নওয়াজের বিরুদ্ধে এবার স্ত্রীর ধর্ষণ মামলা

নওয়াজের বিরুদ্ধে এবার স্ত্রীর ধর্ষণ মামলা

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৬:৩০

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ, প্রতারণা-বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পর বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী আলিয়া।

ওই মামলার পর টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই আইনি পদক্ষেপের কারণ ব্যাখা করেছেন। তার দাবি, নওয়াজউদ্দীনের নানা রূপ। তাতে বাইরে থেকে মানুষ যা ভাবেন, তিনি ঠিক তেমন নন।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও জানা গেল, নওয়াজউদ্দীন আলিয়ার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদের জন্য কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে আদালতে জমাও দিয়েছেন।

বছর তিনেক ধরে বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দীনের সঙ্গে তার স্ত্রী আলিয়ার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। ২০২০ সালে বিয়ে বিচ্ছেদ চেয়েও পরে ওই আবেদন ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। এবারে হাঁটলেন আইনি পথে।

প্র: নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আপনি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন কবে?

উ: গত রাতে (বৃহস্পতিবার)।

প্র: নওয়াজের সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে কেন ‘ধর্ষণ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন?

উ: কারণ তিনি বলেছেন যে ‘লিভ ইন’ সম্পর্কে ছিলাম না। কিন্তু সেটা সত্যি নয়। আমরা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ছিলাম।

প্র: কিন্তু আপনাদের দুজনের মধ্যে কি বেশ কিছু সমস্যা ছিল?

উ: হ্যাঁ, তা ছিল। কিন্তু আমরা বিয়ের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নিজেদের আরেকবার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নওয়াজ উপলব্ধি করেছিলেন, আমাদের সন্তানদের স্বার্থে একসঙ্গে থাকা উচিৎ।

প্র: আপনি কি কখনও বিয়ে বিচ্ছেদের কাগজপত্রে সই করেছেন?

উ: যদিও তিনি আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের কিছু কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।

প্র: আপনি যদি বিচ্ছেদের কাগজে সই না করে তাহলে তিনি (নওয়াজউদ্দীন) কিভাবে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজপত্র জমা দিতে পারেন?

উ: আদালত এই স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

প্র: অতীতে কখনও কি আপনি বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেছেন?

উ: না। আমি তাকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছি। তার মা আমাদের ছেলেকে ‘অবৈধ সন্তান’ বলায় আমি বিষয়টি নিয়ে বিচলিত।

প্র: সমঝোতার পর কী ঘটেছিল?

উ: আমি মানুষটাকে (নওয়াজউদ্দিন) কখনও বুঝতে পারিনি। বাইরে থেকে তাকে যেমন দেখা যায়, মানুষটি ঠিক তেমন নন।

প্র: তার সঙ্গে শেষ কবে দেখা হয়েছে?

উ: যখন তার সঙ্গে আমাদের মেয়ের দুবাইয়ে থাকার বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম।

প্র: তারপর?

উ: তিনি আমার সঙ্গে খুব বাজে ভাবে কথা বলেছেন। তিনি আমাকে খিস্তি করেছিলেন।

প্র: বাচ্চারা কি আপনার সঙ্গে থাকতে চায়?

উ: অবশ্যই।

প্র: আপনি কি চান আপনার সন্তানরা আপনার সঙ্গে থাকুক?

উ: অবশ্যই। বাচ্চারাও জানে না, বাবা বিষয়টি আসলে কি। তারা নওয়াজের স্পর্শ জানে না। যখন বাচ্চারা দুবাইয়ে নওয়াজের সঙ্গে থাকত, আমি ফোন করে শুনতাম সে ছেলেকে সময় দিচ্ছে না। আদর-যত্নও করছে না। এমনকি আমরা যখন একসঙ্গে ছিলাম, তখনও তিনি সন্তাদের প্রতি কমই মনোযোগ দিতেন । বলা যায় মাঝেমধ্যে নিজে ‘উপহার’ হয়ে বাড়িতে আসতেন।

প্র: আপনার ছেলেমেয়েরা কি আপনাদের দুজনেই ঝগড়া থামাতে বলত?

উ: আমার মেয়ের বয়স ১২ বছর, সে তার দুই বছর থেকে এসব দেখছে। আর আমার ছেলে এখনও খুবই ছোট। তবে নওয়াজ মেয়েকে অভিনেতী হতে প্রায় বাধ্য করছেন, তাকে হলিউডের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

প্র: এখন আপনি কী করবেন বা কোথায় যাবেন?

উ: দেখা যাক। আমি চাই আমার সন্তানেরা আমার সঙ্গে থাকুক। কারণ সন্তানদের প্রতি প্রথম অগ্রাধিকার আমার।

নীরবতা ভাঙলেন নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকী

২০২১ সালে আলিয়া তার মেয়ে শোরা ও ছেলে ইয়ানিকে নিয়ে দুবাই চলে যান। আলিয়া ইন্ডিয়াতে ফেরেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে, শিগগিরই ফেরার কথা রয়েছে তার দুই ছেলেমেয়েও।

আলিয়ার ইন্ডিয়া ফেরার পর থেকেই তাদের দাম্পত্য বিবাদ তুঙ্গে ওঠে বলে খবর আসে। বিয়ে নিয়ে আইনি জটিলতার ছাড়াও এই অভিনেতার আন্ধেরির বাড়িটি নিয়েও লড়াই শুরু হয় তাদের মধ্যে।

কয়েকদিন আগে নওয়াজউদ্দীনের আইনজীবী দাবি করেন যে, আলিয়া তার প্রথম স্বামী বিনয় ভার্গবের সঙ্গে এখনও বিবাহিত।

কিছুদিন আগে নওয়াজের মা আলিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। তারই ভিত্তিতে থানায় ভার্সোবা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় আলিয়াকে। বিপরীতে আলিয়াও নওয়াজ এবং তার ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

সেসবের মধ্যেও তাকে খেতে না দেওয়া, ঘরে বন্দি করে রাখার মতো অভিযোগও আনেন আলিয়া। নওয়াজের মা তাদের দ্বিতীয় সন্তানকে ‘অবৈধ’ বলেছিলেন বলেও তার দাবি। সেজন্য ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থও হন তিনি।

এরপর দুবাইয়ে নওয়াজের গৃহকর্মীও একই সুরে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেছিলেন, দুবাইয়ে খাবার এবং টাকা-পয়সা ছাড়া তাকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে আবার বক্তব্য উল্টে ওই গৃহকর্মী বলেন, কারও চাপে পড়ে অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

এতসব অভিযোগ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে শোরগোল পড়লেও চুপ করে থাকা নওয়াজ অবশেষে মুখ খোলেন। তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় সন্তানদেরই বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading