মমতার বিরুদ্ধে মন্তব্যের জের, কংগ্রেস মুখপাত্র গ্রেপ্তার
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০৪ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১৫:১৫
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার দায়ে পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র ও আইনজীবী কৌস্তব বাগচীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (০৪ মার্চ) ভোর ৩টা থেকে টানা পাঁচ ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়। এর পর সকালের দিকে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কলকাতা পুলিশের অধীন বটতলা থানার কর্মকর্তারা বাগচীকে গ্রেপ্তার করেন। এসময় তাদেরর সঙ্গে তুমুল কথা কাটাকাটি হয় তার। ইতোমধ্যে কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা করেছে পুলিশ।
গত ২ মার্চ সাগরদিঘি উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে আক্রমণ শানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের জয়ের পরই অধীরের পরিবার নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন তিনি।
মমতাকে বলতে শোনা যায়, তিনি (অধীর) এত বড় বড় কথা বলছেন, কিন্তু আমি যদি তার মেয়ের আত্মহত্যা নিয়ে জিজ্ঞাসা করি, তাহলে কী কিছু বলতে পারবেন? তার গাড়ির চালকের হত্যা ও আত্মহত্যা নিয়ে আমি যদি বলি এটা জোড়া খুন, কিছু বলতে পারবেন?
এই বক্তব্যকে ধিক্কার জানিয়ে শুক্রবার (০৩ মার্চ) কলকাতায় রাজ্য কংগ্রেস দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে মমতাকে তীব্র নিশানা করেন বাগচী। মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা রাজ্যটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক ও আইএএস কর্মকর্তা দীপক ঘোষের একটি বইকে হাতিয়ার করে তিনি বলেন, ‘একটি নির্বাচনে হেরে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাই এই মন্তব্য করছে। আমাদের দল ওই বইটির সফট কপি ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
বাগচী বলেন, ‘দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার দিয়েছি। কেউ চাইলেই তাকে এতে সফট কপি দিয়ে দেওয়া হবে। হুমকি ফোন আসছে। যদি কিছু হয়ে থাকে সেজন্য মমতা দায়ী থাকবেন।’
সেই ঘটনার পর এদিন ভোরে বাগচীর ব্যারাকপুর ব্যাংক পার্কের বাড়িতে আসে পুলিশ। পরে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে নিশ্চিত করেন বাগচী। তিনি লেখেন, ‘অবশেষে গ্রেপ্তার হলাম।’
পরে গণমাধ্যমের সামনে বলেন, ‘মমতার কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আমি একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। সেখানে রাজ্যের সব মানুষকে আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারা যেন মমতাকে নিয়ে লেখা সাবেক আই অফিসার দীপকের বইটি পড়েন।’
বাগচী বলেন, ‘কিন্তু রাজ্য সরকারের অভিমত এতে নাকি শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও কি অফেন্স তৈরি হয় তা ব্যক্তিগতভাবে আমার জানা নেই। মুখ্যমন্ত্রী এতটা ভয় পাবেন তা আমি ভাবিনি।’
বাগচীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০ বি, ৩৫৪ এ, ৫০৪, ৫০৫, ৫০৬, ৫০৯, ১৪৩ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত তার বাড়ির সদস্যরা।
বাগচীর মা বলেন, ‘আমি সত্যিই গর্বিত এরকম একজন ছেলেকে জন্ম দিয়েছে বলে। এরপর বন্দে মাতরাম স্লোগান দিতে থাকেন তিনি।
ছেলে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলেই দাবি বাবা কুশল বাগচীর।
বাগচীর বাড়িতে পুলিশি উপস্থিতির পরেই কংগ্রেসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে যান। তাকে যখন পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়, তখনও মমতার বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন তারা।
ইউডি/এ

