আলিঙ্গন দিবস: যেভাবে জড়িয়ে ধরবেন প্রিয়জনকে
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৫:১৫
আলিঙ্গনে (হাগ) সত্যিই যাদু আছে। প্রিয়জনের আলিঙ্গনে সব ক্লান্তি, মন খারাপ মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে যায়। কোনো কথা না বলেই বোঝানো যায় অনুভূতি। তবে নতুন নতুন প্রেমে পড়লে প্রিয় মানুষটিকে জড়িয়ে ধরতে বা হাগ করতে দ্বিধা কাজ করতে পারে।
কোথায় যেন একটা জড়তা থাকে। এই দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে হবে। সঙ্গে জেনে নিতে হবে আলিঙ্গন করার সঠিক পদ্ধতি।
একদল ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানীর মতে, ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের আলিঙ্গনই আদর্শ।
আজ হাগ ডে বা আলিঙ্গন দিবস। দিনটি আমেরিকান সমাজে হঠাৎ করে আসেনি। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসের দিকের ঘটনা এটি। সেই সময়ে কেভিন জোবর্ন মিশিগানের একজন বিখ্যাত মনোবিদ। সেই সময় তিনি লক্ষ করেন, আমেরিকান সমাজের বাসিন্দারা প্রাণখুলে প্রকাশ্যে নিজেদের অনুভূতি জাহির করতে পারেন না।

তাই তিনি সেই সময় অনুধাবন করতে পারলেন যে, ভালোবাসা এখানে অনেকটাই যান্ত্রিক। যান্ত্রিক ভালোবাসা, ভালোলাগার সম্পর্কে ঢালতে হবে প্রাণের সুধারস। আর সেই কাজ একমাত্র করতে পারে একটা ‘হাগ’ বা আলিঙ্গন।
যত বেশি নিবিড় আলিঙ্গনে বাঁধা যাবে উল্টোদিকের মানুষটাকে, ততই প্রাণের জোয়ারে আবার কলকলিয়ে উঠবে সামাজিক জটিলতায় বদ্ধ জীবের বন্দিপ্রাণ। এই ভাবনাচিন্তা থেকেই কেভিন জোবর্নের মাথায় আসে ‘হাগ ডে’ বা আলিঙ্গন দিবসের পরিকল্পনা।
সেই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবে কার্যকরী হবে, তা নিয়ে তিনি যদিও খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না। ভেবেছিলেন, ‘হাগ ডে’ মানুষের মধ্যে সেভাবে হয়তো কোনো উচ্ছ্বাসের জন্ম দেবে না।
কিন্তু বাস্তবে কেভিনের সেই সংশয়কে ‘ভ্রান্ত’ প্রমাণ করেন খোদ আমেরিকানরাই। কালক্রমে ‘আলিঙ্গন দিবস’ তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আমেরিকাবাসীর মধ্যে। ২১ জানুয়ারি দিনটিকে ‘ন্যাশনাল হাগ ডে’ হিসেবে পালন করা শুরু করেন আমেরিকার মানুষ।

পাশ্চাত্যের আঙিনা ছেড়ে সেই ‘হাগ ডে’ উদ্যাপনের জোয়ার একসময় স্পর্শ করে প্রাচ্যের প্রেম-সংস্কৃতিকেও। তবে জানুয়ারির ২১ তারিখ নয়, প্রেম-সপ্তাহের মাঝখানের একটা দিনকে নিজেদের মতো করে আলিঙ্গনের দিন হিসেবে বেছে নেন প্রাচ্যের প্রেমিক-প্রেমিকারা। ভ্যালেনটাইন সপ্তাহের ১৩ ফেব্রুয়ারির দিনটিকে ‘হাগ ডে’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় প্রেমের বর্ষপঞ্জিতে।
গোল্ডস্মিথ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, ছোট আলিঙ্গনের তুলনায় (মাত্র এক সেকেন্ড স্থায়ী) তুলনামূলক দীর্ঘ আলিঙ্গন তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। চাপ কমে যায়। মন ভরে ওঠে ভালোবাসায়। বিষয়টি নিয়ে একটি জরিপও চালান তারা। এতে উঠে আসে আশ্চর্যজনক তথ্য।
আলিঙ্গনে উপকার কী
জরিপে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন নারী-পুরুষের চোখ প্রথমে বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর একে অন্যকে আলিঙ্গন করেন তারা। এক সেকেন্ড, পাঁচ সেকেন্ড এবং ১০ সেকেন্ডের আলিঙ্গন। দীর্ঘ সময়ের আলিঙ্গনকেই সবচেয়ে বেশি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।
কোভিড মহামারির সময় আলিঙ্গন তো দূর, কাছাকাছি আসাই নিষেধ ছিল। সবাইকেই মেনে চলতে হচ্ছিল সামাজিক দূরত্ব। এই পরিস্থিতিতে এমন জরিপ যেন হাতে চাঁদ এনে দেয়।

আর আলিঙ্গনের পরের অভিজ্ঞতা তো দুর্দান্ত। অংশগ্রহণকারীদের মতে, ক্রিস-ক্রস আলিঙ্গন সবচেয়ে আরামদায়ক। গবেষকরাও বলছেন, দীর্ঘ আলিঙ্গন খুব ছোট আলিঙ্গনের চেয়ে বেশি আনন্দদায়ক। তাছাড়া আলিঙ্গনের সময় সঙ্গী কী ভাববেন তা না চিন্তা করে সঙ্গী যে ধরনের আলিঙ্গনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সে সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে। প্রথমবারেই খুব শক্ত বা হালকাভাবে হাগ করা উচিত নয়। বরং এমনভাবে হাগ করতে হবে যাতে অন্যজন আপনার অনুভূতিগুলো বুঝতে পারেন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আলিঙ্গনের সময় তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। সঙ্গীর চোখে চোখ রেখে মিষ্টি হাসি দিয়ে জড়িয়ে ধরতে হবে। দীর্ঘ আলিঙ্গন আরামদায়ক ঠিক কথা। কিন্তু তাই বলে খুব বেশি সময়ও নয়। আবার হঠাৎ করে আলাদা হয়ে যাওয়াও ঠিক হবে না। ধীরে ধীরে রোমান্টিক ভাব নিয়েই আলিঙ্গন শেষ করতে হবে।
ইউডি/এ

