ইবিকাণ্ড: বেরিয়ে আসছে আরও নাম

ইবিকাণ্ড: বেরিয়ে আসছে আরও নাম

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ২০:০০

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা’ হলে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা মিলেছে। শুধু তা-ই নয়, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে আসছে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আরও বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের নামও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলছেন, ভুক্তভোগী তার সাক্ষাৎকারে যা বলেছে এবং অভিযোগপত্রে যা লেখা আছে, তা সত্য। কিন্তু ভয়ে এত দিন তারা কেউ মুখ খুলতে সাহস করেননি । এ সময় তারা ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার প্রধান সহযোগী তাবাসসুম ছাড়াও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রশাসন বরাবর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ করেন এক শিক্ষার্থী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন ওই ছাত্রী। এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঝোলানো, ময়লা গ্লাস চেটে পরিষ্কার করানোসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হয় তাকে। ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদার নেতৃত্বে তাবাসসুমসহ ৭ থেকে ৮ জন এই নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার মূল অভিযুক্ত সানজিদা ও তাবাসসুমকে শনাক্ত করতে পারলেও বাকি অভিযুক্তদের চিনতে না পারায় তাদের ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি ভুক্তভোগী। আর ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।

তবে নাম গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি গণরুমে যেসব নির্যাতনের বর্ণনা ভুক্তভোগী দিয়েছেন, সেসব সত্য। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সানজিদা ও তাবাসুসম ছাড়াও সেখানে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মীম, চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হালিমা খাতুন ঊর্মি ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাওয়াবিয়া নির্যাতনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তারা ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার রাতে সানজিদার নেতৃত্বে দুইজন এসে ভুক্তভোগীকে গণরুমে নিয়ে যান। তবে বাকি দুইজনকে চিনতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্শী।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading