ইউএনওডিসি মিয়ানমারের কান্ট্রি ম্যানেজার বেনেডিক্ট হফম্যান মিয়ানমারে আফিম চাষ আরও সম্প্রসারণ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

কেননা ২০২১ সালে সামরিক জান্তা ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে দেশটির অর্থনীতি ভেঙে পড়তে শুরু করে। ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় খাদ্য ও জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে বার্ষিক উৎপাদিত আফিমের মূল্য ২০০ কোটি ডলারে (২ বিলিয়ন) পৌঁছাতে পারে। দেশটির বেশিরভাগ মাদক পাচার হয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে।

থাইল্যান্ড, লাওস ও মিয়ানমার যেখানে মিলিত হয়েছে- এই জঙ্গল অঞ্চল গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এটি মাদক কারবারের জন্য লাভজনক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading