চীনে বিক্ষোভ থেকে গ্রেফতার অনেকে এখনও ‘নিখোঁজ’

চীনে বিক্ষোভ থেকে গ্রেফতার অনেকে এখনও ‘নিখোঁজ’

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৮:৪৫

চীনের জিরো-কোভিড নীতির বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের লিয়াংমা নদীর তীরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় গত ২৭ নভেম্বর। ওই দিন সাদা কাগজ হাতে হাজার হাজার মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। যেখানে প্রতীকায়িত হয় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হতাশা।

বিবিসি এক প্রতিবেদন জানায়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর সংঘটিত ওই নজিরবিহীন বিক্ষোভের স্মৃতি ফের আলোচনায় এসেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই এখনও নিখোঁজ। এ ছাড়া উঠে এসেছে জামিনে বের হওয়া ও বন্দি ব্যক্তিদের বক্তব্য।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, নভেম্বরে গ্রেফতারকৃতদের সংখ্যা শতাধিক। তাদের মুক্তি দিতে আহ্বান জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপও বন্দিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় বেইজিংয়ের পাশাপাশি সাংহাই, গুয়াংজু ও নানচিং শহরের বিক্ষোভকারীদের নাম উল্লেখ রয়েছে।

তবে চীনা কর্তৃপক্ষ কারাবন্দিদের ব্যাপারে কোনো জবাব দেয়নি। এর মধ্যে মাত্র বারো জনের নাম জানতে পেরেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। আরো বলা হয়, বিশৃঙ্খলা ছড়ানো ও বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

নভেম্বরে বিক্ষোভকারীদের শনাক্তকরণে সিসি ক্যামেরা ও ফেস রিকগনিশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ট্র্যাক থেকে খুঁজে বের করা হয় সংশ্লিষ্ট অন্যদের। একজনের টেলিগ্রাম গ্রুপের সূত্র ধরে আরেকজনকে ধরা হয়েছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি জুড়েও চলেছে তল্লাশি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বন্দিদের ব্যাপারে উদ্বেগ জানালেও কর্তৃপক্ষ সব সময়ই ছিল নীরব। মাত্র পাঁচ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত। কেউ কেউ আমেরিকা ও ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। রয়েছেন লেখক, সাংবাদিক, সংগীতশিল্পী, শিক্ষক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

এ পরিস্থিতির মধ্যে এক বন্দীর পাঠানো বার্তা ভাইরাল হয়েছে। বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘‌প্রশ্নকর্তারা আমাদের বোঝাতে চায়, যাদের সঙ্গে আমরা বিক্ষোভ করেছি, তারা প্রতারণা করেছে। কিন্তু এখনো বিশ্বাস করি, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি।’

সাম্প্রতিক আন্দোলনের নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। চীনা সরকারও কয়েকটি ক্ষেত্রে নারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

২০১৫ সালে চীনে ‘ফাইভ ফেমিনিস্ট’ নামে পরিচিত নারীবাদীদের উত্থান ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় নারীবাদকে টিউমারের সঙ্গে তুলনা করে কমিউনিস্ট পার্টি।

তবে নভেম্বরের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা কেউ রাজনৈতিক কর্মী বা অ্যাকটিভিস্ট নন। বিক্ষোভে অংশ নেয় সাধারণ মানুষ, যারা নারী ও মানবাধিকার নিয়ে সচেতন। আদর্শিকভাবে নারীবাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading