সারার চোখে দেখছেন তারা

সারার চোখে দেখছেন তারা

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:১৫

সারা ইসলামের দান করা কর্নিয়া নিয়ে দুই রোগী ভালো আছেন। সারার দুটি কর্নিয়া বসানো রোগী ফেরদৌস আখতার (৫৬) ও মোহাম্মদ সুজনের (২৩) চোখ রোববার (২৯ জানুয়ারি) সকালে পরীক্ষা করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

এ সময় তিনি বলেন, ‘গত ১৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সারা ইসলামের দুটি কিডনি অন্য দুজন রোগীর শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে তার দুটি কর্নিয়া দুজনের চোখে বসানো হয়। তার অঙ্গদানের মাধ্যমে চারজন মানুষ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। এটি দেশের চিকিৎসাসেবায় মাইলফলক।’

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৬ সালে অজানা ভাইরাসে ডান চোখে সমস্যা দেখা দেয় ফেরদৌসী আখতারের। কিছুই দেখতে পেতেন না। স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ক্লিনিকে চোখ দেখালেও সমাধান মেলেনি। পরে সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শীষ রহমানের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। সাত বছর আগে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন এ চিকিৎসক। তবে কর্নিয়া সংকটে এটি এতদিন করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, সারার কর্নিয়া দানের সম্মতি পেয়েই চিকিৎসক শীষ রহমান ফেরদৌসীকে ফোন করে ঢাকায় আসতে বলেন। এরপর তার ডান চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়। ডান চোখে এখন স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাচ্ছেন।

এদিকে, মোহাম্মদ সুজনের চোখের অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন বিএসএমএমইউর চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজশ্রী দাশ। মোহাম্মদ সুজনও এখন ভাল আছেন।

বিএসএমএমইউ’র আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২০ বছরের তরুণী সারা ইসলাম। তিনি তার মৃত্যুর আগেই অঙ্গদান করে যান। গত ১৯ জানুয়ারি প্রথম প্রহরে সারা ইসলাম ব্রেন ডেথ হওয়ার পরপরই বিএসএমএমইউর ক্যাডাভেরিক সেলের আহ্বায়ক ও রেনাল ট্রান্সপ্লান্টেশনের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলালের নেতৃত্বে তার দুটি কিডনি বের করেন আনেন।

এরপর একটি কিডনি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল শামীমা আক্তার নামের এক রোগীর শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন। সারা ইসলামের আরেক কিডনিটি বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. খুরশিদুল আলমের নেতৃত্বে হাসিনা আক্তার নামে আরেক রোগীর শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। তারাও ভাল আছেন।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading