রোজায় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় করণীয়
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১৯:০০
পবিত্র রমজান মাসে আমরা আমাদের খাবারের সাধারণ রুটিন থেকে বেড়িয়ে আসি। পাশাপাশি এই খাদ্যাভাসের সঙ্গে অনেকেরই খাপ খাওয়াতে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়। দেখা দেয় হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপা,পেট জ্বালাপোড়া করা,ঢেঁকুর ওঠা, পেট ব্যথা ও পেটে অস্বস্তি অনুভুত হওয়া ইত্যাদি। আর এই পরিস্থিতির তৈরী হয় রোজায় ইফতার থেকে সেহেরী পর্যন্ত কি খাওয়া দাওয়া হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে। রোজা থাকাকালীন এইসব জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে অপুষ্টিকর খাবার কিংবা অতিরিক্ত খাওয়া গ্যাস্ট্রিকে ভোগার অন্যতম কারন। তাই ইফতার বা সেহেরীতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণে হজম প্রক্রিয়া চলাকালে পাকস্থলীর ওপরে চাপ পড়ে। ফলে বুক জ্বালাপোড়া সহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়।
তৈলাক্ত, অতিরিক্ত ভাজা ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। যেমনঃ পেঁয়াজু, কাটলেট, আলুর চপ, ডিম চপ, বেগুনি, চিকেন ফ্রাই, জিলাপি ইত্যাদি তেলেভাজা যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
সহজ, সুপাচ্য, পুষ্টিকর,স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তুলতে হবে। শস্য জাতীয় খাবার যেমন-ছোলা, মটর, বাদাম, বিচি, ডাল খাদ্যতালিকায় যোগ করতে হবে। তরকারিতে মিষ্টিকুমড়া, করলা, শসা, পটল, ধুন্দল, ঝিঙে,লাউ ইত্যাদি রাখতে হবে।
টক জাতীয় ফলে ভিটামিন ‘সি’ এর পাশাপাশি সাইট্রিক এসিডও থাকে। টকফল বেশি খেলে এসিডিটির সমস্যা ও হতে পারে। তাই তরমুজ, বাঙ্গি, কলা, বেল, আনারস, আপেল ইত্যাদি ফল রাখতে হবে।
ঝাল খাবারও পাকস্থলীতে অস্বাভাবিক অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করতে করে।তাই কাঁচামরিচ কিংবা অতিরিক্ত ঝাল খাবার পরিহার করতে হবে। ইফতারের পর থেকে সেহেরী পর্যন্ত খাবারের স্বাভাবিকতা বজায় রাখুন। পরিমিত পানি পান করতে হবে। যেহেতু বেশ গরম পড়েছে তাই অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি এই সময়টুকুতে পান করা উচিত।
চা, কফি, কোমল পানীয় জাতীয় ইত্যাদি খাবারও বাদ দিতে হবে। রোজা রাখা অবস্থায় কোনো রকম ব্যায়াম না করাই ভালো। তবে এসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে ইফতার ও সেহেরীর পর কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করতে হবে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ রয়েছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেগুলো গ্রহণ করতে হবে।
ইউডি/এ

